প্রেমিকাকে অপহরণের অভিযোগে প্রেমিক শ্রীঘরে

আব্দুল আওয়াল, মদন থেকেঃ নেত্রকোনার মদনে প্রেমিকাকে অপহরণের অভিযোগে প্রেমিককে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে মদন থানা পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের শিবপাশা গ্রামে। পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গতরাতে মদন থানা পুলিশ শিবপাশা গ্রামে টহলরত অবস্থায় এক কিশোরী ও দুই যুবককে একটি অটোরিক্সাসহ আটক করে মদন থানায় নিয়ে আসে। পরে ওই কিশোরীর ভাই যুবকের বিরুদ্ধে তাকে অপহরণের অভিযোগ আনে। তবে ওই যুবক অপহরণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলে সে আমার প্রেমিকা। সে আমার সাথে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে।
আটককৃতরা হল, তিয়শ্রী ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য শিবপাশা দক্ষিণ পাড়া গ্রামের মন্দিরা আক্তারে ছেলে আলীরাজ (২১) ও একই গ্রামের মৃত. মতিউর রহমানের ছেলে অটোচালক হায়দার মিয়া (৩০)। আর প্রেমিকাও (১৭) একই গ্রামের জৈনক ব্যক্তির মেয়ে।প্রেমিকা জানান, গতরাতে আমি যখন ঘর হতে কাপড় নিতে বাহিরে আসি তখন হঠাত করে কোথায় থেকে এসে আলীরাজ আমার মুখ চেপে ধরে অটোরিক্সাতে তুলে নিয়ে আসার সময় পুলিশ আমাদের আটক করে থানাতে নিয়ে আসে।প্রেমিক আলীরাজ জানান, তার সাথে আমার দীর্ঘদিনের গভীর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। সে আমার সাথে পালাবে বলে আমি অটোরিক্সা নিয়ে তার বাড়ির সামনে অবস্থান করি। পরে তাকে নিয়ে পালিয়ে আসার সময় শিবপাশা উত্তর পাড়ার রাস্তা থেকে পুলিশ আমাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এখন সে তার ভাইদের ভয়ে মত পাল্টিয়েছে। যদি আমি থাকে জোর করে তুলে আনতাম তবে সে চিৎকার করেনি কেন। তার সাথে ব্যাগ ভর্তি কাপড় কোথায় থেকে এলো। আমি নিরপরাধ। আমি তাকে অপহরণ করিনি। সে নিজ ইচ্ছায় আমার সাথে পালিয়েছে।প্রেমিক আলীরাজের মা ইউপি সদস্য মন্দিরা আক্তার জানান, আমার ছেলের সাথে ওই মেয়ে নিজ ইচ্ছাই পালিয়েছে। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। আমার ছেলে তাকে অপরণ করেনি। এর আগেও ওই মেয়ের পরিবার আমার ছেলের বিরুদ্ধে একটি অপহরণের মামলা করেছিল। ওই মামলায় আমার ছেলে এক সপ্তাহ হাজতবাস করেছিল। মেয়ের পরিবার রাজী থাকলে ওই মেয়েকে আমার পুত্রবধূ করতে কোন আপত্তি নেই।মদন থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস আলম জানান, গত রাতে পুলিশের চেকপোস্টে এক কিশোরীসহ দুই যুবককে আটক করে আমার পুলিশ থানায় নিয়ে আসে। কিশোরীর ভাইয়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অপহরণ মামলা রজু করে আসামিদের শুক্রবার বিকালে নেত্রকোনার জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।