নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ “পশু বাজার” নামে ফেসবুক গ্রুপ চালু

বেলায়েত হোসেন বেলাল কোম্পানীগঞ্জ নোয়াখালী :
নোয়াখালীতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ও স্বাস্হ্যবিধি মেনে পশু ক্রয় করার জন্য ‘পশুবাজার-নোয়াখালী’ নামে একটি ব্যতিক্রমী ফেসবুক গ্রুপ চালু করেছেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক।
পশু খামারীদের সুবিধার জন্য এই অনলাইন পশুর হাটে নোয়াখালী জেলার এক লাখ ৪০ হাজার কোরবানির পশু প্রদর্শনের জন্য নোয়াখালীর চার হাজার ৩৫১ জন খামারির প্রতি অনুরোধ জানান নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান। এই ছাড়া ফেসবুকের এই পশু বাজার গ্রুপের পোস্টগুলো শেয়ার করতেও মাঝে মাঝে নিজের আইডি থেকে পোস্ট দিতে সকল পশু খামারীদের প্রতি অনুরোধ জানান জেলা প্রশাসক।
অনলাইন পশুবাজার সম্পর্কে মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান বলেন, ‘করোনার বিস্তার রোধে জনসমাগম এড়ানোর উদ্দেশে এটি একটি ডিজিটাল প্লাটফর্ম। পশুর ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ফেসবুক গ্রুপ ‘পশুবাজার নোয়াখালী’ এই সেতুবন্ধন তৈরি করবে।‘এছাড়া ও নোয়াখালী জেলার আরও অনেক খামারি নিজ উদ্যোগে অনলাইনে গরু বেচা-কেনা করছেন। তারা ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইটে গরুর ছবি দিয়ে গরু বিক্রি করছেন৷ এটা আমাদের সকলকে জনসমাগম এড়াতে সহযোগিতা করবে।’ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের অনলাইন পশুবাজারে বিভিন্ন খামারি ও গরু ব্যবসায়ীরা তাদের গরুর আকর্ষণীয় ছবি ও বিবরণসহ মোবাইল নম্বর দিয়ে পোস্ট করছেন। অনেকে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করে একে অন্যকে ট্যাগও করছেন। তবে এই গ্রুপে কী পরিমাণ পশু বিক্রি হয়েছে তা জানা যায়নি।নোয়াখালী সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও মানফাত মিট ক্যাটেল ডেইরি ফার্মের স্বত্ত্বাধিকারী অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন বলেন, ‘আমার ফার্মে তিন শতাধিক দেশি গরু রয়েছে। এগুলোকে সবুজ ঘাস, খড়, খৈল, ভূসি ও ছোলা খাওয়ানো হয়। করোনাভাইরাসের কারণে এবারও আমরা হাটে গরু না তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের ফার্মের সব গরু অনলাইনেই বিক্রি হবে। পছন্দ করে অর্ডার দিলে আমরাই নিজ উদ্যোগে ক্রেতার বাড়ি গিয়ে গরু পৌঁছে দিয়ে আসব।’কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ থেকে তিন কিলোমিটার পূর্বে চরহাজারি ইউনিয়ন কে এন অ্যাগ্রোর স্বত্ত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের খামারে শতাধিক কোরবানির পশু ছিল। আমরা অনলাইনে কেনা-বেচা শুরু করেছি। ইতোমধ্যে একজনকে আমরা ১০টি গরু পৌঁছে দিয়েছি। কেউ যদি সরাসরি এখানে এসে গরু কিনতে চায় আমরা সব সময় গরু বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত আছি।নোয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদুল ইসলাম আকন্দ বলেন, ‘জেলায় এ বছর চাহিদার চেয়েও কোরবানির পশু বেশি আছে। তাই ক্রেতাদের তেমন কোনো সমস্যা হবে না। অনলাইনে পশু বাজার থেকে পশু কেনাবেচা হলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে হবে না। জেলার সকল খামারী পশু বাজার নামে ফেসবুক গ্রুপে গরুর ছবি দাম সহ পোস্ট করলে ক্রেতা কিনতে সুবিধা হবে। সকলকে অনলাইন নোয়াখালী পশু বাজার থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে পশু কেনার জন্য অনুরোধ করেন।