ব্রাহ্মণবাড়িয়া পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন ঘিরে চতুর্মুখী সংঘর্ষের আশংকা

9

সোহেল সরকার,ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতা:

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার আজ শনিবার অনুষ্ঠিতব্য দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সিনিয়র সহকারি জজ আদালত। গত বুধবার ১১মে এডভোকেট রঞ্জিত মালাকারের দায়েরকৃত মামলায় একটি আবেদন পর্যালোচনা শেষে আদালত এ নিষেধাজ্ঞাদেশ (আদেশ নং- ০৪, তারিখ- ১১.০৫.২২) দেন। আদালতের এক আদেশে একই সঙ্গে বিবাদীপক্ষের আপত্তি দাখিল পর্যন্ত স্থিতাবস্থার আদেশ জারী থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে দ্বিধাবিভক্ত বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখাসহ বিজয়নগর উপজেলা শাখার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আদালতে দুটি মামলা মোকদ্দমা দায়ের করা হয়। অন্যদিকে আরেকটিপক্ষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি প্রাঙ্গনে আগামী ১৪ মে শনিবার পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলনের ঘোষণা দিলে অন্য অংশের নেতৃবৃন্দও সম্মেলন আয়োজনের তোড়জোড় শুরু করে। এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে চতুর্মুখী দলে বিভক্ত হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা। তবে চতুর্মুখী দলে বিভক্ত হলেও মূলত দুটি দলই মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এ অবস্থায় ফলে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এড. রঞ্জিত মালাকার গত ১১ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে সম্মেলনস্থলে নিষেধাজ্ঞা জারীর আবেদন করেন।
জানা গেছে, ১৪ মে একই স্থানে একটি পক্ষের প্রধান অতিথি করা হয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জেএল ভৌমিকসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের। অপর একটি পক্ষ বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দারসহ জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট লোকজনেরকে অতিথি করেছেন। তৃতীয় একটি পক্ষ পূজা পরিষদের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সম্মেলন নিয়ে আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। চতুর্থ পক্ষটি কেন্দ্রীয় পূজা পরিষদের নেতৃবৃন্দের কাছে নতুন একটি আহ্বায়ক কমিটি জমা দিয়েছেন। উক্ত সম্মেলনকে ঘিরে জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ সম্মেলন নিয়ে যে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিধাবিভক্তি দলপর একটি অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য খোকন কান্তি আচার্য্য ও অপর অংশে আছেন সোমেশ রঞ্জন রায়, আরেকটি অংশে আছেন বীরমুক্তিযোদ্বা সুবোধ চন্দ্র দাস এবং চতুর্থ অংশে আছেন কাঞ্চন কুমার পাল।প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে গত (২৮ এপ্রিল) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবোধ চন্দ্র দাস বাদী এ মামলাটি দায়ের করেন (যার নং- দে: ২২৪/২২ইং)। এ মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবোধ চন্দ্র দাসসহ আরো ৬ জন। মামলায় ৯ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। মূল বিবাদী করা হয়েছে ৮ জনকে তারা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অবৈধ কমিটির সভাপতি নীতিশ রঞ্জন রায়, সাধারণ সম্পাদক সাধন চন্দ্র চৌধুরী, জেলা কমিটির সভাপতি সোমেশ রঞ্জন রায়, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব সাহা বাপ্পী, সহ-সভাপতি পরিমল রায়, মনোরঞ্জন দেব নাথ, তপন চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ রতন লাল দে। এছাড়া কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জে.এ ভৌমিককে মোকাবিলা বিবাদী করা হয়েছে।এর আগে গত ১৯ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া বারের আইনজীবী রঞ্জিত মল্লিক বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা করেন (যার নং দেঃ ১৯৬/২২)। এই মামলায় তিনি ১৩জনকে বিবাদী করেছেন। তিনি পূজা পরিষদের জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে মামলাটি করেছেন। এই মামলায় বাদী রঞ্জিত মল্লিক সম্মেলন স্থগিতের আবেদন করলে আদালত নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন।