নৌকার হাল ধরতে আউলিয়াপুরের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মুজাহিদ প্রিন্স

100

মিজানুর রহমান অপু, 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন-২০২১ কে সামনে রেখে নৌকার হাল ধরতে আউলিয়াপুরের মাঠ ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন পটুয়াখালী সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স। গত ২২ সেপ্টেম্বর (বুধবার) নৌকা প্রত্যাশী মুজাহিদ প্রিন্সের কর্মীরা আউলিয়াপুরে বিশাল মটর সাইকেল শোডাউনের আয়োজন করে। পশ্চিম আউলিয়াপুর শরীফবাড়ি ঈদগাঁহ থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি ইউনিয়নের প্রতিটি বাজার,পাড়া-মহল্লা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শরীফবাড়ি ঈদগাঁহে এসে শেষ হয়।

শোডাউনে জনগণের উপচে পড়া ভীড় ছিলো চোখে পরার মতো । ১৫ বছরের শিশু থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধেরও উপস্থিতি মিলেছে মুজাহিদ প্রিন্সের সেই গণসংযোগে।প্রতিটি বাজারে তিনি শোডাউন থামিয়ে শুনেছেন মানুষের কথা। প্রতিটি মানুষ এখন পরিবর্তন চায় বলে জানিয়েছে আউলিয়াপুর ইউনিয়নবাসী।
সারেজমিনে দেখা যায় অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় জনসমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন তরুন নেতা মুজাহিদ প্রিন্স ।

স্থানীয় জনগণের সাথে কথা বলে জানা যায়, মুজাহিদ প্রিন্স বিগত পাঁচ বছরের অধিক সময় থেকেই সরাসরি আউলিয়াপুর ইউনিয়নবাসীর সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছে ঘরের ছেলে হয়ে।গত ৫ বছর ধরে ইউনিয়নবাসীদের শিক্ষা,চিকিৎসাসেবা সহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা প্রদান করে আসছেন মুজাহিদ প্রিন্স। বিনাস্বার্থে মানুষের পাশে থেকেছেন সবসময়।

৭০ বছর বয়সের এক বৃদ্ধ আব্দুল হালিম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, প্রিন্স আমার ঘরের পোলা।সবসময় আমাগো সুযোগ সুবিধার কথা ভাবে। অনেক নেতার পিছে ঘোরতে ঘোরতে জুতার তলি ক্ষইয়া যায়, কিন্তু আমার পোলা প্রিন্সরে একটা ফোন দেলেই যথেষ্ট।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স ইউনিয়নের গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, সরকারি – বেসরকারী বিভিন্ন শিক্ষা অনুদান পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন নিজ উদ্যোগে। অস্বচ্ছল গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেবদূতের মতো। বহু শিক্ষার্থীর রেজিষ্ট্রেশন, ফরমফিলাপ নাম মাত্র টাকা নিয়ে করে দিয়েছেন।অনেকের আবার করে দিয়েছেন একেবারে বিনামূল্যে।

একজন কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী বলেন,আমি টাকার অভাবে ফরমফিলাপ করতে পারিনি।ফরমফিলাপের শেষ দিন আমি প্রিন্স কাকাকে ফোন দিয়ে আমার সমস্যার কথা জানালে তিনি আমার ফরম ফিলাপের ব্যাবস্থা করে দেয়।এরপর থেকে সবসময় প্রিন্স কাকা আমার খোঁজ খবর রেখেছেন। যেকোন সমস্যায় তিনি আমার মতো আরো বহু মানুষের পাশে থেকেছেন সর্বদা। আগামী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আমরা পরোপকারী প্রিন্স কাকাকেই চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আউলিয়াপুর ইউনিয়নের জনসাধারণের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য মুজাহিদ প্রিন্সের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক টিম কাজ করে।ইউনিয়নের যেকোন গরীব রোগীর চিকিৎসা সেবার জন্য সব ধরনের সহযোগীতা করে এই স্বেচ্ছাসেবক টিম।একেবারে স্বল্প মূল্যে নাম মাত্র অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয় বলে জানা যায়। এছাড়াও পটুয়াখালী ঈদগাহ মাঠের বিপরীতে মুজাহিদ প্রিন্সের প্রতিষ্ঠিত বিসমিল্লাহ ক্লিনিক ২৪ ঘন্টা সেবা দিয়ে যাচ্ছে রোগীদের। ক্লিনিকটির ব্যাবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। এছাড়াও তিনি আউলিয়াপুর ইউনিয়নে ফ্রী স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প,ফ্রী চক্ষু শিবির ক্যাম্পের আয়োজন করে থাকে বলে সূত্র জানায়।

আব্দুস সোবহান নামের এক ব্যাক্তি বলেন,ফ্রী ক্যাম্পে আমার চোখের অপারেশন করিয়েছিলাম।এখন আমি সম্পূর্ণ সুস্থ। অপারেশন করতে যত টাকার দরকার ছিলো তা আমার সামর্থ্যের বাইরে।ফ্রী চোখের অপারেশন না করাতে পারলে আমার অপারেশন করানো হতো না, হয়তো আমি অন্ধ হয়ে যেতাম। মুজাহিদ প্রিন্স আমার ছোট ভাইয়ের মতো, আমরা চাই এবারের নির্বাচনে পরিবর্তন আসুক।

পলাশ,অন্তর,অপু সহ একাধিক শিক্ষার্থী জানান,ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি ক্রীড়া সংগঠন নামে থাকলেও বহুদিন তা একেবারেই বন্ধ ছিলো।সংগঠনগুলোকে মুজাহিদ প্রিন্সের তত্বাবধানে পুনরায় চালু করে ইউনিয়নে প্রতিবছর বিভিন্ন খেলাধুলা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ক্রিকেট, ফুটবল সহ বেশ কয়েকটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে মুজাহিদ প্রিন্স। প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান করা হয় ঝমকালো আয়োজনে। ধারাবাহিকভাবে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত,এজন্য আমরা মুজাহিদ প্রিন্সকে ধন্যবাদ জানাই। ক্রীড়া চর্চার মধ্যে থাকলে যুবসমাজ নেশার মরণ থাবা থেকে নিজেকে আলাদা রাখতে সক্ষম হয়।আমরা চাই এই ধারাবাহিকতা অব্যহত থাকুক।

শুধু খেলাধুলাই নয় মুজাহিদ প্রিন্সের নেতৃত্বে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে এগিয়ে যাচ্ছে আউলিয়াপুর।

বিশিষ্ট বাউল শিল্পী মানিক দেওয়ান বলেন,পটুয়াখালী জেলায় মুজাহিদ প্রিন্স সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার নেতৃত্বে পটুয়াখালী জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন দীপ্তি ছড়িয়েছে দেশের বাইরেও।তার প্রতিষ্ঠিত সংগঠন সুন্দরম একাধিকবার দেশের বাইরে তাদের নাটকের দল নিয়ে হাজির হয়েছে।যা শুধুমাত্র মুজাহিদ প্রিন্সের জন্যেই সম্ভব হয়েছে। আমরা যারা গান করি তাদের বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনের সুযোগ করে দিয়েছেন মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এই পুরোধা ব্যাক্তিত্ব যদি আউলিয়াপুরের দায়িত্ব নেয় তবে বদলে যাবে আমাদের আউলিয়াপুর। আমরা আগামী ইউপি নির্বাচনে মুজাহিদ প্রিন্সকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই।

জানা যায়, মুজাহিদ প্রিন্স বর্তমানে জেলা পর্যায়ে এবং জাতীয় পর্যায়ের বেশ কিছু সংগঠনের দায়িত্ব পালন করছেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে।

তিনি বর্তমানে জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক,স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন সুন্দরমের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, পটুয়া খেলাঘর আসরের প্রতিষ্ঠাতা ও খেলাঘর জাতীয় পরিষদের সদস্য,কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার সাংগঠনিক সম্পাদক,বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য, পটুয়াখালী আবৃত্তি মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরাম পটুয়াখালী’র সাধারণ সম্পাদক, পটুয়াখালী সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সহ বেশ কিছু সংগঠনের দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি পটুয়াখালী পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-আহবায়কের দায়িত্ব পালন কালে বিরোধী দলের হামলা মামলার স্বীকার হয়েছেন বহুবার। বহু নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে তাকে এবং তার পরিবারকে।

শুধু আওয়ামী লীগ করার অপরাধে তার স্কুল শিক্ষক বাবাকেও জেল খাটতে হয়েছে বিএনপির আমলে।

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে মুজাহিদ প্রিন্স বলেন, আমি মানুষের পাশে থেকে মানুষের জন্যে কাজ করতে চাই।আমার বিশ্বাস আমি যদি সুযোগ পাই তবে আউলিয়াপুর ইউনিয়ন হবে উন্নয়নের রোল মডেল ।আমার গ্রাম হবে আমার শহর” মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •