লক্ষ্মীপুরে জেলেকে পিটিয়ে হত্যা, বিচার চেয়ে পরিবারের আকুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক:লক্ষ্মীপুরের পশ্চিম চররমনী মোহন এলাকায় জেলে আবদুস শহিদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের স্ত্রী কুলছুম বেগম ও তার সন্তানরা। রবিবার দুপুরে স্থানীয় একটি পত্রিকা কার্যালয়ে সুষ্ঠু বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

নিহতের স্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আবদুস শহিদ ১৪ জুন সোমবার রাত ১০টার দিকে শশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। ওই এলাকার খাল পাড়ে সে পৌঁছলে আবদুল হক লাড়ীর ঘরে চুরির অভিযোগে আবদুস শহিদকে আটক করে গনধোলাই দেয় চেয়ারম্যান ও তার অনুসারীরা স্থানীয়রা। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় খালপাড়ে মৃত ভেবে ফেলে যায় তারা।

শহীদ বাড়িতে না যাওয়ায় খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে পরেরদিন সকালে সুপারী বাগানে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের লোকজন। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সদর হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করার পর বুধবার বিকেলে মারা যায় আবদুস শহিদ।তিনি আরো বলেন, আমার স্বামী নদীতে মাছ শিকার করতো এবং কৃষি কাজ করে সংসার চালাতো। গিয়াস উদ্দিন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ভাজিতা বাবুল ছৈয়াল সাথে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে। তারা আমাদের ১৬শ তাংশ জমি বার বার দখল করার চেষ্টা করেছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও রয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধেই তারা পরিকল্পিতভাবে আমারা
মীকে হত্যা করেছে। আমি আমার স্বামীর হত্যায় জড়িতদের শাস্তি চাই।এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের পর আসামীরা বাদী হুমকি ধামকি দিচ্ছে অভিযোগ করেন তিনি।এর আগে হত্যার অভিযোগ এনে চররমনী মোহন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা আবু ইউসুফ ছৈয়াল ও তার ছেলে আবু সুফিয়ানসহ ১৩জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১৫জনকে অজ্ঞাত আসামী করে মামলা করেন তিনি।

নিহত শহীদ চর রমনী মোহন ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মৃত আবুল হাসেশের ছেলে। তার স্ত্রী ও ৪ ছেলে রয়েছে।