সিদ্ধিরগঞ্জে ইজারাবিহীন পশুর হাটের ছড়াছড়ি রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজারাবিহীন মিনি পশুর হাটে সয়লাব। পবিত্র ইদুল আযহা উপলক্ষ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা স্বাস্থ্য তোয়াক্কা না করে পাড়া মহল্লা ও সড়ক দখল করে অস্থায়ীভাবে বসিয়েছে এসব হাট। থানা এলাকায় সিটিকর্পোরেশনের ইজারাকৃত হাট মাত্র চারটি। অথচ ইজারা ছাড়া মিনি হাটের সংখ্যা কমপক্ষে শতাধিক। এ কারণে রাজস্ব থেকেবঞ্চিত হচ্ছে সরকার।নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, মহামারি করোনার কারণে এবছর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মাত্র অস্থায়ী ছয়টি পশুর হাটের ইজারা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায়। সরকারি বিধি নিষেধ ও জন স্বাস্থ সুরক্ষা বিবেচনা করে সিটি কর্পোরেশন হাট ইজারা সীমিত করেছে।মিজমিজি কান্দা পাড়া এলাকার বাসিন্দা আল-আমিন জানান, করোনার কারণে সিটি কর্তৃপক্ষ পশুর হাটের সংখ্যা কমালেও একশ্রেণির স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রতিটি পাড়া মহল্লার খালি জায়গায় ও যানবাহন চলাচল বিঘিœত করে সড়ক দখল করে অবৈধভাবে ইজারা ছাড়াই বসিয়েছে মিনি হাট সরেজমিনে, সিদ্ধিরগঞ্জের নয়াআটি মুক্তিনগর, মাদানীনগর, নিমাইকাশারী, সানারপাড়, মিজমিজি, হীরাঝিল, পাইনাদী, বাতানপাড়া, শিমরাইল, কদমতলী, গোদনাইল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি মিনি হাটে ৩০ থেকে ৫০ টি গুরু রয়েছে। কসাই ও পাইকারদের সহযোগীতায় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বসিয়েছে এসব হাট। হাটে গরুর সংখ্যা ৩০ থেকে ৫০ টি। আশপাশে আড়াল করে রাখা হয়েছে তার চেয়ে বেশি। কোন গরু বিক্রি হওয়ার সাথে সাথে আড়াল থেকে গরু মিনি হাটে আনা হচ্ছে। এভাবে লোকচুরির মাধ্যমেই চলছে মিনি হাটে গরু বিক্রি। বাড়ির পাশেই গরু পাওয়া ঝুকি এড়াতে ক্রেতারা দূরে ইজারাকৃত হাটে যাচ্ছেনা।মাদনী নগর এলাকার সোহেল নামে একজন ক্রেতা জানান, বাড়ির পাশে হাট থাকতে কষ্ট করে দূরে যাওয়ার দরকার কি। তাছাড়া মিনি হাটে হাসিলার ঝামেলা নেই। তাই বাড়ির পাশের মিনি হাট থেকে আশি হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছি।মাদনীনগর চৌরাস্তায় সড়ক দখল করে মিনি পশুর হাট বসানো আসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এটা কোন হাট না। কিছু গরু এনে এখানে বেঁধে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসন কিংবা সিটি কর্পোরেশন নিষেধ করলে সরিয়ে নেব।এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ আইয়ুব নগর এলাকার অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারাদার মো: কবির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি সিটি কর্পোরেশন থেকে ইজারা নিয়ে বৈধভাবে হাট বসিয়েছি। অথচ পাড়ামহল্লায় অবৈধ ভাবে মিনি হাট বসায় ক্রেতা সংকটে পড়ে বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সিটি কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোন প্রতিকার হচ্ছেনা। নারায়ণগঞ্জ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আব্দুল আলীম এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। তবে সিটি কর্পোরেশনের এক নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুক বলেন,কোন পাড়ামহল্লায় মিনি হাট বসানো অবৈধ। এসব হাট ব্যাপারে সিটিকর্পোরেশন থেকে কোন নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লার সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা জহুরার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ যেহেতু সিটি কর্পোরেশনের আওতায় তাই সিটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।