হরিরামপুরের বাল্লা ইউনিয়নে সরকারি রাস্তা দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ

সায়েম খান, স্টাফ রিপোর্টারঃমানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের ঝিটকা উজান পাড়া গ্রামের মো. হারেজ দেওয়ান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তা (হালট) দখল করে বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে খেরুপাড়া গ্রামের মনিন্দ্র চক্রবর্তী গত ৩০ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝিটকা উজানপাড়া গ্রামের আফছার দেওয়ানের ছেলে মো. হারেজ দেওয়ান কয়েকবছর পূর্বে সরকারি রাস্তা (হালট) দখল করে বাড়ি নির্মাণ করে। তখন এলাকাবাসী তাকে বাঁধা দিলেও তিনি তা শুনেননি। ওই রাস্তাটি (হালট) ঝিটকা উজানপাড়া ও খেরুপাড়ার মধ্যবর্তী সীমানা দিয়ে ঝিটকা মাছখালি চকের ভিতর দিয়ে নতুন বাজার সংলগ্ন ঝিটকা-বাল্লা পাকা সড়কে মিলিত হয়েছে।

মনিন্দ্র চক্রবর্তী ও স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটি নিচু ছিলো। স্থানীয় এক ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে রাস্তাটি মাটি ভরাট করেছেন। পরে সরকারি বরাদ্দে রাস্তাটিতে ইট সোলিং করা হয়। বর্তমানে হারেজ দেওয়ান তার আত্মীয় বাল্লা ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য মজিবর রহমান এর মাধ্যমে ওই রাস্তার ‘সাহেব আলীর দোকান হতে জলিল দেওয়ানের বাড়ি’ পর্যন্ত আনুমানিক ১০০ ফুট অংশ সংস্কারের জন্য টিআর পাশ করিয়েছেন। তিনি শুধুমাত্র তাঁর বাড়ির সীমানা রক্ষার জন্য মনিন্দ্র চক্রবর্তীর সীমানা দখল করে বাঁশের বেড়া দিয়ে রাস্তা বৃদ্ধি করছেন। এতে মনিন্দ্র চক্রবর্তী বাঁধা দিলে হারেজ দেওয়ান ও মজিবর রহমান তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ও হুমকি দেয়

রাস্তাটির এই সংস্কার কাজ করা হলে জনগণের চেয়ে তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থই বেশি প্রাধান্য পাবে। তাই রাস্তাটির সঠিক সীমানা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এছাড়া, রাস্তাটির আগে ও পরে বেশকিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত থাকলেও সেখানে মেরামত না করে হারেজ দেওয়ান নিজের বাড়ির সীমানাটুকুতে শুধু সংস্কার কাজ করাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য হারেজ দেওয়ানের সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে, টিআর প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য মজিবর রহমান বলেন, “আমি মনিন্দ্রকে বলেছি যদি তোমার মনে হয় রাস্তার বেড়া তোমার সীমানায় পড়েছে, তাহলে তুমি সার্ভেয়ার দ্বারা পরিমাপ করো। যদি তোমার সীমানায় পড়ে থাকে তাহলে আমি সরিয়ে নিবো।” তবে তিনি হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর কথা অস্বীকার করেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মানিকুজ্জামান বলেন, ‘‘আমি ওখানে গিয়েছিলাম। ইউএনও স্যারকে বলে সরকারি সার্ভেয়ার দ্বারা ওই জায়গা পরিমাপ করাতে হবে। আমি প্রকল্পের সভাপতিকে বলেছি, সংস্কার কাজ না হলে টিআর এর টাকা ফেরত দিতে হবে। কাজ করার পরে কোন সমস্যা হলেও টাকা ফেরত দিতে হবে।’’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজ ওখানে গিয়েছিলেন। সার্ভেয়ারকেও জায়গা পরিমাপ করতে বলা হয়েছে। সার্ভেয়ারের জায়গা পরিমাপের পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।