ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধের চাহিদা বেড়েছে ২০ গুণ

2

সুমন আহম্মেদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত কয়েকদিন ধরে প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধের চাহিদা অন্তত ২০ গুণ বেড়েছে । ফলে এক ধরণের সংকট দেখা দেওয়ায় এই জাতীয় ওষুধ ফার্মেসীগুলোতে সহসাই মিলছে না।

করোনা সংক্রমণ ও জ্বর-ঠান্ডায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক তুলনায় এ ধরনের ওষুধের চাহিদা বেড়েছে বলে মনে করছেন ওষুধ ব্যবসায়ী ও ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির প্রতিনিধিরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলি, টি.এ রোড, হাসপাতাল রোড, জেল রোড, কোর্ট রোড, ছাতিপট্টি, ডা. ফরিদুল হুদা রোড ও কে. দাস মোড়ের বিভিন্ন ফার্মেসিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্যারাসিটামল গ্রুপের যেমন- নাপা, নাপা এ·ট্রা, নাপা এ·টেন্ড, নাপা সিরাপ, এইস, এইস প্লাস, রেনোভা, রেনোভা এ·আর, রেনোভা প্লাস, এ·পা, এ·পা এ·আর, টামেন, টামেন টার্বো, টামেন আল্ট্রা, টামেন এ·আরসহ এই গ্রুপের ওষুধ কম পাওয়া যাচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রামরাইল এলাকার বাসিন্দা নিয়ামুল ইসলাম বলেন, শহরের কাউতলি এলাকার একাধিক ফার্মেসিতে প্যারাসিটামল গ্রæপের সিরাপের খোঁজ করে পাইনি। পরে হাসপাতাল রোড এলাকা থেকে সিরাপটি সংগ্রহ করেছি।

হাসপাতাল রোডের পপুলার ফার্মেসীর মালিক হানিফ বলেন, “বাজারের সবচেয়ে প্রচলিত নাপা ট্যাবলেট আমরা আগে চার থেকে পাঁচ দিনে এক ব· অর্থাৎ ২০০ পিস বিক্রি করতে পারতাম। কিন্তু এখন আমরা দৈনিক পাঁচ ব· অর্থাৎ এক হাজার পিস বিক্রি করতে পারি। সে হিসেব করে বলা যায়, এই ওষুধের চাহিদা অন্তত ২০ গুণ বেড়েছে।তিনি বলেন, “করোনা সংক্রমণের পাশাপাশি সাধারণ জ্বরের জন্যও প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের খোঁজ করছেন বেশিরভাগ মানুষ। অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত ওষুধ কেনায় বাজারে এসব ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন অনেকে।

কে. দাস মোড়ের মেডিসিন কর্ণার এর সুমন বলেন, কোম্পানিগুলো ওষুধের অর্ডার নিলেও প্যারসিটামল গ্রুপের ওষুধ তেমন সরবরাহ করতে পারছেনা। যতটুকু সরবরাহ হয় তাও প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম, আবার দামেও কিছুটা বেশি। নামি-দামি কোম্পানি ছাড়া অন্যান্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের কিছুটা সরবরাহ থাকলেও সে-সব ওষুধ কেনায় আগ্রহ কম ক্রেতাদের।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বে·িমকো ফার্মাসিউটিক্যালস-এর এরিয়া সেলস একিউটিভ খন্দকার আবু শাহীন বলেন, সর্দি-জ্বরের প্রকোপ কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ওষুধ কেনাতে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। যে পরিমান উৎপাদন হচ্ছে তার চেয়ে চাহিদা বেশি। ফলে সরবরাহ করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ একরাম উল্লাহ জানান, বাজারে প্যারাসিটামল গ্রæপের ওষুধের সংকটের কথা জানার পর সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভা করা হয়েছে। তবে জেনারেল হাসপাতালসহ প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে পর্যাপ্ত প্যারসিটামল গ্রুপের সরকারি ওষুধ মজুদ রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •