নবীনগরের নোয়াগ্রামে বাড়ির রাস্তা নিয়ে বিপাকে ১০টি পরিবারের শতাধিক মানুষ

মো. সফর মিয়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি;ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের নোয়াগ্রামের সামছুল হক ডাইরেক্টরের বাড়ি এবং আরহাম উদ্দিনের বাড়ির মাঝে থাকা জায়গার সীমানা নির্ধারণ না হওয়ায় ১০ টি পরিবারের চলাচলের রাস্তা না থাকায় বিপাকে পরেছে প্রায় শতাধিক মানুষ। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,দীর্ঘদিন ধরে শামসুল হক ডাইরেক্টরের বাড়ির ১০ টি পরিবারের প্রায় শতাধিক মানুষ প্রতিদিন এই জায়গা দিয়ে চলাচল করে আসছে।কিন্তু বিগত কয়েকদিন আগে আরহাম উদ্দিনের বাড়ির মুন্নাফ গংরা বালু দিয়ে তাদের একটি জমি ভরাট করার ফলে উক্ত চলাচলের রাস্তার সামনের একাংশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে ডাইরেক্টরের বাড়ির লোকজনের চলাচলের বিঘ্ন ঘটে।এনিয়ে ইতিপূর্বে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কয়েক দফা সার্ভেয়ার দিয়ে মেপে সীমানা নির্ধারনে ব্যর্থ হয়।উল্লেখ্য এবিষয়ে আরহাম উদ্দিনের বাড়ির লোকজন জানান, সমাজের নীতিনির্ধারকেরা যেকোনো সুষ্ঠু সমাধান করে দিলে তা আমরা মাথা পেতে নিবো।এ বিষয়ে আরহাম উদ্দিনের বাড়ির মুন্নাফ মিয়া বলেন,যেই জায়গাটি নিয়ে ঝামেলা এটা প্রকৃত পক্ষ আমাদের বাপদাদার সম্পত্তি। বিষয়টি সমাধানে আমরা কয়েক দফা সার্ভেয়ার এনে মেপে সীমানা নির্ধারণ করতে চেয়েছি, কিন্তু দক্ষিণ পাশের মাপে উনাদের রান্নাঘর পড়ায় শাহীন সাহেব বার বার সামাজিক সিদ্ধান্ত অমান্য করেন। এছাড়া আমরা বাপদাদার আমল থেকে তাদের সাথে সুসম্পর্ক থাকায় আমাদের জায়গা দিয়ে তাদের চলাচল করতে দিয়েছি। তারা যদি নমনীয় হয় তাহলে আমরা বসে সমাধানে যেতে রাজী।সমাধান ও চলাচলের রাস্তায় জলবদ্ধতার বিষয়ে শামসুল হক ডাইরেক্টরের বাড়ির একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, আমরা আমাদের জন্মের পর থেকে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে আসতেছি।এখান দিয়ে আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যাতায়াত করে,গরু-বাছুর নিয়ে আমরা ফসিল জমিতে যায়।তারা তাদের জায়গা বালু দিয়ে ভরাট করার ফলে এখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।তাতে আমাদের ১০ টি পরিবারের প্রায় শতাধিক লোকের চলাচলে ব্যঘাত ঘটেছে,এমনকি গত কয়দিন পূর্বে মারা যাওয়া একজন মৃত ব্যক্তির লাশ বহনেও অসুবিধা হয়েছে। আমরা মাননীয় সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুল সাহেবের নিকট বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য অনুরোধ জানান। তিনি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধান করে দিয়ে জায়গাটি চলাচলের উপযোগী করে দিলে উপকৃত হব।উভয় পক্ষের মধ্যে সমাধানের বিষয়ে জানতে শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল লতিফ শাহ আলম কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি কিন্তু সীমানা নির্ধারনের জন্য সার্ভেয়ার এনে মেপে সিদ্ধান্ত দিলে এক পক্ষ মানতে চাইলেও অপর পক্ষ মানতে রাজী নয়।তাছাড়া এটি যদি সরকারি গোপাট বা সড়ক হত তাহলে আমরা শক্ত পদক্ষেপ নিয়ে বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধান করে দিতাম।তবুও এখন যেহেতু কিছু লোকের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে, আমরা পূনরায় উদ্যোগ নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবো।