লক্ষ্মীপুরে শিক্ষক কারাগারে প্রতিবাদের ঝড়ঃ মুক্তির দাবি

6

সোহেল হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার হামছাদী ইউনিয়নের কাজির দিঘীর পাড় আলিম মাদ্রাসার গত ১৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষক মনজুর কবির ৬ ছাত্রের চুল কেটে দেয়। ২০ দিন পর গত ৮ অক্টোবর ফেসবুক গণমাধ্যম পত্রপত্রিকায় ভিডিওটি ভাইরাল হয় এরই সূত্র ধরে এক ছাত্রের মা শাহেদা বেগম গত ৯ অক্টোবর রায়পুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত শিক্ষকে ২০১৩ইং সালের শিশু নিগৃহীত আইনের ৭০ ধারা অনুযায়ী অপরাধে কারাগারে প্রেরণ করেন আদালত।র‌বিবার (১০ অক্টোবর) শিক্ষক মনজুর আলম রায়পুর আদলতে জামিন চাইলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।
আটক সহকারী শিক্ষক মনজুর কবির উপজেলার হামছাদী ইউনিয়ন এর কাজির দিঘীর পাড় আলিম মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক।এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।বিশেষ করে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর শিক্ষক মনজুরের ভক্তসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ তাদের নিজস্ব মতামত তুলে ধরে শিক্ষক মনজুরের মুক্তি দাবি করেছেন।বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খান তার ফেইসবুক পেজে লেখেন আইন প্রয়োগে বৈষম্য: মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের চুল কেটে শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হলে, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চুল কেটে শিক্ষিকা কেন কারাগারে নয় ?মাওঃ জসিম উদ্দিন লেখেন,ধানের মধ্যে যে ভাবে কিছু ছিটা থাকে, তেমনি ছাত্র ও অভিভাবকের মধ্যে কিছু বখাটে ও কুলাংগার থাকতেই পারে তাই বলে হতাশার কিছু নেই । “আমার মনে হয় এক লক্ষ ছাত্র ও অভিভাবকের মধ্যে জরিপ করলে একজন পাওয়া যাবেনা যে চুল কাটার জন্য শিক্ষককে গ্রেপ্তার করাকে সমর্থন করবে।শিক্ষকের ঋণ কখনোই শোধ করা যায় না। হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রা) ইসলামের চতুর্থ খলিফা,তিনি তার একজন উস্তাদ থেকে একটি মাত্র (হরকত) “যবর” শিখেছিলেন, এই প্রেক্ষাপটে তিনি বলেছিলেন আমার গায়ের চামড়া দিয়ে যদি উস্তাদের পায়ের জুতা বানিয়ে দেওয়া হয় তার পরেও উস্তাদের প্রতিদান শেষ হবেনা। উক্তিঃ হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রা)।এ আওয়াল রাছেল বলেন, নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়ায় শিক্ষকের হাতে হাতকড়া!!!!!আজব দেশ!!
“আজি হতে চীর অবনত হইলো
শিক্ষা গুরুর শির !!!
শিক্ষক আজ আসামী হইলো
ছাত্ররা হইলো পীর”!!!
শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির বিএসসির নিঃশর্ত মুক্তি চাই
এম নজরুল ইসলাম বলেন,ছাত্রের চরিত্র ঘটনে শিক্ষকের ভূমিকা রাখার সুযোগ না থাকলে শিক্ষক সমাজের এক যোগে পদত্যাগ করা উচিৎ।
সাইফুল ইসলাম নামে একজন ফেইস বুক ইউজার বলেন, ৪র্থ শ্রেণীতে থাকতে মাসুম বিল্লাহ হুজুর চুলের জন্য দেশীয় চপ্পল জুতা দিয়ে মেরেছিলো। স্পষ্ট আমার মনে আছে সে’দিনের কথা। মারের তীব্রতায় জ্বর বাসা বাঁধে। সাপ্তাহখানেক ক্লাশ করতে পারিনি, আর এখন চুল কাটার হেতু ধরে শিক্ষকদের জেলে যেতে হয় আসামীর কাঠগড়ার দাড়াতে হয়। মাসুম বিল্লাহ হুজুরের মারের কথা যখন আমার বাবা শুনে তখন উল্টো আমাকে শাষণ করে। আর সাম্প্রতিক এ ঘটনাতে বাবা মায়েরা কি ভূমিকা পালন করছে মাথায় ধরে না।
আমি হুজুরের সেদিনের মার’কে দোয়া মনে করি।
পাশাপাশি শিক্ষক মনজুর মুক্তি দাবি জানায়।
আলী আকবর নামে একজন লেখেনঃ
চুল মানুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এক সাইডে ছোট অন্য সাইডে বড় এটি আপনি না মানলেও বিদেশী কুত্তাদের চুলের ধরণের মত। যদি বড় রাখতে চান তবে সব সাইডে সমান্তরাল রেখে বড় রাখুন।
রাকিবুল হাসান নামে এক জন বলেন, ছাত্র‌দের বারবার সতর্ক করার প‌রেও তারা চুল ছোট ক‌রে‌নি। সেজন্য স্যার ছাত্র‌দেরকে সং‌শোধ‌নের জন্য চুল কেটে দি‌য়ে তা‌দের শিক্ষা দি‌তেই পা‌রেন। য‌দি এই এখ‌তিয়ার শিক্ষ‌কের মনজুর কবির না থা‌কে তাহ‌লে শিক্ষা‌ প্র‌তিষ্ঠান, শিক্ষক বা শিক্ষারই বা দরকার কি? তিনিও মঞ্জুল_ক‌বির_স্যা‌রের_মু‌ক্তি_চাই।
রাকিবুল হাসান নাম এক জন লেখেন,সকল স্তরের শিক্ষক দের উচিৎ পাঠদান বন্ধ করে জোরালো প্রতিবাদ জানানো,ছাত্ররা অবাধ্য বা অন্যায় কোনো কাজ করলে শিক্ষক মেধা দিয়ে, শাস্তি দিয়ে ছাত্রকে সঠিক পথে রাখবে,এটাই নিয়ম,কিন্তু কিছু বখে যাওয়া ছাত্রের চুল কেটে দেয়াতে শিক্ষক গ্রেপ্তার এটা শিক্ষতার জন্য খুব লজ্জা!গোলাম মোস্তফা লেখেন : অভিযুক্তঃশিক্ষাগুরুকে সালাম জানাই তাঁর সাহসী কাজের জন্য।
হারুনুর আল রসিদ জানায়, শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড! আমি একজন শিক্ষক হয়ে এর তীব্র বিরোধিতা করছি। নোংরামী আজকে এমন পর্যায়ে আমাদেরকে নিয়ে গেছে, মাদ্রাসা ছাত্রকে নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার কোন সুযোগ রাখে নাই।মোহাম্মদ সোহেল নামে একজন লেখেন, একজন শিক্ষক ছাত্রদের শাসন করেছেন করার অধিকার
রাখেন, চুল কাটানোর অধিকার ও শিক্ষক রাখেন, সেলুনে নিজে নিয়ে গিয়ে দাড়িয়ে থেকে ছাত্রদের চুল কাটাতে পারতেন, অথর্বা তাদের চুল কাটার নিদের্শ দিতে পারতেন, কিন্তুু নিজ হাতে কেসি নিয়ে প্রকাশ্যে ভিডিও ধারন করা ভুল অন্যায় হয়েছে হতে পারে, ছাত্রদের ও মান সম্মান আছে শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকের নিদের্শ মেনে চলা ছাত্রদের দায়িত্ব তাহলে, সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে আগামী প্রজন্মের ছাত্ররা।
আতিক উল্ল্যাহ কবির ভাষায় বলেন: আজ হতে চির-অবনত হলো শিক্ষাগুরুর শির,শিক্ষক আজ আসামীর কাঠগড়ায় ছাত্র তুই বীর।ফেসবুকে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড়ঃ শিক্ষক মঞ্জুর মুক্তি দাবি জানায় লক্ষ্মীপুর সচেতন নাগরিক,বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী , রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন সংগঠন দল-মত নির্বিশেষে শিক্ষক মুক্তি দাবি করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •