প্রধানমন্ত্রীর ‘স্বপ্নের নীড়’ পেলেন রাঙ্গুনিয়ার আরও ৫০ পরিবার

এম. মতিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো।

মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে জমিসহ ঘর পেলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার আরও ৫০ ভুমি ও গৃহহীন পরিবার।

আজ রবিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় দ্বিতীয় ধাপে ঘর প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৫০ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার বিনামূল্যে দুই শতক জমিসহ এসব সেমি পাকা ঘর পান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ভোগ করতে ক্ষমতায় আসেনি, এসেছে নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে। মানুষের সেবক হিসেবেই তৃণমূলের বঞ্চিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করতে। তাই দেশের একটি মানুষও ভূমিহীন গৃহহীন থাকবে না।’

সরকারের উন্নয়ন থেকে কেউ বাদ পড়বে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি ঘর পেয়ে দুঃখী মানুষের মুখে যে হাসি দেখতে পাই এর চেয়ে বড় পাওয়া আমার জীবনে আর কিছু নেই। মানুষের জন্য মানুষ এটাই সব থেকে বড় কথা।’

উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বহলপুর গ্রামে ভিডিও কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সাংসদ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ (এমপি)।

তিনি বলেন, মুজিববর্ষে কেউ গৃহ ও ভূমিহীন থাকবে না’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ঘোষণা বাস্তবায়নে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ার ভূমি ও গৃহহীন ৬০৬টি পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। তালিকানুযায়ী প্রথম পর্যায়ে ১১৫ ও দ্বিতীয় পর্যায়ে আজ আরও ৫০ সহ ১৬৫ গৃহ ও ভূমিহীন পরিবারকে জমিসহ সেমি পাকা ঘর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা কাউকে গৃহহীন রাখবেন না। আপনারা শুধু তাঁর জন্য দোয়া করবেন।’

এসময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আবদুস সালাম, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বাবু স্বজন কুমার তালুকদার, থানা ইনচার্জ মাহবুব মিল্কি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি: শামসুল আলম তালুকদার, পৌর মেয়র আলহাজ্ব শাহাজাহান শিকদার, ভাইস-চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন খান স্বপন ও এমরুল করিম রাশেদ প্রমূখ।

উপকারভোগী জাহানারা বেগম বলেন, ‘আমার নিজের কোনো জায়গা ছিল না। অন্যের জায়গায় ভাঙা একটা ঘরে থাকতাম। জীবনে ঘর তৈরি করে বসবাস করতে পারব তা কখনো ভাবিনি। সরকারের কারণে আজ ‘‘আশ্রয় পেয়েছি, দালান পেয়েছি’’। ২ শতক জমির মালিক হয়েছি।’

আরেক উপকারভোগী জোছনা আকতার বলেন, ‘ঘর না থাকায় অসহায় ছিলাম। ঘর তৈরি করার ক্ষমতা আমার ছিল না। শেখ হাসিনার দেওয়া ঘর পেয়ে আমি খুশি। যতদিন বাঁচমু হাসিনার জন্য দোয়া করমু’

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘মুজিববর্ষে কেউ গৃহ ও ভূমিহীন থাকবে না’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ঘোষণা বাস্তবায়নে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়ার ভূমি ও গৃহহীন ৬০৬টি পরিবারের তালিকা করা হয়েছিল। রাঙ্গুনিয়ায় প্রথম পর্যায়ে আগে দুই শতাংশ জমির সঙ্গে ঘর পেয়েছেন ১১৫টি পরিবার। আশ্রয়ণ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে আজ ৫০ পরিবারকে জমির সঙ্গে ঘর দেওয়া হয়েছে। দুই কক্ষ বিশিষ্ট পাকা ঘরের সাথে আছে রান্নাঘর, বারান্দা ও বাথরুম। সুপেয় পানির জন্য রয়েছে টিউবওয়েল।’

তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি ঘরের জন্য পরিবহন খরচসহ ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ধরা হয়েছিল। এবার তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া পরিবার প্রতি ২ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে কবুলিয়ত সম্পন্ন করে দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে খাবিটা কর্মসূচির আওতায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসন কাজ বাস্তবায়ন করেছে।