মধুখালীতে অতি বর্ষনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাঁচা মরিচের দাম এখন বৃদ্ধি

0

পার্থ রায়, মধুখালী উপজেলা প্রতিনিধিঃফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার হাট-বাজারে গত তিন দিনের ব্যবধানে প্রতিমণ মরিচের পাইকারি দাম ২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে প্রতিমণ মরিচের দাম ৪ হাজার ৮ শ’ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এতে মরিচের পাইকারি প্রতি কেজি ১২০ টাকা এবং বাজারে এ মরিচের খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে। অতি বৃষ্টির ফলে এ এলাকার মরিচ পানিতে ডুবে ক্ষতি হয় এবং অনেক এলাকার মরিচ গাছ মরে যাওয়ার কারণে হঠাৎ মরিচের সরবরাহ কমে যায়। চাহিদার তুলনায় মরিচ সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পায়। মধুখালী উপজেলার হাটবাজার থেকে প্রতিদিন ঢাকা, খুলনা ও বরিশালসহ বেশ কয়েকটি এলাকার ব্যাপারিরা মরিচ সংগ্রহ করেন।
মধুখালীতে ৯ আগস্ট হাটে প্রতিমণ মরিচ পাইকারি দাম ছিল ২ হাজার টাকা, পরদিন ১০ আগস্ট তা বেড়ে ২ হাজার ৮ শ’ টাকা এবং তার পরের দিন ১১ আগস্ট মধুখালী সদর মরিচ হাটে কাঁচামরিচের মণ ৪ হাজার ৮ শ’ টাকায় ব্যাপারিরা কেনেন। মধুখালী মরিচ বাজারের বড় আড়ৎদার মো. আতিয়ার রহমান মোল্যা জানান, তার আড়তে ঢাকা, খুলনা, যশোরের মনিরামপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকার ব্যাপারিরা আসেন মরিচ কিনতে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলভি রহমান জানান, মানিকগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি এলাকার মরিচ শেষ হয়েছে। মধুখালী উপজেলার কিছু মরিচ অতি বৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও জানান, এ বছর মধুখালী উপজেলায় মোট ২ হাজার ৬ শ’ ৪০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। গত বছর এ উপজেলায় ২ হাজার ৬ শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছিল। এ বছর অতি বৃষ্টির কারণে উপজেলার ১ হেক্টর জমির মরিচ পুরোপুরি পানিতে ডুবে মারা গেছে এবং ১০ হেক্টর জমির মরিচ আংশিক পানিতে ডুবে ক্ষতি হয়েছে।
কৃষিবিদ আলভি রহমান আরও জানান, নীচু এলাকার মরিচ পানিতে ডুবে ক্ষতি হয়েছে বেশি। চাষি যে পরিমাণ বিনিয়োগ করেছিলেন সেটা ঘরে তুলতে না পেরে লোকসান গুনতে হয়েছে। যারা উঁচু জমিতে মরিচের চাষ করেছেন, এখন তারাই ৪/৫ হাজার টাকা মণ মরিচ বিক্রয় করে বেশ খুশি। মরিচ তুলতে প্রতি কেজি কৃষি শ্রমিককে দিতে হয়েছে ১০ টাকা, ২ হাজার টাকা মণ বিক্রয় হয়েছে বাজারে। ৪/৫ হাজার টাকা প্রতি মণ মরিচ বিক্রয় হলেও সেই ১০ টাকাই পাচ্ছেন প্রতি কেজি মজুরি মরিচের কৃষি শ্রমিক।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •