জমে উঠেছে হাট ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরবানীর পশুর কোন সংকট নেই

সুমন আহম্মেদ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া :পবিত্র ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জমে উঠেছে অস্থায়ী পশুর হাটগুলো। পাশাপাশি খামারগুলোতে চলছে অনলাইনে পশু বেচা-কেনা।সদর উপজেলার ৫টি ও পৌর এলাকার ১টি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে গত শনিবার (১৭ জুলাই) থেকে। চলবে ২০ জুলাই পর্যন্ত। তবে কিছু কিছু বাজারে ঈদের দিন সকালেও পশু বেচা কেনা হবে। এসব অস্থায়ী বাজারে মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি। মুখে মাস্ক পরিধান না করেই বাজারগুলোতে যাচ্ছেন অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতা।
ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে অনলাইনে কোরবানীর পশু কেনা-বেচা করতে পারেন সেজন্য জেলা প্রানিসম্পদ কার্যালয়ের উদ্যোগে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ফেসবুক পেইজ খোলা হয়েছে। এছাড়াও অনলাইনে গরু বিক্রির জন্য ফেসবুকে পেইজ খুলেছেন বিভিন্ন খামারের পক্ষ থেকে।জেলা প্রাণীসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরবানীর পশুর কোন সংকট নেই। প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের তথ্য মতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় কোরবানীর জন্য পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৬২টি। জেলার তালিকাভুক্ত ১২ হাজার ৩৭০টি খামারে কোরবানির জন্য লালন-পালন করা হয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪৭৭টি পশু। জেলায় চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু রয়েছে ৩ হাজার ৭১৫টি। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা কোরবানীর হাটে বিক্রির জন্য পশু লালন-পালন করেছেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পবিত্র ঈদ-উল- আযহা উপলক্ষে সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদর উপজেলায় ৫টি ও পৌরসভার উদ্যোগে ১টি অস্থায়ী পশু হাট করা হয়েছে। এ সব হাটে ১৭ জুলাই থেকে বিক্রেতারা তাদের পশু নিয়ে আসছেন। এসব অস্থায়ী বাজার গুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গরু ব্যবসায়ীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গত ১৭ তারিখ থেকে বাজারগুলোতে পশু আসতে শুরু করলেও প্রথমদিকে বেচা-বিক্রি ছিলো তুলনামূলকভাবে একটু কম। ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে তাদের পছন্দসই পশু দেখছেন। পৌর এলাকার ভাদুঘর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের পশ্চিমে পৌরসভার উদ্যোগে করা হয়েছে অস্থায়ী পশুর হাট।সোমবার দুপুরে সরজমিনে বাজারটিতে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন এলাকা থেকে বাজারে গরু, ছাগল, মহিষ নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা। তবে তারা স্বাস্থ্য বিধি মানছেন না।কিশোরগঞ্জ জেলার কুরিয়ারচর উপজেলা থেকে আসা বিক্রেতা সাঈদ মিয়া বলেন, তিনি ৬টি গরু নিয়ে শনিবার বাজারে এসেছেন। সোমবার দুপুর পর্যন্ত ২টা গরুও বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, বাজারে ক্রেতা কম। ক্রেতারা এসে শুরু দেখছেন। তিনি বলেন, আশাকরি আজ গরুগুলো বিক্রি করতে পারবো।
কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলা থেকে ১২টি গরু নিয়ে রোববার সকালে বাজারে এসেছেন কামাল মিয়া। তিনি বলেন, সোমবার দুপুর পর্যন্ত তিনি ১টি গরুও বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, বাজারে ক্রেতা কম। বিকেলের দিকে হয়তোবা ক্রেতা বাড়বে।ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের বিজেশ্বর গ্রামের মকিম মিয়া শনিবার সকালে ৬টি গরু নিয়ে এসেছেন বাজারে। তিনি বলেন, তার গরু বড় আকৃতির। তার কাছে তিন লাখ ও দুই লাখ টাকা মূল্যের গরু রয়েছে। তিনি বলেন, অনলাইনে বাড়ি থেকে দুইটি গরু বিক্রি করেছেন কিন্তু গত দুইদিনে বাজারে একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি। সদর উপজেলার মজলিশপুর থেকে একটি বড় গরু নিয়ে বাজারে এসেছেন আবু বক্কর নামে একজন বিক্রেতা। তিনি বলেন, তিনি তার গরুর দাম চাচ্ছেন ৬ লাখ টাকা। গরুটিতে কমপক্ষে ১৪ থেকে ১৫ মন মাংস হবে। আবু বক্কর দাবি করেন সোমবার দুপুর পর্যন্ত তার গরুটিই ভাদুঘর বাজারের সবচেয়ে বড় গরু।
বাজারে গরু কিনতে আসা পৌর এলাকার ফুলবাড়িয়ার রিয়াদ বলেন, তিনি গরু দেখেছেন। মঙ্গলবার গরু কিনবেন।বাজারে আসা শফিকুল আলম নামে একজন জানান, তিনি এসেছেন দেখতে। তিনি বলেন, গত ১ সপ্তাহ আগেই তিনি অনলাইনে দেখে কোরবানীর জন্য গরু কিনেছেন। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে বাজার হবে কিনা এই শঙ্কায় অনেকেই অনলাইনে খামারগুলো থেকে গরু কিনে ফেলেছেন। ভাদুঘর গরুর বাজারের ইজারাদারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি মোঃ পলাশ মিয়া বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত পরিমানে কোরবানীর পশু আসলেও বেচা-বিক্রি কম। তিনি বলেন, আশা করি সোমবার বিকেল থেকে বাজারে ক্রেতা বাড়বে। বেচা-কেনা বাড়বে।এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ বড়–য়া বলেন, গরুর বাজারগুলোতে ¯^াস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজারগুলোতে ৬টি মোবাইল টীম কাজ করছে। তিনি বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য বাজারগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমানে পুলিশসহ আইন-শৃংখলার বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। গরু বিক্রেতাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ এ.বি. এম সাইফুজামান বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরবানীর পশুর কোন সংকট নেই। জেলায় কোরবানীর জন্য পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৬২টি। পশু আছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪৭৭। চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু রয়েছে ৩ হাজার ৭১৫টি। তিনি বলেন, বাজারগুলোর পাশাপাশি অনলাইনেও কোরবানীর পশু বিক্রি করা হচ্ছে। অনলাইনে পশু কেনা-বেচার জন্য জেলার প্রতিটি উপজেলায় ফেসবুক পেইজ খোলা হয়েছে। এতে খামারিদের যাবতীয় পশুর তথ্য আপলোড করা হচ্ছে। ইতিমধেই বেশ কিছু খামারে অনলাইনে গরু বিক্রি শুরু হয়েছে।