কঠোর লকডাউনেও ঠেলাঠেলি শাহ আমানত খান মাজার মসজিদস্থ হোটেলে, নাই প্রশাসনিক তৎপরতা

মোঃ কামাল হোসেন, চট্টগ্রামঃ
করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের ঘোষিত কঠোর লকডাউন সারাদেশে কড়াকড়ির মধ্য দিয়ে চলছে। অন্যদিকে নির্দেশনা অমান্য করে চট্টগ্রাম নগরীর হযরত শাহ আমানত খান (রহঃ) এর মাজার মসজিদের পাশে থাকা হোটেল গুলোতে চলছে খাবার পরিবেশন। ভিক্ষুক ও করোনাকালীন সংকটে নিমজ্জিত নিম্ম আয়ের বিভিন্ন স্থরের প্রায় অর্ধ শত মানুষ ধাক্কাধাক্কি করে ফ্রী খাবার খেতে গিয়ে করোনা কালীন সতর্কতা ও আইন কানুনের তোয়াক্কা করেনা। তাছাড়া কারো মুখে মাস্কও নাই। তাদের কারো দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে মাজার মসজিদে আগত কোন সুস্থ লোক।

মাজার মসজিদে দায়িত্বরত একজন খাদেমের নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তাদেরকে বুজাতে চেষ্টা করছি। তারা এসব আইন কানুন নিয়ম নীতি মানে না।

এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফজল আহমদ বলেন, লকডাউনে সরকারের ঘোষিত আইন কানুন মেনে চললে করোনার সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব। প্রশাসন সক্রিয় বলে রাস্তা-ঘাট বর্তমানে প্রায় জনমানবহীন। মাস্ক ছাড়া তেমন কাউকে দেখা যায় না। কিন্তু কোতোয়ালী থানা প্রশাসনের পাশে শাহ আমানত খান রহঃ এর মাজার মসজিদস্থ হোটেল গুলোতে শতশত মানুষের ব্যতিক্রম দৃশ্য মেনে নেয়া যায় না। তিনি পুলিশ প্রশাসনকে এ ব্যাপারে যথাযত ভুমিকা রাখার জন্য অনুরোধ জানান। তিনি আরও বলেন, গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠান গুলো খোলা রাখায় লকডাউনের সুফল পাওয়া যাবেনা।

জানাযায়, অকারণে যারা বাইরে ঘুরাঘুরি করছে তাদের শাস্তি, জরিমানা ও গ্রেফতার করছে পুলিশ। পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাবাহিনীর টহল লকডাউন কার্যকরে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

চট্টগ্রামে লকডাউনের নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। তল্লাশির সময় যারা বাইরে বের হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আটকের পর কাউকে কাউকে জরিমানা করে বা মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ছাড়া আইন অমান্যকারী বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠামকে জরিমানা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম নগরে আটক করা হয়েছে অনেক গাড়ি, মামলাও দেয়া হচ্ছে। নগরীর বেশ কয়েকটি সড়ক ও মোড় পরিদর্শন করে বলা যায়, এবারের লকডাউন চলছে কঠোরভাবে।