ভারী বৃষ্টিতে বেতাগীতে ৮টি মাছের ঘের প্লাবিত

0

মোঃ খাইরুল ইসলাম মুন্না
বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে গত চারদিনের অতিবর্ষণ আর ঝড়ো বাতাসে দক্ষিণা উপকূলের জেলা বরগুনার বেতাগী উপজেলার জীবনযাত্রা থমকে গেছে। এখানে অতি ভারী বর্ষণে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

ভারী বর্ষণের পাশাপাশি নদ-নদীতে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে জোয়ার প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এলাকায় অসংখ্য পুকুর, ঘের পানিতে ডুবে অনেক মাছ ভেসে গেছে। আউশ খেত, আমনের বীজতলা পানিতে ডুবে গেছে। ঝোড়ো বাতাসে উপচে পড়েছে গাছপালা।
ঝড়ে বুধবার রাত থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর এখনো বিদ্যুৎ ব্যবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। রাত ও দিনের অধিকাংশ সময় ভোগান্তিতে কাটাতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ফলে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্কও প্রায়শই বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়ার কারণে শহরের রাস্তা-ঘাটে লোকজনের চলাচল ছিল কম। বৃষ্টিতে অনেক এলাকার রাস্তা-ঘাটে পানি জমে যায়।

বিষখালী নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ছোট ঝোপখালী, কেওয়াবুনিয়া, উত্তর বেতাগী, বাসন্ডা, ছোট মোকামিযা, বদনীখালী, গ্রামার্দ্দন, আলীয়াবাদ, কালিকাবাড়ি সহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। বাড়িঘরে পানি ঢোকায় এসব এলাকার বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছে। বেড়িবাঁধের বাহিরে কাঁচা বসত ঘর, আবাসন জোয়ারের পানির চাপ আর বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়। বসতঘর-রান্নাঘর তলিয়ে যাওয়ায় রান্না বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ পরিবারে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ উপজেলায় ৮ হাজার ৭ ‘শ হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ করা হয়। এরমধ্যে এবারের দুর্যোগে ১ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে। আবাদকৃত ১ হাজার ১২০ হেক্টরে আমনের বীজতলার মধ্যে ৬৭২ হেক্টর আক্রান্ত এবং ২৫০ হেক্টর শাক-সবজির মধ্যে ক্ষতির পরিমান ২০০ হেক্টর।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেওড়াবুনিয়া গ্রামের কৃষক মো: সিদ্দিকুর রহমান ও মো: নফিছুর রহমান সহ একাধিক কৃষক জানান, তাদের গ্রামের বেশিরভাগ জমির সবজি সম্পূর্ণ ভাবে ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্য, লাউ, শসা, চিংচিগা এবং চাল কুমাড় বেশী ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি আফিসার মো: ইকবাল হোসেন জানান, কৃষিতে এখনো অপূরণীয় ক্ষতিমুখে পরতে হয়নি।তবে আরও দুই-একদিন এভাবে বৃষ্টিপাত আব্যাহত থাকলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পরতে হবে আমন বীজতলা, সবজি এবং পানের বরজের কৃষকদের। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে আরও ২/৩ সময় লাগবে।

এদিকে উপজেলা মৎস্য অফিস জানায়, বিষখালী নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি ও ভারী বর্ষনে ৯৬৭টি ছোট-বড় পুকুর,৮টি মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা মৎস্য অফিফসার মো: কামাল হোসেন জানান, ভারী বর্ষণে মৎস্য ক্ষেত্রে এ উপজেলায় প্রাথমিকভাবে আনুমানিক সাড়ে ৪০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের নিকট প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •