মেয়াদোত্তীর্ণ ১০০৫ টি সিএনজি অটোরিকশা স্ক্র্যাপ কার্যক্রম সম্পন্ন করলো বিআরটিএ চট্টগ্রাম

12

আকতার হোসেন, চট্টগ্রাম থেকে:

মেয়াদোত্তীর্ণ ২০০৫ মডেলের ১০০৫টি সিএনজি অটোরিকশা স্ক্র্যাপ করলো বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম। বুধবার (১১ মে) থেকে শুক্রবার (১৩ মে) পর্যন্ত এ ৩দিনে সর্বমোট ১০০৫ টি সিএনজি অটোরিকশা প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যে স্ক্র্যাপ করেছে সংস্থাটি। এর আগে ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিআরটিএতে ২০০৪ মডেলের মেয়াদোর্ত্তীন ৩৬১৬ টি সিএনজি অটোরিকশা স্ক্যাপকরন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। করোনা মহামারীর কারণে দীর্ঘ ১ বছর ৬ মাস বন্ধ থাকার পরে চলতি সপ্তাহে এই কার্যক্রম আবারও শুরু হয়। সিএনজি বা পেট্রলচালিত ফোর স্ট্রোক থ্রি হুইলার সার্ভিস নীতিমালা ২০০৭’ অনুযায়ী এসব অটোরিকশার বিপরীতে নতুন গাড়ি প্রতিস্থাপন করা হবে।

চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারী সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের সহকারী সচিব মো. জসিম উদ্দীন স্বাক্ষরীত ৩৫.০০.০০০০.০২০.০০৬.০১৩.১৮-৯২ সংক্ষক স্বারকে চট্টগ্রাম মহানগরীর মেয়াদোত্তীর্ণ এই সিএনজি অটোরিকশা স্ক্র্যাপ করে নতুন সিএনজি অটোরিকশা প্রতিস্থাপনের জন্য বিআরটিএ’র চেয়ারম্যানকে নির্দেশ প্রদান করা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এ ৩দিনে সর্বমোট ১০০৫ টি সিএনজি অটোরিকশা প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যে স্ক্র্যাপ করেছে বিআরটিএর এই সার্কেলটি।
চট্টগ্রাম মেট্রো এলাকার গ্যাস/পেট্রোল চালিত ৪ স্ট্রোক থ্রি-হুইলার অটোরিকশা স্ক্র্যাপ কমিটির আহবায়ক ও বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক (ইঞ্জিঃ) শফিকুজ্জামান ভুঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষনা প্রদান করা হয়। বুধবার (১১ মে) সিএনজি অটোরিকশা চট্টমেট্রো-থ-১২-৩৯৭৬ সিরিজ থেকে শুরু করে চট্টমেট্রো-থ-১২-৪৩৭৫ নং সিরিজ পর্যন্ত ৩০৫ টি গাড়ী স্ক্র্যাপ করা হয়। বৃহস্পতিবার চট্টমেট্রো-থ-১২-৪৩৭৬ নং সিরিজ থেকে চট্টমেট্রো-থ-১২-৪৭৮৮ নং সিরিজ পর্যন্ত ৩৫০ টি এবং সর্বশেষ শুক্রবার চট্টমেট্রো-থ-১২-৪৭৮৯ নং সিরিজ থেকে চট্টমেট্রো-থ-১২-৫১৭২ নং গাড়ি পর্যন্ত ৩৫০ টি সিএনজি অটোরিকশা স্ক্যাপ কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক (ইঞ্জিঃ) শফিকুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন,
চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার জন্য নিবন্ধিত টেক্সিগুলোর ইকোনমি লাইফ (সময়সীমা) ইতোমধ্যে ১৫ বছর হয়েছে। পরিবেশবান্ধক চট্টগ্রাম নগরী গড়তে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক মেয়াদোত্তীর্ণ এসব টেক্সি স্ক্র্যাপিং করা হয়েছে। স্ক্র্যাপ করার পর এসব সিএনজি টেক্সির নিবন্ধন নম্বর ও তথ্য সার্ভার থেকে মুছে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে গাড়ি মালিকদের নতুন করে গাড়ি পুনঃস্থাপনপূর্বক নতুন নিবন্ধন নম্বর দেওয়া হবে। স্ক্র্যাপকরণে বুলডোজারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও লোকবল বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করেছে।

বিআরটিএ চট্টমেট্রো-১ সার্কেলের (রেজিষ্ট্রেশন শাখা) সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) তৌহিদুল হোসেন বলেন, স্ক্র্যাপকৃত অটোরিকশার বিপরীতে নতুন অটোরিকশা রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার পাওয়ার জন্য মালিকগণ তাদের প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্রসহ সরকারী ফি জমা দিয়ে নতুন সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে বিআরটিএ কার্যালয়ে হাজির হলে আমরা রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করবো।

উল্লেখ্য, দেশে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল শুরুর পর বিআরটিএ থেকে যানগুলোর চলাচলের মেয়াদ (ইকোনমিক লাইফ) ধরা হয়েছিল ৯ বছর। মালিকদের দাবির মুখে তিন দফায় ৬ বছর বাড়িয়ে ১৫ বছর করা হয়।