লক্ষ্মীপুরে চররুহিতা শিকলবন্দি “শারীরিক প্রতিবন্ধী” মোরশেদ

16

সোহেল হোসেন লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের রিকশাচালক আজাদ হোসেনের দুই ছেলে খোরশেদ আলম (৩৪) ও মোরশেদ আলম (২৪)। মাত্র ৭ বছর বয়সেই পাল্টে যায় মোরশেদের জীবনের হিসাবনিকাশ। অস্বাভাবিক আচরণ শুরু হয় তার।এরপর তাকে কবিরাজি চিকিৎসা দেওয়া হলেও কোনো লাভ হয় না। বরং তার পাগলামি বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে তাকে ৮ বছর ধরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।অপরদিকে মোরশেদের বড়ভাই খোরশেদ আলম জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। গত ৩৪ বছর ধরে এক বিছানায় দিন কাটছে তার। এ দুই প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অর্থের অভাবে তাদের চিকিৎসা হচ্ছে না। সমাজের বিত্তবান বা সরকারি সহায়তা পেলে দুই ভাইকে চিকিৎসা করিয়ে ভালো করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের চর লামচী গ্রামে শিকলবন্দি জীবন কাটানো মোরশেদ আলমের বয়স এখন ২৪ বছর। তার বড়ভাই খোরশেদ আলমের বয়স ৩৪ বছর।পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জন্মের পর ৭ বছর পর্যন্ত ভালো ছিল মোরশেদ। হঠাৎ করে খিঁচুনি উঠে মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে যায়। মানসিক সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় গত ৮ বছর থেকে শিকলবন্দি করে রাখা হয়েছে। এখন ফ্যাল ফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকে। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না বলে জানান তার বাবা আমজাদ হোসেন। জন্ম থেকেই খোরশেদ আলম এখনো হাঁটার স্বপ্ন দেখেন।
দিনমজুর আজাদ হোসেন জানান, আগে রিকশা চালিয়ে কোনোভাবে তাদের ওষুধপত্রসহ যাবতীয় খরচ চালাতাম। কিন্তু পা ভেঙে যাওয়ায় এখন আর রিকশা চালাতে পারি না। বর্তমানে বাড়ির পাশে পান দোকান দিয়ে সংসার চালাতে হয়। কিন্তু এতে হয় না। কোনোদিন খেয়ে আবার কোনোদিন না খেয়ে থাকতে হয়। সরকারিভাবে যদি দুই সন্তানের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হয় তাহলে ছোট ছেলেটা সুস্থ হতে পারে আর বড় ছেলেটা অন্তত হুইলচেয়ারে বসতে পারলেই কিছুটা দুঃখ লাঘব হবে।
মা খুরশিদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দুই প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। ছয় মাস অন্তর ৪৫০০ টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও তা দিয়ে কিছুই হচ্ছে না। আরও সরকারি সহযোগিতার দাবি করেন তিনি।চররুহিতা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির পাটোয়ারী জানান, তারা প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। তবে হুইল চেয়ারসহ চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মামুনুর রশিদ বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে তাদের সংকট সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •