দাউদকান্দি আশরাফুল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন গ্রেফতার -৩

9

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ তিতাসের স্কুল ছাত্র অটোচালক হত্যায় জড়িত প্রধান আসামীসহ গ্রেফতার-৩।কুমিল্লার তিতাসের শাহপুরের স্কুল ছাত্র অটোচালক মো. আশরাফুল আমিন হত্যায় জড়িত প্রধান আসামীসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১,সিপিসি-২।গ্রেফতারকৃত ৩জন হলো, কুমিল্লার চান্দিনার মো. আব্দুল হালিমের ছেলে মো. রিফাত হোসেন (১৮), দাউদকান্দির মন্তুস চন্দ্র সাহার ছেলে কিশোর চন্দ্র সাহা (১৮) ও মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. সাইদুল ইসলাম (১৯)।সূত্র জানায়, ঢাকা, নরসিংদী ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার সহায়তায় প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।উল্লেখ্য, তিতাসের শাহপুর গ্রামের অটোচালক আল আমিনের ছেলে লালপুর নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণী ছাত্র মো. আশরাফুল আমিন গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধায় অটোচালানো অবস্থায় দাউদকান্দির গৌরীপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে গৌরিপুর দৈয়াপাড়া নোমান সাহেবের মাছের প্রজেক্ট এর দক্ষিণ পাড়ে খালী জায়গায় একটি আম গাছের সাথে পিছমোড়া করে হাত বাঁধা ও নাক-মুখ ও স্কচটেপ প্যাঁচানো অবস্থায় তার মৃত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর নিহতের বাবা বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই আসামীরা পলাতক ছিল।নিহতের বাবা জানায়, করোনাকালে বেকার থেকে ভিন্ন পথে যেনো না যায় এবং সংসারে কিছুটা হলেও যেনো হাল ধরে, এমন আশা নিয়েই কিনে দিয়েছিলেন অটোরিক্সাটি। কিন্তু কে জানতো এতেই সুন্দর জীবনের পরিবর্তে মৃত্যু হবে তার!র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বিকার করেছে। তারা ৩ জন হত্যার আগের দিন (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভুলিরপাড় মসজিদের মাঠে পরিকল্পনা করে যে ১টি অটোরিকশা ছিনতাই করবে। পরিকল্পনার সূত্র থেকে ঘটনার আগের দিন গৌরিপুর বাজার থেকে মো. সাইদুল ইসলাম (১৯) একটি স্কচটেপ ও একটি দড়ি ক্রয় করে। প্রথমে মো.সাইদুল ইসলাম অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য মো. রিফাত হোসেনকে মোবাইলে কল দেয় এবং কিশোরকে তাদের সাথে থাকতে বলে; তখন রিফাত কিশোরকে মোবাইলে কল দিয়ে সন্ধ্যার পরে ভুলিরপাড় ব্রীজে আসতে বলে। রিফাত ও কিশোর ভুলিরপাড় ব্রীজে মিলিত হয়ে সাইদুলকে মোবাইলে কল দেয়। মো. সাইদুল গৌরিপুরে থাকায় মো. রিফাত হোসেন ও কিশোর চন্দ্র সাহা ভুলিরপাড় ব্রীজ থেকে হাসান নামের একজনের অটো নিয়ে সাইদুলকে আনতে যায়। এরপর গৌরিপুর থেকে সাইদুলকে নিয়ে হাসানের অটোতে করে কড়িকান্দির দিকে যায় এবং কড়িকান্দিতে সুবিধা করতে না পেরে পুনরায় গৌরিপুরে চলে আসে। সেখানে ভিকটিম আশ্রাফুল আমিন অটো নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তখন সাইদুল আশ্রাফুলকে টার্গেট করে এবং কিশোর চন্দ্র সাহাকে দিয়ে অটো রিকশা ভাড়া করে নদীর পাড়ে নিয়ে যেতে বলে।এরপর হাসানের অটোতে করে রিফাত ও সাইদুল পিছু নিয়ে নদীর দিকে যায়। সেখানে লোকজন থাকায় সাইদুল মোবাইলে কল দিয়ে কিশোরকে দিয়ে অটো রিকশাটি দৈয়ারপাড় এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে আশরাফুল ভাড়ার টাকা চাইলে কিশোর সেখানে রিফাত ও সাইদুলকে ফোন দিয়ে ডেকে আনে। এরপর ৩জন একত্রিত হয়ে প্রথমে সাইদুল চাকুর ভয় দেখিয়ে মুখে হাত দিয়ে অটোচালক আশরাফুলকে আমগাছের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে কিশোর আম গাছের সাথে দড়ি দিয়ে আশরাফুলের হাত বাধে, রিফাত দুই পা আম গাছের সাথে বাধে এবং সাইদুল মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দিয়ে অটোরিকশা নিয়ে চলে যেতে চায়। রিফাত অটোরিকশা চালিয়ে কিছুদুর গিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত হয় এবং চার্জ না থাকায় অটোরিক্সাটি নিয়ে যেতে পারেনী। পরে ৩জন অটোরিকশা ফেলে যে যার মত বাড়িতে চলে যায়। রাতে রিফাত সাইদুলকে ফোন দেয় তখন সাইদুল বলে আমি সেখানে গিয়েছিলাম এবং দেখতে পাই অটোচালক মারা গেছে। ঘটনার পরের দিন সকালে রিফাত ঢাকা, কিশোর নরসিংদীতে চলে যায় এবং সাইদুল বাড়িতেই থাকে। র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এমন লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেন তিন আসামী।গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে দাউদকান্দি মডেল থানায় হস্তান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা জানান, হত্যাকারীদের মতো সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান সর্বদা অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •