
এইচ এম জুয়েল রানা স্টাফ রিপোর্টারঃ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সর্বত্র মাটি বহনের কাজে ব্যবহৃত অবৈধ যান ট্রাক্টরের চাকার আঘাতে নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন সড়ক।
সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে লাইসেন্স বিহীন অবৈধ যন্ত্রদানব নামে খ্যাত ট্রাক্টর। প্রতিনিয়ত এসকল অবৈধ যানবাহনের প্রশিক্ষিত চালক বিহীন যত্রতত্র চলাচলে ছোট-বড় দুর্ঘটনায় প্রাণহানিও বাড়ছে। তবে এসকল অবৈধ যন্ত্রদানব সড়কে চলাচল নিষিদ্ধ না হলে একদিকে যেমন কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা সড়কগুলোর কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি বাড়ছে প্রাণহানি। সড়কে এ সব যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ হলেও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এগুলোর চলাচল দিন দিন আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ট্রাক্টর চালক জানান, এই যানবাহন চলাচলের অনুমতি না থাকলেও অনেকেই আবার দিনচুুক্তিতে ট্রাক্টর ভাড়া নিয়ে সংসার চালাতে এক প্রকার বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তা চালাচ্ছেন বলে জানান।
এদিকে এ সকল অবৈধ যন্ত্রদানবের কারনে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় অন্যান্য যানবাহনগুলোকে। আবার সড়কের যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে যায়। এর তীব্র শব্দ ও লুকিং গ্লাস না থাকায়। পেছন থেকে হর্ণ দেওয়া হলেও তারা বুঝতে পারে না। এ যন্ত্রদানবের চলাচল বৃদ্ধিতে রাস্তার শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য অবৈধ ট্রাক্টরগুলোতে করে মাটি নিয়ে প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যকটি রাস্তাতেই বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। ট্রাক্টর থেকে সড়কে মাটি পড়েও আবার অনেক সময় ছোটবড় দুর্ঘটনা ঘটে। আর গ্রামীণ সড়কে এগুলোর বেপরোয়া গতির চলাচলে রাস্তাগুলো দ্রুত নষ্ট হচ্ছে বলে তারা আরো জানান, মারাত্মক শব্দদূষণ ও ধুলাবালির কারণে সড়কসংলগ্ন বাড়িতেও বাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। উপজেলার, পোড়াডাঙ্গা, গোপালপুর, বালিধা, দূর্বাডাঙ্গা, শ্যামনগর, কোনাকোলা, দত্তকোনা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং (পিচ) উঠে গিয়ে ও রাস্তায় মাটি পড়ে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
জানতে চাইলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কাজ করা সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাইয়ের (নিসচা) মনিরামপুর উপজেলা শাখার সদস্য সচিব এস.এম. হাফিজুর রহমান বলেন, কৃষিকাজের জন্য ট্রাক্টর ব্যবহারের শর্ত থাকলেও এগুলো অবৈধভাবে মহাসড়কে ইট, বালু ও মাটি বহন করছে। মাটি বহনের সময় তা রাস্তায় পড়ে রাস্তা হচ্ছে কাদাময়, সামান্য বৃষ্টিতেই কাদামাটিতে রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি চালক অদক্ষ হওয়ায় এসব যানের কারণে দুর্ঘটনাও বাড়ছে। প্রয়োজনে তাঁরা সড়ককে নিরাপদ ও পথচারীদের নির্বঘ্নে চলাচলে অবৈধ এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবহিত করে সমাধান করা নতুবা এর বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজকে নিয়ে আন্দোলনে নামার কথা বলেন।
উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস বলেন, অবৈধ ট্রাক্টরে মাটি পরিবহন বন্ধে উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে বন্ধ করা সম্ভব।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলী হাসান বলেন,এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।