নাসিরনগরের ১০ জন দুস্থ নারীর চাল আত্মসাৎ

5

সোহেল সরকার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতাঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের বুড়িশ্বর ইউনিয়নের ১০ জন অসহায় ও দুস্থ নারীর সাত মাসের চাল টিপসই জালিয়াতি করে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। আর এ অভিযোগ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারেম্যানের বিরুদ্ধে।

তবে চেয়ারম্যান এ দায় অস্বীকার করে বলেন, আমি কেবল ভিজিডি কাডে স্বাক্ষর করেছি। কিন্তু চাল বিতরণ তদারকি করেন ট্যাগ অফিসার ও ইউপি সচিব। তবে প্রতিবারই চাল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন, ভিজিডি বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব, ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দাস।

জানা গেছে,  দুই বছর মেয়াদে  ভিজিডি উপকারভোগীদের মধ্যে ৩০ কেজি চাল দেওয়ার জন্য নাসিরনগর উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কার্যালয় থেকে অনলাইনে আবেদন চাওয়া হয়। সে সময় বুড়িশ্বর ইউনিয়ন থেকে প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী আবেদন করেন। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটিতে পাঠানো হয়। সেখানে তালিকাগুলো পুনরায় যাচাই-বাচাই করে ১৫০ জনের নামের তালিকা চুড়ান্ত করে অনলাইনে প্রকাশ করেন। এর মধ্যে ১০টি নামও ছিলো। যে ১০টি নামের বরাদ্দ টিপসই জালিয়াতি করে চাল উত্তোলন করা হয়েছে। আরো জানা গেছে, তবে চাল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন, ভিজিডি বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব, ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বিশ^জিৎ দাস।

১০ জনের টিপসই জালিয়াতি করে চাল উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িশ^র ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মো. বাবুল মিয়া বলেন, চেয়ারম্যান ও ট্যাগ অফিসার উপস্থিত থেকে চাল বিতরণ করছে। এমন কি বিতরণের মাস্টাররোল চেয়ারম্যানর কাছেই থাকত। অনিয়মের বিষয়টি ট্যাগ অফিসার ও চেয়ারম্যান ভাল বলতে পারবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক সরকার দাবী করে বলেন, চাল বিতরণের বিষয়টি সচিব আর ট্যাগ অফিসার দেখভাল করেন। আমি শুধু ভিজিডি কার্ড বইয়ে স্বাক্ষর করি। আরো বলেন, আমি দলীয় নমিনেশন পেতে দীর্ঘদিন পরিষদে যেতে পারিনি। এই সুযোগে হয়ত কোন সমস্যা  হতে পারে।

৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মাহফুজ মিয়া জানান, চেয়ারম্যান আমার বন্টনে ১০ জনের নাম দিছিল। আমার ১০ জন ঠিক মত চাল পাইতেছে। এই ওয়ার্ডে আরো ৩৭ জনের নাম আছে। এই নামগুলো চেয়ারম্যান নিজে দিছে। তবে লাভলী আক্তার, ফরিদা বেগম ও রাহেলা বেগমের চাল কারা তুলতাছে এই বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।

নতুন চেয়ারম্যান ইকবাল চৌধুরী বলেন, আমি শপথ নেওয়ার পর পরিচিতি সভায় ইউনিয়ন সচিব আমাকে ১০টি ভিজিডি সুবিধাপ্রাপ্ত নারীর চাল উত্তোলনে অনিয়মের বিষয়টি জানান। তখন বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করি। তবে অনিয়মের বিষয়টি ট্যাগ অফিসার ও চেয়ারম্যান ভাল বলতে পারবেন।

 

নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও হালিমা খাতুন বলেন, ১০ জন দুস্থ নারীর টিপসই জালিয়াতি করে চাল উত্তোলন করা হচ্ছে বিষয়টি খুবই দুখজনক। ওই নারীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন...