
ময়মনসিংহের নান্দাইলে যুগ যুগ ধরে সরকারি খাস জমিতে চাষাবাদ করে দু বেলা দু-মুঠো খাবার যোগাড় করে কোনমতে বেচেঁ আছে উপজেলার চরবেতাগৈর ইউনিয়নের আশ্রয়ন প্রকল্প ও চরভেলামারী গ্রামের শতশত নিরীহ কৃষক ও সাধারন মানুষ। বৎসরের বিভিন্ন মৌসুমে কোন সময় বৃষ্টির পানিতে আবার কোন সময় ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে পানি তুলে তারা কৃষি আবাদ করে থাকে। সুখে-দু:খে ভালোই কাটছিল ওই এলাকার সাধারন মানুষ ও নিরীহ কৃষক-কৃষাণীদের জীবন। কিন্তু গত কয়েকদিন পূর্বে যুগ যুগ ধরে চাষাবাদ করে আসা শেষ সহায় সম্বল দখলীয় সরকারি প্রায় ২ কিলোমিটার ফসলি জমিতে লাল নিশান উড়িয়েছে প্রশাসন। সেখানে নাকি মাটি ভরাট করা হবে ? ফলে শত শত কৃষক-কৃষাণীদের জীবনে নেমে এসেছে দূর্ভোগের ছায়া। তাই সরকারি খাসজমিটুকুতে মাটি ভরাট নয়, তাদের কথা
চিন্তা করে সরকারের নিকট বন্দোবস্তের দাবী জানিয়েছে এলাকার সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ সহ মুক্তিযোদ্ধা, শতশত নিরীহ কৃষক-কৃষাণী ও সাধারন মানুষ। জানাগেছে, চরভেলামারি আশ্রয়ন প্রকল্পের সাথে উপজেলা প্রশাসন থেকে ডিসি পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে।
ডিসি পার্কের জন্য ব্যাপক জায়গা নেয়া হয়েছে এবং এতে মাটি ভরাটের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এছাড়া আশ্রয়ন প্রকল্পের দক্ষিণ অংশে আরো প্রায় ২ কিলোমিটার ফসলি জমির উপর লাল নিশান টাঙ্গানো হয়। যেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ খননের একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। অথচ ব্রহ্মপুত্র নদে শুকনো মৌসুমেও ৫০/৬০ ফুট পানি থাকে। এলাকার
বীরমুক্তিযোদ্ধা তফাজ্জল হোসেন, সামসুল হক, সুবেদার (অব:) আবদুল মতিন ও মোয়াজ্জেম হোসেন সেখানে ডিসিপার্ক নির্মানকে স্বাগতম জানিয়ে বলেন,দুই কিলোমিটার এলাকায় মাটি ভরাট করা হলে ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যাবে
এবং কৃষকদের না খেয়ে মরতে হবে। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন এক ইঞ্চি ভূমিও খালি রাখা যাবে না। সেখানে ২ কিলোমিটার ফসলি জমি মাটি দিয়ে ভরাট করে রাখা নিষ্প্রয়োজন। এ জন্য স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ ময়মনসিংহ জেলা ও নান্দাইল উপজেলা প্রশাসনের মানবিক সুদৃষ্টি কামনা করছেন। প্রয়োজনে কৃষকেরা সরকারকে রাজত্ব দিয়ে জমি বন্দোবস্ত নিতেও রাজী আছেন। চরবেতাগৈর ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন বলেন, কৃষকরা আমার কাছে আসছিলো।কৃষকদের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানাবো। নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরুণ কৃষ্ণ পাল বলেন, সরকারি খাসজমিটুকু উদ্ধার করে লাল নিশান টাঙ্গানো হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার জানামতে কৃষকরা আমার নিকট কোন দরখাস্ত দেয়নি।