রাজধানীতে ভূয়া পরিচয়ধারী চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও সহযোগী মাদকসহ গ্রেফতার

1

মোঃ দীন ইসলামঃ

রাজধানীর মিরপুর থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এবং দেশি ও বিদেশী সংস্থার ভূয়া প্রতিনিধি পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে কথিত তরুণ চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও গবেষক ইশরাত রফিক ঈশিতাকে (আইপিসি) সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৪ এর অভিযানে রোববার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯ টায় রাজধানীর শাহ আলী থানাধীন মিরপুর-১ হতে ইশরাত রফিক ঈশিতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাবের মিডিয়া উইং কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানায়, অভিযানে ভুয়া আইডি কার্ড, ভুয়া ভিজিটিং কার্ড, ভুয়া সীল, ভুয়া সার্টিফিকেট, প্রত্যয়নপত্র, পাসপোর্ট, ল্যাপটপ, ৩০০পিছ ইয়াবা, ০৫ বোতল বিদেশী মদ এবং মোবাইল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা বর্ণিত বিষয়ে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আরো জানা, গ্রেফতারকৃত ইশরাত রফিক ঈশিতা পেশায় একজন চিকিৎসক। যিনি বিভিন্ন মাধ্যমে একজন আলোচক, চিকিৎসা বিজ্ঞানী, গবেষক, পিএইচডি সম্পন্ন, মানবাধিকার কর্মী, সংগঠক, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল পদ মর্যাদার এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন বলে ভূয়া পরিচয় প্রদান করে থাকেন। বর্ণিত ভূয়া পরিচয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে তিনি ভূয়া নথিপত্র তৈরী ও প্রচার প্রচারণা করে থাকেন। তিনি ময়মনসিংহে অবস্থিত একটি বেসরকারী মেডিকেল কলেজ হতে ২০১৩ সালে (সেশন ২০০৫-২০০৬) এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। অতঃপর জুন ২০১৪ সালের প্রথম দিকে মিরপুরের একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে যোগদান করেন। অতঃপর ২০১৪ সালে তিনি একটি সরকারী সংস্থায় চুক্তি ভিত্তিক চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ পান। সেখানে ০৪ মাস চাকুরী করার পর শৃঙ্খলাজনিত কারণে চাকুরীচ্যুত হন।

গ্রেফতারকৃত ইশরাত রফিক ঈশিতা চিকিৎসা শাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ; চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও গবেষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তার ভূয়া বিশেষজ্ঞ ডিগ্রীগুলো যথাক্রমে-এমপিএইচ, এমডি, ডিও ইত্যাদি। এছাড়া ভুয়া ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ হিসেবেও বিভিন্ন মতবাদ প্রচার করে থাকেন। বিভিন্ন সাইটে চিকিৎসা শাস্ত্রে গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ, আর্টিকেল বা থিসিস পেপার প্রকাশনাও করেছেন। তিনি মূলত অনলাইনে প্রাপ্ত বিভিন্ন গবেষণাধর্মী প্রকাশনা এডিট করে বর্ণিত গবেষণাধর্মী প্রকাশনা প্রস্তুত করেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃত ইশরাত রফিক ঈশিতা করোনা মহামারীকে পুঁজি করে ভার্চুয়াল জগতে প্রতারণায় সক্রিয় ছিলেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচক ও প্রশিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তিনি অনলাইনে করোনা প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন ও সার্টিফিকেট প্রদান করে প্রচার-প্রচারণা করেছেন। সে বিভিন্ন বিদেশীদের ভূয়া সার্টিফিকেট প্রচারণা করে অন্যান্যদের অর্থের বিনিময়ে সার্টিফিকেট গ্রহণে আকৃষ্ট করতেন।

গ্রেফতারকৃত ইশরাত রফিক ঈশিতা প্রতারণার কৌশল হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনীর র‌্যাংক ব্যাচ ও পদ অর্জনের চেষ্টা চালান। সে ফিলিপাইনে পরিচালিত একটি ওয়েবসাইট (IPC.Phil.com) হতে ৪০০ ডলারের বিনিময়ে সামরিক বাহিনীর ন্যায় “বিগ্রেডিয়ার জেনারেল” পদটি প্রাপ্ত হয় বলে জানান। এছাড়াও তিনি ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন, কাউন্টার ক্রাইম ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন ইত্যাদি সদস্য পদের ভূয়া সনদ তৈরী করে প্রচারণা চালিয়ে থাকেন।

বিভিন্ন স্থানে পরিচয় প্রদানের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীনতা এড়াতে তার “বস” হিসেবে তার সহযোগী গ্রেফতারকৃত মোঃ শহিদুল ইসলাম দিদার ভূমিকা রাখতেন। যিনি টেলিফোন/অনলাইনে এবং ক্ষেত্র বিশেষেস্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে গ্রেফতারকৃত ইশরাত রফিখ ইশিতার পরিচয় বিশ্বাস যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করতেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনলাইনে বিভিন্ন মিটিং এ বস/উপরোস্থ কর্মকর্তার বর্ণিত ভূমিকা পালন করতেন।

গ্রেফতারকৃত মোঃ শহীদুল ইসলাম দিদার ২০১২ সালে একটি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা (ইঞ্জিনিয়ার) সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি পোষ্ট গ্রাজুয়েশন ডিপ্লোমাও সম্পন্ন করেন। বর্তমানে একটি গার্মেন্টেসে কমার্শিয়াল ম্যানেজার হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন। সেও ফিলিপাইনে একই সাইট হতে অর্থের বিনিময়ে মেজর জেনারেল পদ ধারণ করেন বলে জানান। এছাড়া নিজেকে আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক); ইয়াং ওয়াল্ড লিডার ফর হিউমিনিটিসহ বিভিন্ন সংগঠনের ফাউন্ডার (প্রতিষ্ঠাতা) বা কর্ণধার হিসেবে উপস্থাপন করেন। একইভাবে তিনি দূর্নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থার দূত বা অ্যাম্বাসেডর হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।

গ্রেফতারকৃতরা যোগসাজশে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার ভূয়া সদস্য, কর্ণধার বা দূত হিসেবে দেশে/বিদেশে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে অপরাধ কার্যক্রমের সাথে যুক্ত রয়েছে। তাদের আরও বেশ কয়েকজন সহযোগী সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গিয়েছে। বর্ণিত বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

র‍্যাব জানায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •