ঢাকা, শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
যৌথবাহিনীর অভিযানে সাতদিনে গ্রেফতার ৩৪১
এসো আমরা ঈদের আনন্দের সাথে নিজেরা নিজেদের অবস্থান তৈরি করি-ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান সালেহী
কলাপাড়ায় গৃহবধূর রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনায় গ্রেফতার ৭
নওগাঁয় ধানখেতে গলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মুলহোতা গ্রেপ্তার
নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ি কন্যা পর্যটন লেকে ঈদে ১৬ বছরের রেকর্ড পর্যটকের ঢল
বাঁশখালীতে টানা ৪১ দিন জামাতে নামাজ আদায় করা ১৭ শিশু-কিশোর সাইকেল উপহার
আত্রাইয়ে ঈদের চতুর্থ দিনেও সাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশনজুড়ে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়ন আ’লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক গ্রেফতার
কলমাকান্দায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার পলাতক অলি আহমেদ
নেত্রকোণা সরকারী কলেজের ঈদ পুনর্মিলনী
ভারতীয় মিডিয়া গুজবে চ্যাম্পিয়ন:স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
জিয়ার শ্রদ্ধা স্মারক সরিয়ে ফেলার অপকর্মে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনুন:জাসাস
কালিগঞ্জে প্রত্যয় গ্রুপের ১৩ তম বর্ষপূর্তি ও ঈদ পুনমিলনী 
পরকীয়া জেরে যুবকের আত্মহত্যা
আমতলীতে তরমুজ পরিবহনে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত- ৬

রায়পুরে ভুয়া চিকিৎসক’ বিজয় কৃষ্ণ অধিকারীর’ প্রতারণা বেড়েই চলছে

চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারণা,  কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ঝুঁকিপূর্ণ জনস্বাস্থ্য।  অভিযান অর্থদণ্ডেও থামছেনা ভুয়াদের দৌরাত্ম্য ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ এমন শিরোনামে ‘দৈনিক নাগরিক ভাবনা’ সহ কয়েকটি পত্রিকায় রায়পুর উপজেলার একটি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার তিনমাস অতিবাহিত হলেও কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত  চিকিৎসার নামে  ৪০ বছর ধরে প্রতারণা করে আসা পল্লী চিকিৎসক সনদধারী ভুয়া চিকিৎসক বিজয় কৃষ্ণ অধিকারীর নেয়নি কোন ব্যবস্থা। ফলে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নন রেজিস্ট্রার  ভুয়া চিকিৎসকরা দিনদিন আরও বেপরোয়া হয়ে কোনকিছুকে তোয়াক্কা না করে রেজিস্ট্রার চিকিৎসকদের মতোই ডাক্তার লেখা প্যাড কার্ড ব্যবহার করে নিয়মিত রোগী দেখে প্রয়োজনে – অপ্রয়োজনে ইচ্ছেমতো মনের মাধুরি মিশিয়ে লিখেছেন এন্টিবায়োটিক। এতে একদিকে যেমন এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহার হচ্ছে তেমনি সাধারণ জনগণ প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সময় এবং অর্থ হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। এন্টিবায়োটিকের এমন অপব্যবহারের ফলে মানব দেহে অনেক ওষুধই রেজিস্ট্রার হচ্ছে ফলে মানুষের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে। 

‘দৈনিক নাগরিক ভাবনা’ প্রকাশিত নিউজের আলোকে রায়পুর উপজেলার সাংবাদিকদের একটা বিচক্ষণ টিম রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ  দক্ষিণ বাজারে তফুরা মেডিকেল হল আবার কখনও সৌদিয়া ফার্মেসীতে নিয়মিত ডাক্তার লেখা ব্যবস্থাপত্র ব্যবহার করে চিকিৎসা দিতে দেখতে পান ভুয়া চিকিৎসক বিজয় কৃষ্ণ অধিকারীকে । ডাক্তার না হয়েও ২০০টাকা ভিজিটে নিয়মিত চেম্বার বসিয়ে রোগী দেখার বিষয়ে জানতে কথিত ডাক্তার নামের ঐ ভুয়া চিকিৎসক বিজয় কৃষ্ণ অধিকারীকে ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় শুনেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বলেন,  আমি চিকিৎসা দেই না কী করি সেটা সাংবাদিক  জিজ্ঞেস করার কে? এটা সাংবাদিকের কী কাজ?  এটা দেখার জন্য কর্তৃপক্ষ রয়েছে।  তাদের সঙ্গে কথা বলেই তো আমি চিকিৎসা দিচ্ছি।  যা বলার আমি তাদের কাছে বলেছি।

এবিষয়ে সাংবাদিক হয়ে কেন জানতে চেয়েছি তার জবাব চেয়ে ডাক্তার বিজয় কৃষ্ণের ছেলে পলাশ মুঠোফোনে বলেন,  “আমার বাবা চিকিৎসা দিবে কী দিবে না সেটা দেখার আপনারা কে? আমরা উপজেলা উর্ধতন কর্মকর্তা ডাক্তার বাহারুল আলম স্যারের সঙ্গে কথা বলেই তো চিকিৎসা দিচ্ছি। কোন কৈফিয়ত দিতে হলে আমরা তাকে দিবো। এই নাম্বারে আর কখনো ফোন দিবেন না। ”

গোপন সূত্র থেকে জানা যায়,  ডাক্তার বিজয় কৃষ্ণ অধিকারীর ছেলে ‘পলাশ’ ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার এরিয়া ম্যানেজার পদে দীর্ঘদিন ধরে চাকুরী করে আসছেন। সেই  সুবাদে ডাক্তার বাহারুল আলমসহ সকল ডাক্তারদের সঙ্গেই তার ভালো সখ্যতা রয়েছে। তাই তিনি ডাক্তার বাহারুল আলমকে যেকোনোভাবে ম্যানেজ করে তার বাবার ভুয়া চিকিৎসার চেম্বার বসিয়ে গ্রামের সাধারণ রোগীদেরকে ভুলভাল বুঝিয়ে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করতে এতো সাহস পাচ্ছেন।

এবিষয়ে সিভিল সার্জন আহমেদ কবীরকে জানানো হলে, তিনি তৎক্ষনাৎ এই প্রতিবেদকের সামনেই ডাক্তার বাহারুল আলমকে ফোন দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। 

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার বাহারুল আলম বলেন, ”  এটার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।  কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে?  উত্তরে তিনি বলেন, “আমাকে সিভিল সার্জন স্যার ফোন দিয়েছিল আমি স্যারের ফোন পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে  ডেকে সতর্ক করেছি যে তারা যেন ভবিষ্যতে আর কখনো ডাক্তার পদবি ব্যবহার না করে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া ছাড়া কোন ধরনের এন্টিবায়োটিক না লিখে কিছু ওষুধ তাদেরকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে তার বাইরে যেন কোন চিকিৎসা না করে।  তারা বলেছে ভবিষ্যতে তারা কখনও এধরনের কাজ করবে না যদি করে তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  আর আমি তাদেরকে ডাক্তার লিখতে এবং ব্যবস্থাপত্রে এন্টিবায়োটিক লিখতে কোন অনুমতি দেইনি একথাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। হয়তো সে নিজেকে সেইভ করতে আমার নাম ব্যবহার করেছে। ”

বিষয়টি রায়পুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনিরা খাতুনকে জানানো হলে,  তিনি বলেন,  ” বিষয়টি আপনার থেকে মাত্র জেনেছি,  আমি এখানে নতুন জয়েন করেছি আবার এখন তো নির্বাচনকালীন সময় তারপরও তদন্ত করে মোবাইলকোর্ট বসিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শেয়ার করুনঃ