পটুয়াখালীর ২,৭৮১টি পরিবার পেল প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি।। “মুজিব শতবর্ষে বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না” -মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার সকাল সাড়ে দশটায় একযোগে ৫৩,৩৪০ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ নতুন ঘর উপহার দিয়েছেন। গণভবন হতে দেশের ৬৪ জেলার ৪৯২টি উপজেলার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর প্রদান অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মতিউল ইসলাম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক, পটুয়াখালী; তানিয়া ফেরদৌস, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মির্জাগঞ্জ; খান মো. আবু বকর সিদ্দিকী, চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ, মির্জাগঞ্জ; এইচ, এম, মহিববুল্লাহ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) , মির্জাগঞ্জ থানা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনের সকল বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিগণ, উপকারভোগীগণ এবং সাংবাদিকবৃন্দ।

কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মির্জাগঞ্জ উপজেলার উপকারভোগীদের হাতে ঘরের সনদসহ অন্যান্য কাজগপত্র তুলে দেন জেলা প্রশাসক মোঃ মতিউল ইসলাম চৌধুরী সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। এছাড়াও পটুয়াখালী জেলার অন্য সাতটি উপজেলায় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ ও সাংবাদিকবৃন্দের উপস্থিতিতে উপকারভোগীদের হাতে ঘরের সনদ তুলে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় পটুয়াখালী জেলার ০৮টি উপজেলায় ২য় পর্যায়ে সরকার ২,৭৮১টি ঘর বরাদ্দ প্রদান করে। প্রতিটি ঘরের মূল্য ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) টাকা করে অতিরিক্ত পরিবহন ও জ্বালানী সহ মোট ৫৪,৭০,৬১,০০০ (চুয়ান্ন কোটি সত্তর লক্ষ একষট্টি হাজার) টাকা। পটুয়াখালী জেলায় বরাদ্দপ্রাপ্ত ২৭৮১ টি ঘরের মধ্যে ১৯৫৮ টি ঘর আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। যার মধ্যে সদর উপজেলায় ৮৭০ টি, মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ৬০ টি, দুমকি উপজেলায় ৩০টি, বাউফল উপজেলায় ১২ টি, দশমিনা উপজেলায় ১০০ টি, গলাচিপা উপজেলায় ১০০ টি, কলাপাড়া উপজেলায় ১১০ টি এবং রাঙ্গাবালী উপজেলার ৬৭৬ টি। প্রতিটি বাড়ি দৃষ্টিনন্দন ডিজাইনে উন্নত মানের সরঞ্জামে তৈরি। সেমিপাকা প্রতিটি গৃহে ২ টি বেডরুম, ১ টি রান্নাঘর, ১টি বাথরুম এবং বারান্দা রয়েছে। উপরে রয়েছে উন্নতমানের রঙ্গীন টিন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবীক্ষণ ও সুপারভিশনে এই কর্মযজ্ঞ সম্পাদিত হচ্ছে। এই ঘরগুলোর জন্য কবুলিয়ত, দলিল সম্পাদন, নামজারী ও সনদ এর আনুষঙ্গিক খরচ সরকার বহন করছে। নির্মিত ঘরসমূহে পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থাও সরকার বিনামূল্যে করে দিয়েছে। ইতোপূর্বে ১ম পর্যায়ে গত ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পটুয়াখালী জেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ২১৩১ টি গৃহ প্রদান করা হয়েছে।