নোয়াখালী জেলা আ.লীগ কমিটিতে সম্পাদক পদে আলোচনায় শীর্ষে শাহীন-সোহেল

বেলায়েত হোসেন বেলাল কোম্পানীগঞ্জ নোয়াখালী :
নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে পরিবর্তনের গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। গত সোমবার ( ২৮ জুন) নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের চলমান রাজনৈতিক সংকটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করেন নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমের সাক্ষাৎকারের খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে পরিবর্তনের আভাস প্রকাশ্যে আলোচনায় আসে। এবং জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি পরিবর্তনের আভাসটি টক অব দি নোয়াখালীতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি পরিবর্তন করে নতুন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন ও নোয়াখালী জেলা শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্যাহ খাঁন সোহেলের নাম শুনা যাচ্ছে। সভাপতি পদে আলোচনায় নিরবতা দেখা গেলেও জেলা জুড়ে সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন ও শহিদ উল্যাহ খাঁন সোহেলের নাম সরব আলোচনায় রয়েছেন। ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমকে সভাপতি ও সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দপ্তরে জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেওয়া হলেও অনুপ্রবেশকারী অন্য দলের লোক থাকায় কমিটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে বলে সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমিটি অনুমোদন দেয়নি। এদিকে এক সময়ে একরামুল করিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন ছিলেন বর্তমান নেয়াখালী জেলা শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্যাহ খাঁন সোহেল। ২০১৯ সালে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে একরামুল করিম চৌধুরীর সাথে শহিদ উল্যাহ খান সোহেলের দুরত্ব সৃষ্টি হয়।বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের অবসান ঘটতে পারে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে। তবে চমক দিয়েই নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা হতে পারে। যারা ইতিমধ্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে, বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশ রয়েছে।গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অনেককে বাদ দেওয়া হবে। ক্লিন ইমেজের নতুন ব্যক্তি এই কমিটিতে স্থান পাবে। জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা- মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল মালেক উকিলের ভাতুস্পুত্র এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীনের কর্মী-সমর্থকরা জানান, ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি হিসেবে শিহাব উদ্দিন শাহীনই জেলা আওয়ামী লী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়ার যোগ্য দাবিদার। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে চাচা আবদুল মালেক উকিলের অনুপ্রেরণায় ১৯৮০ থেকে ৮২ সালে নোয়াখালী জিলা স্কুল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে তার রাজনীতি শুরু। পরবর্তীতে নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, বৃহত্তর সদর (সদর ও কবিরহাট) উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বশেষ ২০১৩ সালে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে অদ্যবধি দলের সকল আন্দোলন সংগ্রামে প্রথম সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। শিহাব উদ্দিন শাহীন ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী এক দলীয় নির্বাচনের চলমান অসহযোগ আন্দোলনে কারা বরণ করেন শাহীন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ একাধিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

এদিকে নোয়াখালী শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্যাহ খাঁন সোহেলের কর্মী-সমর্থকরা জানান, তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন নেতা শহিদ উল্যাহ খাঁন সোহেল। ১৯৮৭ সালে হরিনারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতির পদ দিয়ে তার রাজনীতির পথ শুরু। পরবর্তীতে নোয়াখালী সরকারি কলেজের এজিএস, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সর্বশেষ নোয়াখালী শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১৬ সালের পৌর নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। দলীয় কর্মসূচিতে তার সরব অংশগ্রণ শহরবাসীর দৃষ্টি কাড়ে সব সময়। শহিদ উল্যাহ খাঁন সোহেলকে জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব দেওয়া হলে তার কাছে দল এবং কর্মী দুটোই নিরাপদ বলে দাবি করেন তার কর্মী-সমর্থকরা।নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের চলমান বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করিছি। নেত্রী আমার কথা শুনেছেন, দলীয় কর্মকান্ডের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। কমিটির বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের নেগেটিভ-পজেটিভ সবই নেত্রী দেখবেন। এবিষয়ে নেত্রীর সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত বলে গন্য হবে।