ক্লুলেস শাহাদাত হত্যার রহস্য উদঘাটন,গ্রেফতার ৩

26

মো.দীন ইসলাম,ঢাকা

চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত ক্লুলেস শাহাদাত হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনপূর্বক হত্যার মূলহোতা ও পরিকল্পনাকারী জাহিদসহ ৩ জন’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকার ধামরাই থানা আমরাইল এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এদিন বুধবার দুপুরে কাওরান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন,গেল বছরের ১আগস্ট ঢাকার ধামরাই এ আমরাইল গ্রামের শাহাদাত নামক যুবক কালিয়াকৈরে তার কর্মস্থলে যায় সেখানে গত ৪ আগস্ট হতে বাড়ীর সাথে সে কোন যোগাযোগ করেনি। গত ৬ আগস্ট হতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় গত ৮ আগস্ট কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে তার পরিবার। অতঃপর গত ১২ আগস্ট ধামরাই এর আমরাইল গ্রামের একটি কাঠ বাগান থেকে নিখোঁজ শাহাদাত এর অর্ধগলিত ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

ওই ঘটনায় ঢাকার ধামরাই থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ময়না তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর ভিকটিম শাহাদাত এর মা বাদী হয়ে ধামরাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ধামরাই থানা পুলিশ গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্দেহে শাহাদাত এর বন্ধু জাহিদকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে জাহিদ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান না করায় রিমান্ড শেষে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

র‌্যাব ওই ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর সিপিসি -২ কোম্পানি কমান্ডার
লে. কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান এর নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল আশুলিয়া থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা
মো. জাহিদুল ইসলাম ওরফে জাহিদ (২২),আবু তাহের (২৪),সবুজ হোসেন (২৮)কে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা বর্ণিত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তি প্রদান করে বলে জানায় মঈন।

মঈন জানায়,ভিকটিম শাহাদাত ধামরাইয়ের যাদবপুর ইউনিয়নের আমরাইল গ্রামের কোহিনুর ইসলামের ছেলে। ভিকটিম কালিয়াকৈর উপজেলার বারইপাড়ায় একটি প্রতিষ্ঠিত কারখানার কর্মচারী ছিলেন। গত ১৪ আগস্ট গ্রেফতারকৃত জাহিদ এর প্রেমিকার সাথে শাহাদাত এর বিবাহের দিন ধার্য ছিলো। নিজের প্রেমিকার অন্যত্র বিবাহ জাহিদ মেনে নিতে না পারার জের ধরে জাহিদ তার গ্রেফতারকৃত অন্যান্য সহযোগীদের সাথে পরিকল্পনা করে শাহাদাতকে হত্যার নকশা আঁকে।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়,ভিকটিম ও গ্রেফতারকৃত আসামীরা সকলেই ধামরাই থানার মাদবপুর ইউনিয়নের আমরাইল গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং তাদের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। এ সর্ম্পকের কারণে তাদের মধ্যে সচারচর সাক্ষাত হত এবং তারা একত্রিত হয়ে ভাড়া বাসা ও নিজ এলাকায় জুয়ার আসর বসাত।

বিগত ৩ আগস্ট শাহাদাত চন্দ্রা থেকে গাজীপুর জেলার কাশিমপুর নিকটবর্তী মাটির মসজিদ এলাকায় ডেকে নিয়ে আসা হয়। আসার এক পর্যায়ে আসামীরা তাকে ফুসলিয়ে জুয়া খেলতে ধামরাই এর আমরাইল এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে ভুক্তভোগী’কে ফুসলিয়ে ২ দিন অবস্থান করায়। পরবর্তীতে ৬ আগস্ট সন্ধ্যার সময় সবাই একত্রে ভুক্তভোগীকে নিয়ে ধামরাই এর আমরাইল এলাকায় ভাড়া বাসায় আসে। সেখান থেকে আশুলিয়া থানাধীন একটি ফাঁকা নির্জন এলাকায় নিয়ে শাহাদাতের হাত পা বেঁধে ফেলে।

প্রথমে জাহিদ ভুক্তভোগীকে চর-থাপ্পর মারে এবং গোপনাঙ্গে ৪-৫টি লাথি মারে। এ সময় তাহের ভুক্তভোগীর মাথা চেপে ধরে বসে ছিলো এবং অন্যান্যরা হাত পা ধরে ছিল। পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে থাকা লাঠি দিয়ে ভিকটিমের মাথায় আঘাত করে তার মৃত্যু সুনিশ্চিত করে। তারপর গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা শাহাদাতের লাশ ভ্যানচালক সবুজের ভ্যানযোগে ধামরাই থানার আমরাইল পুকুরিয়া সাকিনস্থ মনুমিয়ার কাঠবাগানের কাছে নিয়ে যায়। পরবর্তী গাছের একটি ডালে কাঁচা পাট দিয়ে ফাঁস তৈরী করে ঝুলিয়ে রাখে,যাতে করে এলাকার লোকজন জানতে পারে এটি একটি স্বাভাবিক আত্মহত্যা।