গলাচিপায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন

1

সঞ্জীব কুমার সাহা, গলাচিপা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা:
পটুয়াখালীর গলাচিপায় যৌতুকের দাবিতে পলি বেগম (২৪) নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতন ও তার ভাই আজিজুলকে (৩৫) মারধর করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী আল আমিনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৩১ জুলাই) সকালে উপজেলার চব্বিশ ইউনিয়নের চরবাংলা গ্রামে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ পলি বেগম ওই গ্রামের নুরু সিকদারের মেয়ে। স্থানীয়রা শনিবার পলি ও আজিজুলকে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে·ে ভর্তি করেন। নির্যাতনকারী আল আমিন একই গ্রামের মৃত নূর ইসলাম ফকিরের ছেলে। এ ঘটনায় গৃহবধূ পলি বেগম শনিবার রাতে স্বামী আল আমিন (৩০), আনোয়ার ফকির (৩৫), সাহা তালুকদার (৫০), রাজ্জাক মাতবরের (৭০) নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ২/৩ জনের বিরুদ্ধে গলাচিপা থানায় অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরবাংলা গ্রামের নুরু সিকদারের মেয়ে পলি বেগমের সঙ্গে গত ১৪ বছর পূর্বে একই গ্রামের মৃত নূর ইসলাম ফকিরের ছেলে আল আমিনের ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আল আমিন স্ত্রী পলির কাছে ১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় আল আমিন দিনের পর দিন পলিকে মারধর করত। মারধর ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত কয়েক দিন পূর্বে পলি তার বাবার বাড়ি চলে যায়। গত শনিবার সকাল ৮টার দিকে আল আমিন, আনোয়ার ফকির, সাহা তালুকদার, রাজ্জাক মাতবর ও আরও কয়েকজন মিলে পলির বাবার বাড়িতে গিয়ে পলির কাছে যৌতুকের টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা সবাই মিলে পলিকে এলোপাথারী মারধর করে। এ সময় আজিজুল তার বোনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করে। পলি ও আজিজুলের ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে খুন জখমের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।
এ ব্যাপারে নির্যাতনের শিকার পলি বেগম বলেন, ‘শনিবার (৩১ জুলাই) সকালে যৌতুকের টাকার জন্য আমার স্বামী আল আমিন লোকজন লইয়া আমার বাবার বাড়িতে এসে আমাকে ও আমার ভাই আজিজুলকে অনেক মারধর করে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’এ বিষয়ে মুঠো ফোনে আল আমিনের কাছে জানতে চাইলে তার ফোনটি বন্ধ থাকায় কোন মন্তব্য নেওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমআর শওকত আনোয়ার ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •