হাসপাতালে শিশুর মৃত্যু, মালিক গ্রেফতার

10

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা রাজধানীর শ্যামলীতে’আমার বাংলাদেশ’ নামক একটি বেসরকারী হাসপাতালে বিল পরিশোধ বিষয়ক দ্বন্দে চিকিৎসাধীণ জমজ শিশুকে জোর করে বের করে দেয়ায় জমজ এক শিশুর নির্মম মৃত্যু ও অপর শিশুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তির ঘটনায় হাসাপাতালের মালিক মোহাম্মদ গোলাম সরোয়ার (৫৭)কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) সকালে শ্যামলী থেকে তাকে গ্রেফতারের পর বিকালে কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাবের মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন।

ওই হাসপাতালের মালিক আটক গোলাম সরোয়ারের বিরুদ্ধে‘অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু সংঘটনের’ অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানায় র‌্যাবের এই মুখপাত্র।

তিনি জানান,শ্যামলীতে বেসরকারি হাসপাতাল “আমার বাংলাদেশ হাসপাতাল” এ সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ না করায় চিকিৎসাধীন জমজ শিশুকে জোর করে বের করে দেওয়ার ফলে জমজ এক ভাইয়ের মৃত্যু ও অপর ভাইয়ের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। এই নির্মম ও অমানবিক ঘটনাটি দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় র‌্যাব তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়ায় বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদপুর থানায় আমার বাংলাদেশ হাসপাতালের মালিক ও পরিচালককে আসামী করে একটি মামলা করলে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা এবং র‌্যাব-২ ও র‌্যাব- ৩ এর যৌথ অভিযানে আজ (৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা হতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত জানায় যে,আমার বাংলাদেশ হাসপাতালে রুগী ভর্তির লক্ষে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে দালাল নিয়োগ করা আছে। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ওই হাসপাতালে গত ২ জানুয়ারি জমজ ভ্রাতাদ্বয়কে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর হতে বিল পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়,অন্যথায় চিকিৎসা করা হবে না বলে জানায়।

ভিকটিম ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করে। অতিরিক্ত আরও টাকা প্রদানের জন্য চাপ দেয়। পরবর্তীতে আর অর্থ প্রদান না করায় চিকিৎসা বন্ধ রাখা হয় বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করে। একপর্যায়ে অর্থ না পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় জমজ ২সন্তানসহ ভুক্তভোগীদের’কে বের করে দেয়া হয়।

ওই হাসপাতাল পরিচালনার বিধি মোতাবেক সার্বক্ষনিক ৩ জন চিকিৎসক ডিউটিরত থাকার কথা থাকলেও সার্বক্ষণিক ১জন ডিউটিরত থাকত। হাসপাতালটিতে ২টি আইসিইউসহ ৩০টি বেড এর প্রাধিকার রয়েছে।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে সে উল্লেখ করে তার হাসপাতালে ৬টি আইসিইউ অর্থাৎ ৪টি আইসিইউ বেশী;তন্মধ্যে ভেন্টিলেটর রয়েছে ২টি। ৯টি এনআইসিইউ থাকলেও ইনকিউভেটর ছিল ১টি ও ১৫টি সাধারণ বেড রয়েছে। মূলত আইসিইউ কেন্দ্রিক ব্যবসার ফাঁদ তৈরি করে সে অবৈধ ব্যবসা করে যাচ্ছে বলে জানায় র‌্যাব।

নিউজটি শেয়ার করুন...