নড়াইলের ভদ্রবিলা ইউনিয়নে টাকা ছাড়া মেলেনা ভাতার কার্ড

All-focus

মোঃ আবু তাহের, নড়াইল :
সরকারের দেয়া বয়স্ক,বিধবা,প্রতিবন্ধী,মাতৃকালীন বিভিন্ন প্রকারের ভাতা কার্ড করতে টাকা চাড়া সম্ভব হয়না এমন একটি অভিযোগ উঠেেেছ ১০নং ভদ্রবিলা প্যানেল চেয়ারম্যান বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে। নড়াইল জেলাপ্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ঐ ইউনিয়নের স্থানীয় জনগনরা বলেছেন মোশারফ একজন ঠক ,প্রতারক, দূর্ণীতিবাজ প্রকৃতির লোক।তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন দূর্ণীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন । এলাকার বিভিন্ন লোকদের সরকারী বয়স্কভাতা,বিধাবা ভাতা,প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড করে দেয়ার নাম করে বিভিন্ন অংকের টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। এ কাজ তিনি কখনো নিজে আবার কখনো তার জামাই,বিয়াই বক্কার মোল্যা সহ আরো অনেকের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগীতা এ কাজ করে থাকেন।টাকা হলে যে কোনো প্রকারের ভাতা কার্ড পাওয়া যায় নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নে।এমন ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে এই ইউনিয়নে।আকিবার সরদার বলেন আমার পিতার বয়স্ক ভাতা কার্ড করার জন্য একজনের সাথে আলাপ করলে ৬হাজার টাকার কথা বলে। বিশ্বাস নাকরে আমি সরাসরি চেয়ারম্যানের কাছে জানতে যাই। চেয়ারম্যানের বাড়ী প্রবেশ করতেই শুনতে পেলাম কোনো এক মেম্বরের সাথে কথা হচ্ছে ৬হাজার টাকার কম হলে কোনো কার্ড হবে না যাও টাকা নিয়ে আসো।
তানিয়া ১০নং ভদ্রবিলা ইউনিয়নের ৮নংওয়ার্ডের দীঘলিয়া গ্রামের বাসিন্দা।তার শিশু সন্তান (০৩)মাস বয়স। তানিয়া বলেন তার শিশুর দুধকার্ড করার জন্য যোগাযোগ করলে পার্শ্ববতী কথিত দালাল বক্কার প্যানেল চেয়ারম্যানের বিয়াই বলেন ৫হাজার টাকা লাগবে বলে জানান। যাহারা টাকা দিয়েছে তাদের একাউন্ট খুলতে বলা হয়েছে বলে তানিয়া জানান।আমি টাকা দিতে পারিনাই তাই আমার কার্ড হয় নাই । ডহর রামদ্ধির শুধারাণী বিশ্বাস(৯০) স্বামী মৃত -খোকন চন্দ্র বিশ্বাস।গত ৭বছর পূর্বে বৃদ্ধার স্বামী মারা যায়।এপর্যন্ত তিনি বয়স্ক বা বিধবা ভাতা কোনোটাই পাননি।তার বয়স্ক ভাতা কার্ড করতে প্রায় একবছর হয়েগেল ৩হাজার টাকা নিয়েছেন।নানান টালবাহানা দেখিয়ে দশ টাকা নিতেও ছাড় দেননি এই দালাল চক্রের বক্কার প্যানেল চেয়ারম্যানের মেয়ের শ্বশুর। মূলত লেনদেনের এই কাজ গুলি তিনি তার বিয়াইকে দিয়েই করান। শুধারাণীর দাবি তিনি যেন বয়স্ক ভাতা পেয়ে মরতে পারেন। প্রফুল্ল বিশ্বাস(৭৫) বলেন আমি সরাসরি চেয়ারম্যানকে কার্ড করতে টাকা দিয়েছি। চেয়ারম্যানের জামাই সোহাগ ২/৪টি কার্ডের জন্য সুপরিশ করেছিল বলে তিনি জানান।কিন্ত কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি তিনি। *এ বিষয়ে বক্কার মোল্যার সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।ভদ্রবিলা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎকার নিতে গেলে পরিষদে উপস্থিত সদস্যরা আমার সংবাদকে বলেন নিউজ করলে যদি এই ইউনিয়নের সুনাম নষ্ট হয় তাহলে বিকল্প পথে যাওয়া যায় কিনা। এই দুর্নীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন আমি এর সাথে সংশ্লিষ্ট না।আবার বলা হলো জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরে আপনি অনেককে টাকা ফেরৎ দিয়েছেন এমন কথার প্রেক্ষিতে তিনি অনেক্ষণ চুপ থেকে পাশে বশে থাকা পরিষদের সদস্যদের বলেন সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় যাও।সাংবাদিকরা আলোচনা উপেক্ষা করে উঠে যায়।