
রাজধানীর পুরান ঢাকার কোতওয়ালি থানার রমাকান্ত নন্দী লেন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ কেজি ভারতীয় আতসবাজিসহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতের নাম- বিকাশ চন্দ্র সিগ্ধা ওরফে জটা (৩৭)।
মঙ্গলবার( ১৯ ডিসেম্বর ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান মিয়া।
ওসি মাহফুজ বলেন, আসন্ন থার্টি ফাস্ট নাইট, বড়দিন এবং নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা মহানগরীর আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন ও স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এরইমধ্যে ডিএমপিতে বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতসবাজি ফোটানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই আতসবাজি বিক্রি বন্ধে গত এক সপ্তাহ ধরে কোতয়ালী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার ( ১৮ ডিসেম্বর)
কোতয়ালী থানার রমাকান্ত নন্দী লেনের অভিযান চালিয়ে ২০ কেজি আতশবাজি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া আতসবাজির আনুমানিক বাজারমূল্য চল্লিশ হাজার টাকা।
গ্রেফতার বিকাশ চন্দ্র একজন অবৈধ বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবসায়ী উল্লেখ করে ওসি আরও বলেন, আসামীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে, আসন্ন থার্টি ফাস্ট নাইট, বড়দিন রাজধানীতে সাধারণ মানুষের মাঝে ভীতি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বিস্ফোরক দ্রব্য বিক্রি করত।
গ্রেফতার বিকাশ পুলিশকে আরও জানিয়েছে, এই সকল অবৈধ বিস্ফোরক ভারত থেকে বিভিন্ন পথে ঢাকায় আসে। সেগুলো রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় খুচরা বিক্রি হত। এই ঘটনায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাব্বির হোসেন বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেছেন।
এর আগে চকবাজারস্থ জরি ব্যবসায়ী সমিতি এবং খুচরা জন্মদিনের আইটেম বিক্রয়কারী দোকানীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেছিল ডিএমপির লালবাগ বিভাগ। সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে চকবাজারে পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের পটকা,আতশবাজি এবং ফানুস বিক্রয় বন্ধ রয়েছে। অবৈধ বিস্ফোরক দ্রব্য ভারত থেকে বিভিন্ন পথে কুমিল্লা, বগুড়া চুড়িপট্টি হয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ঢাকায় আসে এবং সেগুলো ঢাকার কেরানীগঞ্জসহ রাজধানীর মোহাম্মদপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, ওয়ারী, পল্লবী সহ আরো বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বিক্রি হত।
ব্যবসায়ীরা পুলিশকে আরও জানিয়েছে, কিছু বিক্রেতা অনলাইনের মাধ্যমে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সকল আতসবাজি বিক্রি বন্ধে লালবাগ বিভাগের কঠোর নজরদারি রয়েছে।
এর আগে বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইট উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করতে ঢাকা মহানগরীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের আতশবাজি, পটকা ফুটানো, ফানুস ওড়ানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সোমবার রাত ১২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখতে বলেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিআই/এসকে