মোংলায় পঙ্গুর মোড় এলাকার বাসিন্দাদের কাছে এক আতংকের আসকর ফরাজি  

7

মোংলা প্রতিনিধি:  আসকর ফরাজি। মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের পঙ্গুর মোড় এলাকার বাসিন্ধাদের কাছে এক আতংকের নাম। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আসকর নামক ওই ব্যাক্তির অত্যাচার নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন তারা। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ দিয়েও ন্যায় বিচার পাননি ভুক্তভোগীরা। বুধবার(২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা সংবাদ কর্মিদের কাছে আসকর ফরাজি কর্তৃক অত্যাচার, নির্যাতন ও মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে নানা হয়রানীর অভিযোগ তুলে ধরেন।স্থানীয় সংখ্যালঘু নারী কবিতা মল্লিক জানান, তিনি পরিবার নিয়ে ওই এলাকার সরকারী একটি ভূমিতে কয়েক বছর ধরে বসবাস করছেন। স্থানীয় প্রশাসন তাদের ওই ভূমিতে বসবাসের জন্য বাধা না দিলেও আসকর নামক ওই ব্যাক্তি প্রতিনিয়ত তাদের উচ্ছেদ করতে হয়রানী করে আসছেন। কয়েক দফায় হামলাও চালিয়েছেন তাদের ওপর। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, তার মালিকানা মৎস্যঘেরটি জবর দখল নিতে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের এবং তাকে মারধরসহ নানা ভাবে হয়রানী করে আসছেন। মিথ্যা অভিযোগের মামলায় পঙ্গুর মোড় এলাকার কয়েকশ মানুষ আসকরের নির্যাতনে গ্রাম ছাড়ার উপক্রম হয়েছে। আসকরের নির্যাতন থেকে রেহায় পাচ্ছেনা নারী শিশুরাও। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা  রফিকুল জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগের দিন ২০ সেপ্টেম্বর আসকর ফরাজি তাদের উপর হামলা চালায়। বাধা দিতে গেলে আসকর তার নিজের ভাগ্নীর গায়ের উড়না ছিড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। সাতঘরিয়ার বাসিন্ধা সেলিম হোসেন জানান, তিনি দৈনিক মজুরীতে ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় শ্রমিকের কাজ করতে ছিলেন, আসকর ফরাজি ও তার স্ত্রী দা কুড়াল নিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যান। তাদের অভিযোগ মুলত আসকর তার স্ত্রী ও মেয়ে দিয়ে বহিরাগত লোকজন এনে অবৈধ কাজ কর্ম করে থাকেন। 

তার ওইসব কর্মকান্ড নিয়ে কেউ যেন কথা বলতে না পারে সেজন্য আসকর ফরাজি স্থানীয়দের উপর অত্যাচার নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ করেন তারা।

তবে এবিষয়ে আসকর ফরাজির দাবি,  তার বিরুদ্ধে সবাই মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তাহলে সত্য কোনটা জানতে চাইলে কৌশলে এড়িয়ে যান তিনি। 

জানতে চাইলে সুন্দরবন ইউনিয়ন পরিষদের বেসরকারী ভাবে নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান ইকরাম ইজাদ্দার বলেন, তিনি স্থানীয়দের কাছ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছেন। তবে এখনো সমাধান করতে পারেনি। স্থানীয় ইউপি সদস্য আহাদুল ইসলাম খাঁন বলেন, আসকর ফরাজির বিরুদ্ধে অনেকগুলো অভিযোগ স্থানীয়রা তার কাছে দিয়েছেন। কিন্তু আসকর ফরাজি তাদের ডাকে সাড়া না দেয়ায় তিনি ওইসসব  অভিযোগের কোন বিচার করতে পারেনি। এ বিষয়ে মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় কোন বাসিন্দা যদি আসকর ফরাজির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন সেটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। 

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •