খুদে বার্তা ছড়িয়ে ভ্যাক্সিন দ্রুত সময়ে প্রাপ্তির আশ্বাস প্রদানের নামে প্রতারণার গ্রেফতার ৪

0

মোঃ দীন ইসলামঃ

খুদে বার্তা ছড়িয়ে কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিন দ্রুত সময়ে প্রাপ্তির আশ্বাস প্রদানের নামে প্রতারণার অভিযোগে ৪ জন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

করোনা মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিশ্বের বুকে অনেক উন্নত দেশের চেয়ে আমরা সফল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শীতায় স্বল্প সময়ের মধ্যে করোনা মোকাবেলার অংশ হিসেবে দেশবাসী টিকাদান কর্মসূচী গৃহিত হয়। বিশ্বে গত ৪ জানুয়ারি ২০২১ তারিখ থেকে টিকাদান কর্মসূচী শুরু হয়। সেখানে গুটি কয়েক দেশের মধ্যে আমরা অন্যতম, যারা এক মাসের কম সময়ে টিকাদান কর্মসূচী শুরু করি। গত ২৭ জানুয়ারি ২০২১ তারিখ প্রথম টিকাদান কর্মসূচী শুরু হয় এবং ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখ থেকে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচীর শুরু হয়। করোনা মোকাবেলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক, চিকিৎসক একযোগে ফ্রন্ট লাইনার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের টিকাদান কর্মসূচীর মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমরা প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। যারা এ সংক্রান্ত যে কোন অপপ্রচার, গুজব ও প্রতারণা চালাবে তাদের রুখতে র‌্যাব সচেষ্ট থাকবে।

বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগে র‌্যাব জানতে পারে যে, কিছু প্রতারক রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালের সামনে অবস্থান করে বিদেশগামী টিকা প্রার্থীদের দ্রæত এসএমএস প্রদানের নামে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। উক্ত প্রতারণার খবর বিভিন্ন ইলেট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। উক্ত প্রতারণায় জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে।

গতকাল বুধবার (১ সেপ্টেম্বর ) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ এর আভিযানিক দল সন্ধ্যায় মুগদা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোঃ নুরুল হক (৪৭), মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩০), মোঃ ইমরান হোসেন (২৩) ও মোঃ দুলাল মিয়া (৩৭) নামের চারজন কে গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছে প্রতারণায় ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়

র‌্যাবের মিডিয়া উইং কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
জানান, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, টিকাদান কর্মসূচী শুরু হওয়ার পর থেকে গ্রেফতারকৃতরা কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের এসএমএস নিয়ে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা করে। খুদে বার্তা ছড়িয়ে প্রচারণা চালিয়ে তারা এই অর্থ আত্মসাৎ করত। দ্রুত সময়ে টিকাদানের এসএমএস পাঠিয়ে দেওয়ার নামে টিকা প্রতি আড়াই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্রটি। কেহ এসএমএস স্বাভাবিক নিয়মেই পেত আবার কেহবা প্রতারিতও হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানায়, চক্রের মূল হোতা হচ্ছে মোঃ নুরুল হক (৪৭), গ্রেফতারকৃত সাইফুল এবং ইমরান হাসপাতালের সামনে দাড়িয়ে থেকে ভিকটিমদের এসএমএম দ্রæত পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতো। অতঃপর প্রার্থীদের গ্রেফতারকৃত মোঃ নুরুল হকের নিকট নিয়ে যাওয়া হতো। নুরুল হক তখন ভিকটিমের সাথে টাকা নিয়ে দর কষাকষি করত। টাকার পরিমান নিয়ে ভিকটিমের সাথে বোঝাপড়া হয়ে গেলে, তাকে দুলালের নিকট নিয়ে যাওয়া হত। টাকার পরিমানের উপর নির্ভর করে দুলাল ভিকটিমকে আশ্বস্থ করত, কতদিনের মধ্যে এসএমএস পাওয়া যাবে।

খন্দকার আল মঈন আরো জানায়,
গ্রেফতারকৃতরা জানায়, বিশেষত বিদেশগামী যাত্রীরাই ছিল এই চক্রের মূল টার্গেট। চক্রটি রাজধানীর মুগদা, শাহবাগ, রমনা, শেরেবাংলা নগর মিরপুর, মহাখালী ইত্যাদি এলাকায় সক্রিয় ছিল। এভাবে চক্র দুইশতাধিক ভিকটিমকে প্রতারিত করেছে। এছাড়াও চক্রটি সামাজিক যোগাযোগ ও এসএমএস এর মাধ্যমে একটি খুদে বার্তা প্রচার করত। যাতে লিখা ছিল “যারা টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করছে কিন্তু এসএমএস পাইতেছে না তাদের ০১ দিন এ টিকা নিয়ে দেয়া যাবে। যারা নতুন তাদের ০৪ দিন এর মধ্যে রেজিষ্ট্রেশন করে টিকা নিয়ে দেয়া যাবে (মোবাইল নম্বর-………………..)”; J kno districk er veksin nijer districk a e daya jabe. Just passport er copy lagbe…..Ref….2500।

গ্রেফতারকৃত মোঃ নুরুল হক দীর্ঘদিন প্রবাসী ছিল। ২০১৮ সালে দেশে ফেরত এসে ভিসা জটিলতায় আর যেতে পারেনি। গ্রেফতারকৃত মোঃ ইমরান হোসেন একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকুরীরত। গ্রেফতারকৃত মোঃ সাইফুল ইসলাম রমনা এলাকায় চা বিক্রেতা (দোকানদার)। সে একটি সরকারী সংস্থায় আউটসোর্সিং হিসেবে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিল। সেসময় ফর্ম পূরণের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চাকুরীচ্যুত হয়। গ্রেফতারকৃত মোঃ দুলাল মিয়া একটি হাসপাতালের আউটসোর্সিং চালক হিসেবে নিযুক্ত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের অবস্থান ও পেশার কারণে বিদেশগামীদের সাথে সংযোগ তৈরী হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •