বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাঘারপাড়ার কাতলামারী মহাশ্মশানে পৌষ মেলা উদযাপন

25

মেহেদী হাসান রিপন,বাঘারপাড়া উপজেলা প্রতিনিধিঃ

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় যশোরের বাঘারপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পৌষ মেলা কাতলা মারি মহাশ্মাশানে উদযাপিত হয়েছে। হিন্দুদের পূর্বপুরুষ দের শরন করতে মহাবতার পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের নামে পৌষ মেলা উদযাপনকে ঘিরে কাতলামারি মহাশ্মশান ছিল উৎসব ও আনন্দমুখর পরিবেশ।বৃহস্পতিবার ২৩ ডিসেম্বর এ উপলক্ষে কাতলামারি মহা শ্মশানে ছিলো নানা কর্মসূচি। অনুষ্ঠানমালায় ছিল গীতাযজ্ঞ, , কৃষ্ণপূজা, ধর্মীয় আলোচনা সভা, কীর্তন, আরতি, প্রসাদ বিতরণ, প্রভৃতি।

এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কাতলামারি মহা শ্মশানে হিন্দু সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। কাতলামারি শ্মশান কমিটির আয়োজনে সকাল থেকে বর্ণাঢ্য আয়োজনের এ উৎসব দেখতে আসে মানুষ। কাতলামরি পরিচিত ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা এই আলোচনা সভা ঘিরে বরাবরের মতো এবারও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা এলেকা জুড়ে।

উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের বাবু দীপঙ্কর অধিকারী মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে এই কির্তন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। দুপুর সাড়ে এগারো টার সময় এ-ই মহাশ্মশান এর সভাপতি বাবু দীপঙ্কর অধিকারী শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষবৃক্ষ উৎপাটনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের যারা শত্রু, তারা বাংলাদেশেরও শত্রু। এই শত্রু হচ্ছে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। আসুন, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এই অপশক্তিকে প্রতিরোধ করি। সুদিনের প্রত্যাশায় সবাইকে উদ্দীপ্ত হতে হবে।তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে নিরাপদ। এই সরকার সংখ্যালঘুবান্ধব সরকার। এই সরকার যতদিন আছে ততদিন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে এ পৌষ মেলা ও আলোচনা সভা।

তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দুদের উৎসবে অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্লোগান ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’- আবারও প্রমাণ হয়েছে।বাঘারপাড়া থানার পুলিশ সদস্যরা বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ,সবার প্রতি অনুরোধ, কারও আচরণে যেন অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগে। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।কাতলামারী মহা শ্মাশান এর সভাপতি দীপঙ্কর অধীকারি এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কাতলামারি মহা শ্মশান এর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা।উদ্বোধন শেষে দুপুরে আকর্ষণীয় আলোচনা সভা ও কির্তন শুরু হয়। কুয়াশাছন্ন আবহাওয়ার মধ্যেও হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর রঙবেরঙের পোশাকে সজ্জিত হয়ে অংশ নেন। ঢাক ঢোল বাদ্য বাজনা সহ মাইকের তালে তালে নেচে গেয়ে উৎসবমুখর করে তোলেন কাতলামারী মহা শ্মশান।কাতলামরি মহাশ্মশান পৌষ মেলা উৎসবের অংশ হিসেবে সকাল ৮টায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় গীতাযজ্ঞ কির্তন আলোচনা সভা ও কৃষ্ণপূজা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে ২৩ শে ডিসেম্বর কাতলামরি মেলাঙ্গনে দুপুর ২টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ ছাড়াও মঙ্গল আরতি, দর্শন আরতি, গুরুপূজা, শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ, হরিনাম সংকীর্তন, শ্রীকৃষ্ণ লীলামৃত, পদাবলি কীর্তন, আলোচনা সভা, গৌর আরতি, অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন...