চন্দনাইশে সীমানা বিরোধের জের মামলা : পাল্টা-পাল্টি সাংবাদিক সম্মেলন

11

চট্রগ্রাম দক্ষিণ জেলার চন্দনাইশ উপজেলার অন্তর্গত জোয়ারা, মোহাম্মদ পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবছার ও সাবেক ইউপি মেম্বার মোস্তাকের জায়গার সীমানা বিরোধের জের ধরে মামলা, পাল্টাপাল্টি সাংবাদিক সম্মেলন নিয়ে ভীত সন্ত্রস্ত এলাকাবাসী আশংকা করছে বড় ধরনের সহিংসতার।মোস্তাক আহমদ
ভূমিদস্যু নুরুল আবছার গং এর উপযুক্ত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে গত১০ অক্টোবর সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস. রহমান হলে চন্দনাইশ উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের ভূমিদস্যু নুরুল আবছার গং ও তার স্ত্রী মহিলা সন্ত্রাসী শাহনেওয়াজ আক্তারের উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত এবং জমির প্রকৃত মালিক মোস্তাক আহমদসহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মিথ্যা-বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রধান ভুক্তভোগী চন্দনাইশ উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তাক আহমদ। এসময় মানবাধিকার কর্মী ডাঃ আর কে দাশ রুবেলসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে মোস্তাক আহমদ পূর্ণাঙ্গ ঘটনা তুলে ধরে বলেন, উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা ফয়েজুল আলমের ওয়ারিশগণ হতে গত ১২ এপ্রিল, ২০২১ সালে ১১১৪ নাম্বার দলিলমূলে আর. এস. দাগ নং- ৫৭৬ তৎসামিল বি.এস দাগ নং-৫৩১, ০৯ (নয়) শতকের একটি জমি ক্রয় করেন তিনি। পরবর্তীতে ক্রয়কৃত নির্ধারিত জায়গার পরিমাপকৃত অংশের চারপাশে সীমানা জটিলতা নিরসনে তিনি নিজ উদ্যোগে টিনের ঘেরা বা বেষ্টনী নির্মাণ করে দেন। সীমানা নিয়ে নুরুল আবছারের সাথে বিরোধের আশঙ্কা থেকে তারা উভয় পক্ষ পারস্পরিক ঐক্যমতের ভিত্তিতে সামাজিকভাবে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সালিশি বোর্ড গঠন করা হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর পরিচালিত উক্ত সালিশি বোর্ডের রায় মোতাবেক ফয়েজুল আলম চৌধুরীর ওয়ারিশগণ হতে ক্রয়কৃত ০৯ (নয়) শতক জায়গার বর্তমান মালিক ন্যায়সঙ্গতভাবে মোস্তাক আহমদ। কিন্তুু ভূমিদস্যু ও অবৈধ দখলদার নুরুল আবছার গং পরবর্তীতে উক্ত সালিশের সাক্ষর সম্বলিত অংগীকারনামা সম্পূর্ণ অমান্য করে এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সালিশি রায় অগ্রাহ্য ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মোস্তাক আহমদের ক্রয়কৃত জায়গার উপর স্থানীয় কিছু কুচক্রী মহলের যোগসাজসে অনধিকার চর্চার হীন প্রয়াসে অপপ্রক্রিয়ায় লিপ্ত হয়। এছাড়া অভিযুক্তরা সম্পূর্ণ অনৈতিক পন্থায় জমি দখলের পায়তারা করছে ও অন্যায়ভাবে মোস্তাক আহমদের বস্তগত সম্পদ বিনষ্ট করা, প্রাণনাশের হুমকি এবং তাকে পরিবারসহ সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে তিনিসহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে চন্দনাইশ থানায় হয়রানিমূলক মিথ্যা-বানোয়াট মামলা দায়ের করেছে। তিনি আরো বলেন, গত ০২ অক্টোবর, ২০২১ ইং তারিখে নতুনভাবে শ্রমিকদের দ্বারা ক্রয়কৃত জায়গায় সীমানা বেষ্টনী দিতে গেলে চন্দনাইশ উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের স্থানীয় চিহ্নিত ভূমিদস্যু নুরুল আবছার ও তাঁর স্ত্রী মহিলা সন্ত্রাসী শাহনেওয়াজ তাদের সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয়ে অকথ্য ও অসাবলীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এক পর্যায়ে কিছু ভাড়াটিয়া মাস্তানদের মাধ্যমে তাদের দিকে তেড়ে এসে আঘাত করতে উদ্যত হয়। উল্লেখিত জমিতে এরমধ্যে তাদের অংশের বস্তগত সম্পদ তথা টিন, বাঁশ, কংক্রিটের পিলার, গাছ-গাছালি প্রভৃতি মিলে প্রায় ৮০,০০০ টাকার সমপরিমাণ সম্পদ বিনষ্ট করে নুরুল আবছার গংরা। শুধু তাই নয়, উল্টো চন্দনাইশ থানায় মোস্তাক আহমদসহ মোট ০৯ (নয়) জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে, সেই মামলা নং- ৪(১০)২১। জোয়ারা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তাক আহমদ বর্তমানে চট্টগ্রাম আদালত ভবনে এডভোকেটস ক্লার্ক হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়াও গ্রামের স্থানীয় শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডেও তিনি সম্পৃক্ত আছেন উল্লেখ করে বলেন, তার সামাজিক মর্যাদা ও ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করে তাকে পরিবারসহ সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে নুরুল আবছার গংরা। তিনি ন্যাক্কারজনক এই ধরনের হীন কর্মকান্ডের প্রতি তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানান।
উল্লেখ্য, ভূমিদস্যু নুরুল আবছার ২০১২ সালে জনৈক নুরুল ইসলামের কাছ থেকে ১২,০০,০০০ টাকায় ১৭৫৩ দলিলমূলে ০৮ (আট) শতক জমি বিক্রয় করে। কিন্তু এখনও সেই জমি অবৈধভাবে দখল রেখে উল্টো তার স্ত্রী কথিত মহিলা সন্ত্রাসীকে গত ২৩ এপ্রিল, ২০২১ইং অ-প্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব এটর্নী দলিল করতে চাইলেও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নুরুল ইসলাম কর্তৃক মৌখিকভাবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্ত্রীকে হন্তান্তর করতে ব্যর্থ হয়। নুরুল ইসলামকে জায়গা দখল বুঝিয়ে না দেওয়ায় প্রমাণিত হয় নুরুল আবছার একজন ভূমিদস্যু। সংবাদ সম্মেলন থেকে নুরুল আবছার গং এর অসদাচরণ, টিনের ঘেরা বিনষ্ট করার ক্ষতিপূরণ, তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানান ভুক্তভোগী মোস্তাক আহমদ। তিনি ও তার পরিবার ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবিতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা ও চট্টগ্রাম-১৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি’র সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করেন। উল্লেখ যে গত ২রা অক্টোবর চন্দনাইশ মোহাম্মদ পুর ইউনিয়নের দখলীয় জায়গা সীমানা ওয়াল তৈরির সময় প্রতিপক্ষের হামলায় শাহনাজ বেগম নামের এক গৃহবধুর আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সুত্রপাত।
এই দিকে মোস্তাককে ভুমি দস্যু আখ্যায়িত করে প্রতিপক্ষ আবছার গত ৬ ই অক্টোবর চন্দনাইশ মোহাম্মদ পুর এলাকায় অপর একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন।
বর্তমানে স্থানীয় এলাকাবাসী এলাকায় বড় ধরনের কোন সহিংসতার ঘটনা ঘটার আগেই এই ব্যাপারে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •