আশুলিয়ায় ইজিবাইক চোর চক্রের মূল হোতাসহ গ্রেফতার ৫

11

মোঃ দীন ইসলামঃ

র‌্যাব-৩ এর অভিযানে ঢাকার আশুলিয়া থেকে সংঘবদ্ধ ইজিবাইক চোর চক্রের মূল হোতাসহ ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।

আজ মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর ) দুপুর ১২ টায় র‌্যাব-৩ এর আভিযানিক দল গোয়েন্দা সংবাদে জানতে পারে যে, ঢাকার আশুলিয়া থানার জিরানি এলাকায় বিভিন্ন গ্যারেজের ভিতরে কতিপয় সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন যাবৎ চোরাই ও ছিনতাইকৃত বিভিন্ন রংয়ের ব্যাটারী চালিত চোরাই এবং ছিনতাইকৃত ইজিবাইক মজুদ করে পরে ইহার রং পরিবর্তন করে বিক্রয় করে আসছে। উক্ত সংবাদে র‌্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার জিরানি এলাকায় বিভিন্ন গ্যারেজের ভিতরে অভিযান চালিয়ে মোঃ বশির আহম্মদ (৪০),মোঃ মোস্তফা কামাল (৪৯),মোঃ জিয়াউর রহমান (২৭),মোঃ জলিল (৩২) ওমোঃ ওসমান শেখ, (৩১) নামের পাঁচ জন কে গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছে থেকে বিভিন্ন রংয়ের ব্যাটারী চালিত ১৮ টি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়।


র‍্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) বীণা রাণী দাস জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, উক্ত চক্র অভিনব কায়দায় ইজিবাইক চুরি করত। তারা প্রথমে প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাসযোগে টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জসহ পাশর্^বর্তী জেলায় গিয়ে নতুন ইজিবাইকের উপর নজরদারী করত। তারপর ইজিবাইকের সামনে গিয়ে ইজিবাইকের ড্রাইভারকে শুনিয়ে উচ্চস্বরে মোবাইলে কথা বলত “ আম্মা হাসপাতালে ভর্তি । মাঝ পথে গাড়ীটা নস্ট হয়ে গেল, কিভাবে আম্মার কাছে পৌছাঁবো। আম্মাকে গিয়ে জীবিত পাব কিনা জানি না।” তখন অপর প্রান্ত থেকে বলত, একটা ইজি বাইক নিয়ে চলে আয়। তারপর তারা ইজি বাইকের ড্রাইভারকে গন্তব্যে পৌছেঁ দেওয়ার জন্য অনুনয় বিনয় করত। এরপর ইজি বাইক যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণপর তারা জানাত, তাদের কিছু জরুরী কাগজপত্র গাড়ীতে রয়ে গেছে এবং ইজি বাইকের ড্রাইভারকে উক্ত কাগজ গাড়ী থেকে নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করত। এরপর ইজিবাইকের ড্রাইভার গাড়ী থেকে নেমে গেলে আসামীরা ভিক্টিমের ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যেত। এছাড়াও আসামীরা বিভিন্ন সময় ইজিবাইক ভাড়া করে নির্জন স্থানে গিয়ে কখনও চালকের হাত পা বেঁধে, আবার কখনও চালককে অজ্ঞান করে তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে তার ইজিবাইক ছিনতাই করত। উক্ত চক্রের সকলেই গাড়ী চালনায় পারদর্শী। উক্ত চক্রের মূল হোতা বশির। সে ইজিবাইক চুরি ও ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী। মোস্তফা প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস সরবরাহ করত। জিয়া মোবাইল ফোনে কথা বলার অভিনয় করত। জলিল ও ওসমান ইজিবাইক চালিয়ে গ্যারেজে পৌঁছে দিত। এসব চোরাই ও ছিনতাইকৃত ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক বিভিন্ন গ্যারেজে এনে লুকিয়ে রাখত।

এরপর উক্ত চক্রের মূলহোতা বশির ও তার অন্যতম সহযোগী জিয়ার সহায়তায় চোরাইকৃত ব্যাটারী চালিত ইজিবাইকের রং, সিট কভার পরিবর্তন করে একটি বাম্পার লাগিয়ে বিভিন্ন লোকজনের কাছে বাজার দামের অর্ধেক দামে বিক্রয় করে দিত। এভাবে উক্ত চক্র টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জসহ পাশর্^বর্তী জেলার বিভিন্ন এলাকা হতে বিগত ৩ বছর যাবত ৫০০ এর অধিক ইজিবাইক চুরি ও ছিনতাই করে গরীব ও নিরীহ ইজিবাইক মালিকদের সর্বশান্ত করেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়া বিভিন্ন গ্যারেজকে নিরাপদ স্থান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছে। আসামীদের এরূপ কার্যকলাপের ফলে গরীব ও নিরীহ মটর ও ব্যাটারী চালিত ইজিবাইকের মালিকগণ আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। র‌্যাবের অভিযানে উক্ত আসামীরা আটক হওয়ার ফলে গরীব ও নিরীহ ইজিবাইক মালিকদের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •