বিস্ফোরক পরিদফতরের পরিদর্শক রবের বিরুদ্ধে তৃতীয় স্ত্রীর মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিস্ফোরক পরিদফতরের পরিদর্শক আব্দুর রব ও তার ভাই কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী হক এর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন তার তৃতীয় স্ত্রী ফাতেমা খাতুন ইতি (৩০)।
মামলা সুত্রে জানা যায়,এক ছেলেসহ এই নারীকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে করেন রব। বিয়ের পরে ফাতেমা খাতুন ইতি জানতে পারেন তার স্বামী(রবের) একাধিক স্ত্রী রয়েছে।
মামলার বাদীর ভাষ্যমতে গত ১৭/০৪/২১ ফাতেমা খাতুন ইতি বাসায় আসেন রব। কথা বলার এক পর্যায় বলেন, আমার সঙ্গে সংসার করতে হলে ৫০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। অন্যথায় সংসার করা সম্ভব নয়। তখন ফাতেমা খাতুন ইতি এই কথার প্রতিবাদ করলে চড় থাপ্পড় মেরে বাসা থেকে বের হয়ে যান। বিষয়টি রবের পরিবারকে জানালে তারা মীমাংসা করার আশ্বাস দেন। কিন্তু তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি।
তিনি বলেন,বর্তমানে আমি যে বাসায় থাকি এই বাসাটি রব ভাড়া নিয়েছে আমার সাথে সংসার করার জন্য।
ইতি বলেন,বর আমাকে বলেছে সে কোন বিয়ে করে নাই। আমার প্রথম স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের পর সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমি তাকে বিয়ে করি। বিভিন্ন নারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক জানতে পারায় এবং প্রতিবাদ করি সে তার ভাই আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন।
এদিকে বাসার মালিককে চাপ প্রয়োগ করছে ছেলেসহ আমাকে বাসা থেকে বের করার দেওয়ার জন্য এবং বাসাভাড়া সহ আমাদের খরচ সব বন্ধ করে দিয়েছে।
বর্তমানে আমার গর্ভে রবের সন্তান রয়েছে। এই কথা জানার পরে রব আরো ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১০/০৫/২১ তারিখে রাত ৯টার সময় আমার স্বামীসহ কয়েক জন লোক আমার বাসায় এসে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং গর্ভেও বাচ্চা নষ্ট করতে হবে। তা না হয় ৫০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। না হলে তালাক প্রধান ছাড়া কোন উপায় নেই।

এসময় রবের ভাই নূরে আলম সিদ্দিকী হক বলেন আপনি ব্যাংকে চাকরি করেন ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে দেন। তখন আমি অস্বীকৃতি জানালে তারা কিল ঘুষি মারতে থাকে এবং তলপেটে আঘাত করার চেষ্টা করে। এতে আমি অসুস্থ হয়ে ১৫/০৫/২১ তারিখে ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হই।
বর্তমানে আমার গর্ভের বাচ্চাসহ আমি চরম আর্থিক ও মানসিক সঙ্কটে আছি।

ইতি বলেন রব এক সন্তানসহ গত ২১/১১/২০ইং তারিখে ৫ লক্ষ টাকা কাবিন করে বিয়ে করেন। বর্তমানে আমি তিন মাসের গর্ভবতী জানার পরে আমাকে তালাক নোটিশ প্রদান করে। এবং রমনা থানায় মামলা করতে গেলে সেখানেও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমাকে কোন সহযোগিতা করেনি। উল্টো তাদের পক্ষে সাফাই গাইলেন।পরে জানতে পারি থানার ওসি তার বন্ধু।

এ বিষয়ে আবদুর রবের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এবং খুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো সদুত্তর মিলেনি।