শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে এক অসহায় আব্দুলের জীবন কাহিনী ও আর্তনাদ!

1

এম শাহজাহান মিয়া ঝিনাইগাতী শেরপুর প্রতিনিধিঃ করোনার মধ্যে কষ্ট কইরা চলতাছি। গরিব মানুষ, অসহায় জীবনের কেউ খবর নেয় না। খাইয়া না খাইয়া বাইচ্চা আছি। অহন খুব কষ্ট কইরা চলতাছি, এই বাঁচার দাম নাই। একটা কম্পিউটার কিনবার পাইলে কোনো রকম চলবার পাইতাম’। মনের ভেতর জমে থাকা কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন শেরপুরের নালিতবাড়ী উপজেলার বারমারী এলাকার আন্দারুপাড়া গ্রামের মৃত আমজাদ আলীর ছেলে আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল। ৪ ভাই ১ বোনের মধ্যে সবার ছোট আব্দুল জন্মের ৮ বছর বয়সে পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। পায়ে হেঁটে চলার ক্ষমতা নেই একটি বেসরকারি সংস্থার দেয়া হুইল চেয়ারে চলাফেরা করে। আব্দুল বাবার বাড়ি ভিটায় ৫ শতাংশ জমি পেয়েছেন। আবাদি কোনো জমিজমা নেই। বর্তমানে থাকার ঘরটিও ভাঙা। কষ্ট করে ছোট ঘরে রাত কাটান।। আব্দুল জানান, ৮ বছর বয়সে প্রথমে ডান পায়ের গোড়ালি ফুলে যায়। তারপর ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ অবশ হয়ে সরু ও দুই পা একত্রে জড়ো হয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে কবিরাজী চিকিৎসা করলেও কোনো কাজ হয়নি। বর্তমানে এভাবেই অসহায় জীবন পার করছেন। ২০০৮ সালে স্থানীয়দের আর্থিক সহযোগিতায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডা. আব্বাস উদ্দিনের নিবির তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ ৬ মাস চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এ সময় ডা. তার ডান পায়ে অস্ত্রোপচার করেন এতে পায়ের জড়তা ছাড়ে। ডা. পরামর্শ দিয়েছিলেন বাম পায়ে আরো ৩টি অপারেশন করতে হবে। তাহলে সম্পূর্ণ সুস্থ না হলেও অন্ততঃ হুইল চেয়ারে নয় লাঠিতে ভর করে কোনো রকমে পায়ে হাঁটতে পারবেন। ডা. আব্বাস উদ্দিন আব্দুলের চিকিৎসার খরচের সহযোগিতাও করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ডা. আব্বাস উদ্দিনকে অন্যত্র বদলি করায় আব্দুলের আর চিকিৎসা হয়নি। নতুন ডা. যোগদান করে আব্দুলকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেয়। আর বাকি ৩ টি অপারেশন করানো সম্ভব হয়নি। এভাবেই আব্দুল টানছে সংসারের ঘানি। এখন হুইল চেয়ারই একমাত্র ভরসা। আব্দুলের ২ ছেলে ও ১ মেয়ে। আব্দুল জানান, পঙ্গু ভাতার সামান্য টাকা দিয়ে সংসারের খরচ হয় না। স্ত্রী, সন্তানসহ ৫ জনের সংসারের আহার যোগাবে কিভাবে। উপায়ান্তর খুঁজে না পেয়ে পার্শ্ববর্তী বারমারী বাজারে একটি দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে প্রথম দিকে গ্যাস ম্যাচের গ্যাস ভরানো, মোবাইল চার্জ করা ও লাইট মেরামতের কাজ শুরু করেন। এতে প্রতিদিন রোজগার হয় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এ থেকে ঘর ভাড়া ৮০০ টাকা। তার এই করুন হাল দেখে বাজার কমিটি নাইট গার্ডের টাকা নেওয়া বাদ দিয়েছে। বর্তমানে কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে দিন যায় রাত কাটে আব্দুলের। আব্দুল আরো জানান, বর্তমান ডিজিটাল যুগে একটি কম্পিউটার কিনতে পারলে তার আয় আরেকটু বাড়তো। ‘আমার ট্যাহা নাই, কম্পিউটার কিনে মোবাইলে গান, গজল, রিংটোন ডাউনলোড করে টাকা রোজগার করতে পারতাম। ওহন ও দুনিয়ায় ভালো মানুষ আছে আমারে যদি কোনো ধনী মানুষ একটি কম্পিউটার দান করতেন তাইলে আমার খুব উপকার অইতো।’ আত্মবিশ্বাসী আব্দুল কর্মে বিশ্বাসী কাজ করে খেতে চায়। কিন্তু পায় না সহযোগিতা। নিজের জীবনকে অভিশপ্ত মনে না করলেও পঙ্গুত্বের কথা মনে করে খুব কষ্ট পায়। পোলিওর থাবায় পঙ্গু জীবনে মনে প্রাণে স্বপ্ন দেখেন একটি কম্পিউটার ক্রয়ের। আব্দুল বলেন, ‘স্বপ্নপূরণ হবে কি না জানি না। তবে বেঁচে থাকতে চাই সমাজের বোঝা হয়ে নয়, অন্য দশজন মানুষের মতো।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •