
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ‘এমপি সাহেব’ হিসেবে পরিচিত মো. কাজী জাহাঙ্গীরের দাখিল করা মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়েছে।
রোববার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই শেষে এক শতাংশ ভোটারের সাক্ষরিত তালিকায় গড়মিল থাকায় তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়।
কাজী জাহাঙ্গীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের কাজীপাড়া এলাকার কাজী আব্দুল হান্নান ভূইয়ার
নয় সন্তানের মধ্যে সবার বড়। তার মাতার নাম
আমেনা বেগম।
ধান কেনাবেচা আর গাভি পালন করেই জীবনের চাকা ঘোরে তার। ধান আর দুধ বিক্রি করে প্রতি মাসে হাজার বিশেক টাকার মতো আয় করেন তিনি।
জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমার ওপর বাবা-মাসহ পাঁচ–ছয়জন নির্ভরশীল। আমার উপার্জনেই তাদের জীবন চলে। বাবা-মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। আমাকেই বেশিরভাগ সময় রান্নাবান্না করতে হয়।
নির্বাচনের ‘নেশা’য় বিক্রি করেছেন জায়গা-জমি
পরিবারের সদস্যরা তার ওপর নির্ভরশীল বলে তারাও এ ব্যাপারে তাকে বাধা দিতে পারেন না। তিনি শুধু সংসদ নির্বাচনেই অংশ নেন। প্রতিবারই তার কাগজপত্রে ত্রুটির কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।
মনোনয়ন পূরন করার বিষয়ে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমার তো অনেক টাকা ফি দিয়ে মনোনয়নপত্র পূরণ করানোর সামর্থ্য নেই। তাই নিজেই নিজের মনোনয়ন ফরম পূরণ করি। এজন্য ত্রুটি থেকে যায়,’।
জাহাঙ্গীর বলেন,নির্বাচন করতে গিয়ে ইতোমধ্যে অনেক টাকা-পয়সা ‘নষ্ট করেছি’। জায়গা-জমি সবই বিক্রি করেছি। এখন শুধু বাড়িটুকু আছে।’
নির্বাচনের দৌড়ে বেশিদূর পৌঁছাতে না পারলেও তিনি জানান,জীবনে বেচেঁ থাকাকালীন অন্তত একবার এমপি পদে বিজয়ী হয়ে কৃষিতে পরিবর্তন আনতে চান তিনি। ‘কারণ কৃষকেরাই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছেন। এছাড়া তরুণ সমাজের অধিকাংশই নেশায় আসক্ত। কারণ তাদের কোনো কর্মসংস্থান নেই। আমি তাদের জন্য কর্মসংস্থান করে নেশামুক্ত সমাজ গঠন করতে চাই।’
কাজী জাহাঙ্গীর বলেন,নির্বাচন তার কাছে একটি নেশার মতো মাথায় কাজ করে। তবে আমি এখনও পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলে যোগদান করিনী। কারন বর্তমান রাজৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড আমার কাছে ভালো লাগে না।
এ কারনে টানা পাঁচটি সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি, তবে প্রতিবারই কাগজপত্রে ত্রুটির কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
সংসদীয় আসনের ভোটে অংশ নিতে না পারলেও জাঙ্গীরকে অনেকেই ভালোবেসে ‘এমপি সাহেব’ বলে সম্বোধন করেন। কাজী জাহাঙ্গীর প্রতিবারই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার আশায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
পঞ্চমবারের মতো মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে কাজী জাহাঙ্গীর বলেন, এক শতাংশ ভোটার তালিকায় গড়মিলের কারণে আমার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। তবে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে বাড়ি বাড়ি ঘুরে হাজার হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা সম্ভব না।
তাই লোক মারফত প্রার্থীর সমর্থনে ভোটারদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। তবে আমি চাই এই
তবে তিনি নির্বাচন কমিশনের নিকট দাবী করে বলেন,এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা প্রদানের আইনটি বাতিল করলে আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোটে লড়তে পারব এবং ভোটে জিতে জনগণের জন্য ভালো কিছু করতে পারব বলে আমার বিশ্বাস।