আখাউড়ায় নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন প্রবাসীর স্ত্রী

12

সুমন আহম্মেদ জেলা প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ মধ্যপাড়া গ্রামে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সামশুন্নাহার(৩১) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রী। এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আখাউড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে অভিযুক্ত অত্যাচারী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।নির্যাতন ও হয়রানির শিকার ওই নারী ও তার সন্তান, মামলা সূত্রে জানা যায় আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ মধ্যপাড়া গ্রামের সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী আতাউর রহমান রিপন দীর্ঘদিন যাবৎ প্রবাসে থাকার সুযোগে প্রতিবেশী গিয়াস মিয়ার ছেলে সাকিব,মাহিন ও আব্বাস মিয়ার ছেলে রুমান,বরকত প্রায়ই ওই প্রবাসীর মানষিক ভাবে বিকাশ না ঘটা সহজ-সরল ছেলে রায়হানকে(১৩),টাকার জন্য নির্যাতন করত। এতে রাজি না হলে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রায়হান বাড়ির পাশের মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে উল্লেখিত ওই চারজন মিলে তাকে আটক করে টাকা চায়। রায়হান টাকা দিতে না পারায় তাকে সবাই মিলে মারতে শুরু করে। পরে মসজিদের নামাজ পড়তে আসা গ্রামের অন্যান্যরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেয়।

এই ঘটনায় সামশুন্নাহার ওই গ্রামের সর্দার ও গন্যমান্য ব্যাক্তিদের কাছে বিচার জানান। বিচার জানানোর কারণে ওইদিন রাতেই বাপ-চাচা সহ সাকিবদের গোষ্ঠীর লোকজন মিলে প্রবাসী রিপনের বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়ির প্রবেশ মুখের গেইট বন্ধ থাকায় গেইটে দা-লাঠি দিয়ে আঘাত করে ভাঙ্গার চেষ্টা করে। এবং এই ব্যাপার নিয়া বাড়াবাড়ি করলে ছেলেকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে, সবাইকে প্রাণনাশের হুমকি সহ অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে।পরে ২৪ তারিখ রায়হানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে, আখাউড়া থানায় এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে অভিযোগ করার পর থেকে অভিযুক্তদের পরিবার ও এলাকার মেম্বারের হুমকিতে গৃহবধূ ও তার পরিবার পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ওই প্রবাসীর স্ত্রী।সরজমিনে মনিয়ন্দ গ্রামে গেলে অভিযুক্ত সাকিব ও তার বাবা গিয়াস মিয়া বলেন, ছেলেদের মাঝে মারামারির ঘটনা ঘটেছে সত্য তবে এ নিয়ে কোন ধরনের হুমকি দেয়া হয় নাই।এ ব্যাপারে মনিয়ন্দ গ্রামের মেম্বার আপেল মিয়া জানান, ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ এসে সামাজিক ভাবে ঘটনাটি সমাধানের জন্য বলেন। তখন আমি ওই প্রবাসীর স্ত্রীকে বিষয়টি সামাজিক ভাবে বসে শেষ করার জন্য বললে ও তিনি রাজি হোন নাই। এছাড়া আমি আর কোন প্রকার হুমকি প্রদান করি নাই।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আখাউড়া থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) মোঃ মইন জানান, ওই এলাকার মেম্বার ও সর্দাররা বিষয়টি বসে সমাধান করবেন বলে আমাকে জানিয়েছিল কিন্তু তারা তা পারেনি। রায়হানের চিকিৎসা শেষে তারা ফিরে এলেই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হুমকির বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •