অবশেষে “মনেক্কা বেগম” ফিরে পেল স্বজনদের

5

শাহ সাহিদ উদ্দিন,কুমিল্লা দেবীদ্বার প্রতিনিধিঃঢাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া চিরকুমারী মনেক্কা (মনোয়ারা) বেগম(৭৫)’কে ১ বছর ৮ মাস পর স্বজনরা খুঁজে পেলেন দেবীদ্বারে। গত বছরের ১৩ জানুয়ারী ঢাকা পল্লবীর মুসলিম বাজার এলাকার বাসিন্দা মনেক্কা বেগম পিত্রালয় থেকে নিখোঁজ হন। ওই ঘটনায় ওই বছরের ২১ জানুয়ারী তার ভগ্নীপতি মোঃ সেলিম সিকদার পল্লবী থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী করেন (ডায়েরী নং-১৮৭৫)। চলতি বছরের ২০ জুলাই (ঈদের পূর্ব রাতে) রাত সাড়ে ১২টায় কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ব্রাহ্মনবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মীরপুর পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্নে একটি দ্রুতগামী মোটর সাইকেলের ধাক্কায় ওই মহিলার পা’ ভেঙ্গে সড়কে পড়ে থাকলে পথচারিদের সহায়তায় মানষিক ভারসাম্যহীন মনেক্কা বেগম(৭৫)কে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পর ৫৬ দিন ধরে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১২নং বেডে সয্যায়ী ছিলেন। বেশ কিছুদিন ধরে বাড়ি ফেরার আকুতি জানালেও ঠিকানার অভাবে তাকে বাড়ি পাঠানো সম্ভব হয়নি। আজ মঙ্গলবার তার স্বজনদের দেখা মিলেছে। বোনের সংবাদ পেয়ে মঙ্গলবার মনেক্কা (মনোয়ারা) বেগম’র ছোট ভাই মোঃ রুহুল আমীন ও ছোট ভগ্নীপতি এস এম সোলায়মান আহাম্মেদ মঙ্গলবার সকালে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বোনের সাথে দেখা করেন। স্বজনদের দেখা পেয়ে মনেক্কা বেগম আনন্দে আত্মহারা। মঙ্গলবার সসন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে মনেক্কা বেগমের স্বজনদের সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এসময় দির্ঘদিন পাশে থেকে মায়ের আদরে চিকিৎসা সেবা দেয়া ডাক্তার, নার্স, আয়া এবং তার পাশে দাড়ানো মানবিক মানুষগুলোর অশ্রুসিক্ত হয়েছিল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসীক চিকিৎসক ডাঃ মঞ্জুর হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আবু তাহের, দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আরিফুর রহমান, ডাঃ আসমা আক্তার, ওয়ার্ড সুপার ভাইজর জিন্নাত-আরা আক্তার, সিনিয়র নার্স সুফিয়া বেগম, কফি হাউজ’র বন্ধু সদস্য গোলাম রাব্বী প্লাবন, দেবীদ্বার রোগি কল্যাণ সমিতির সদস্য সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার প্রমূখ। যে ক’জন মানবিক মানুষের সার্বিক সহযোগীতায় তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন তাদের মধ্যে দূর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা রাজারবাগ পুলিশ লাইনে কর্মরত ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার পুলিশ সদস্য মোঃ নুরুজ্জামান এবং যার সিএনজি চালিত অটো রিক্সা যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল, বড়শালঘর এলাকার সিএনজি চালক মোঃ শাহ আলম উপস্থি থাকতে পারেননি। এ দির্ঘ সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসীক চিকিৎসক ডাঃ মঞ্জুর হোসেন, ওয়ার্ড সুপার ভাইজর জিন্নাত-আরা বেগম’র চিকিৎসা সেবায় ছিলেন।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসীক চিকিৎসক ডাঃ মঞ্জুর হোসেন বলেন, তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, পায়ের ভাঙ্গা অংশ এখনো জোড়া লাগেনি। তার পেটের ব্যথা এবং শরীরে স্কিন ইনফেকশন ছিল মারাত্মক, এখন অনেকটা আরোগ্যের পথে, তবে মনেক্কা বেগম কিছুটা মানষিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় শরীরের চুলকানী বেড়েগেলে পা’য়ের বেন্ডেজটাও খুলে ফেলে দেন। তাকে দেখভালের জন্য এজন নার্স সার্বক্ষনিক রাখা হয়েছিল। স্মরণ শক্তির অভাব হলেও এখন তিনি কিছু কিছু কথা বলতে পারেন, তবে শুরু থেকে তার পরিচয় সম্পর্কে যে কথাগুলো বলে আসছেন এখনো তিনি সেই কথাগুলোই বলে আসছেন। দির্ঘদিন ধরে তার পরিবারের খোঁজ না পাওয়ায়, আমরা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পায়ের অপারেশনসহ চিকিৎসা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তার দেয়া ঠিকানায় পরিবারের সন্ধ্রান পন। আজ তার পরিবারের লোকজন এসে নিয়ে যান। কফি হাউজ’র বন্ধু সদস্য গোলাম রাব্বী প্লাবন বলেন, বিভিন্ন সময়ে মনেক্কা (মনোয়ারা) বেগমের সাথে কথা বলে তার পরিচয় নিশ্চিত হতে চাইলে প্রথম দিকে হাউ মাউ করে কেদে উঠলেও এখন কাদেন না। তিনি জানান তার বাসা ঢাকা পল্লবী থানার মীরপুর ১২ নম্বর এলাকার মুসলিম বাজারের পাশের মসজিদ সংলগ্ন, ব্লক-ডি, সড়ক-২৩, বাড়ি নং- ২৬, আমজাদ খাঁ’র বাড়ি। তিনি চির কুমারী ছিলেন,(বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি লজ্জাবনত সূরে বলেন, ১৯৬৬ সালে নবম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় এক স্কুল শিক্ষকের সাথে প্রেমে বিচ্ছেদ ঘটায় আর বিয়ে করেননি।) বাবার নাম মৃত; আনোয়ার আলী খান(আজাদ খাঁন), পেশায় রেলওয়ে কর্মকর্তা ছিলেন, দুই ভাই মোঃ আবুল কালাম (মামুন) ও মোঃ রুহুল আমিন(পনির)। ৬ বোন মনোয়ারা বেগম (মনেক্কা বেগম), রোকেয়া বেগম(রেখা), হোনেয়ারা বেগম(করুনা), হালিমা বেগম (নিলু), রেহানা পারভীন(বুলবুলি), সুলতানা পারভীন (শান্তা)। তিনি কিভাবে আসলেন, মাঝখানে এতোদিন কোথায় ছিলেন, এসম্পর্কে কিছুই বলতে পারেননি। শুধু বলেন ঢাকা থেকে হাটতে হাটতে এখানকার গোমতী নদীর পাড়ে ঘুরতে এসেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •