মিরসরাইয়ে নবজাতক ও গৃহবধূ রিমার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নেমেছে প্রশাসন

53

আকতার হোসেন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

মিরসরাইয়ের করেরহাটের দক্ষিণ অলিনগর এলাকায় স্বামী, শ্বশুর শ্বাশুড়ির অবহেলা ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ভূমিষ্ঠ হয়ে নবজাতকের মৃত্যুর ১৫ দিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূ রিমা আক্তার (২১) এর মৃত্যুর ঘটনায় এফআইআর দায়ের করার পর তদন্তে নেমেছেন প্রশাসন।
সোমবার ১৪ (ফেব্রুয়ারী) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জয়দূত চাকমা।

গৃহবধূ রিমা আক্তার উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ অলিনগর গ্রামের মাদু মিস্ত্রি বাড়ির মামুদুল হকের মেয়ে ও একই এলাকার জাফর মিস্ত্রি বাড়ির জাফর আহম্মদের পুত্র ওসমান গণি (২৩)’র স্ত্রী।

নবজাতকের মৃত্যু ও গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় প্রশাসনের নজরে আসে। তারপর গৃহবধূ রিমার বড় ভাই আরিফ হোসেন (২৬) বাদী হয়ে রিমার স্বামী উসমান গণি, শ্বশুর জাফর আহম্মদ ও শ্বাশুড়ি নাছিমা আক্তারকে অভিযুক্ত করে জোরারগঞ্জ থানায় এফআইআর (নং-০৯) দায়ের করেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন, উক্ত ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেন।

এবিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার এসআই জয়দূত চাকমা বলেন, এফআইআর, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট, ভিকটিমের পরিবার ও এলাকাবাসীর সাক্ষ্য এসবের উপর ভিত্তি করে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এফআইআর দায়েরের পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২ মার্চ পারিবারিকভাবে কোর্ট হলফনামা সম্পন্ন করে রিমা আক্তার ও ওসমান গণির বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে গৃহবধূ রিমার উপর বিভিন্নভাবে মানষিক, শারীরিক নির্যাতন ও প্রহার শুরু হয়। চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাত নয়টার দিকে গৃহবধূ রিমা আক্তারের প্রসব বেদনা উঠলে স্বামী, শ্বশুর শ্বাশুড়ির অবহেলায় সারারাত প্রসব বেদনা সহ্য করে ২৮ জানুয়ারি সকালে ভূমিষ্ট হয়ে নবজাতকের (পুত্র সন্তান) মৃত্যু হয় এবং অগোচরে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে অসুস্থ গৃহবধূ রিমা আক্তারকে প্রথমে বারইয়াহাট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়, সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভর্তি অবস্থায় প্রসাব ও কিডনি সমস্যা দেখা দিলে কিডনি রোগ বিভাগের ১৭ নং ওয়ার্ডের ২৬ নং বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) বেলা সোয়া দুইটার দিকে সে মারা যায়।