বেতাগী লঞ্চ ঘাটে ঢাকামুখী কর্মজীবী মানুষের ভীড়, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

2

মোঃ খায়রুল ইসলাম মুন্না
বেতাগী বরগুনা প্রতিনিধি:

বরগুনায় করোনার সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে চলমান কঠোর লকডাউনের মধ্যে ১ আগস্ট থেকে রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা খুলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের পর উপক’লীয় বরগুনার বেতাগী লঞ্চ ঘাটে ঢাকামুখী কর্মজীবী মানুষের ঢল নামে। ভীড়ের কারেনে ঘাটে ঘাটে উপেক্ষিত হয় স্বাস্থ্যবিধি।

রবিবার ভোর থেকে লঞ্চ চলাচালকারী বরগুনা-বেতাগী- ঢাকা এ রুটের প্রতিটি ঘাটে মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা মেলে। গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থেকে মানুষ লঞ্চের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। যে যেভাবে পারছেন ঘাটের সিড়ি পার হয়ে লঞ্চে উঠার জন্য পল্টুনে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ঈদের ছুটিতে যারা গ্রামে এসেছিলেন, তারা আগে ফিরতে না পারায় এই চিত্র এখন এখানকার ঘাটে ঘাটে।

জানা গেছে, শুধূমাত্র রবিবার (১ আগষ্ট) স্পেশাল ট্রিপে বরগুনা নদীবন্দর থেকে সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে রাজারহাট- বি, পূবালী-১ এবং আভিযান-১০ নামের তিনটি জাহাজ। বরগুনা থেকে ছেড়ে সকল ঘাট সমূহ ধরে বেতাগী পৌছেন দুপুর ১২ টা থেকে ২ টার মধ্যে। এর পর পরই যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। শুধুমাত্র একদিনের জন্যই এই স্পেশাল সেবা দেওয়া হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুক’লে থাকলে এসব লঞ্চ ঢাকায় পৌছতে সময় লাগবে রাত ৮ টা থেকে রাত ১০ টা।

লঞ্চ ঘাটের ন্যায় শহরের দুইটি খেয়া ঘাটেও মানুষের ভিড় দেখা গেছে। করোনা মহামারির কারণে এত দিন লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকার পর এক দিনের জন্য লঞ্চ চালু হওয়ায় নৌ-যাত্রীরা বিষখালী নদী পাড় হয়ে বেতাগীতে পৌছায় যাত্রীদের চাপ বেড়েছে খেয়া ঘাটেও। সেখানেও স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই চলাচল করেন শত শত যাত্রীরা।

কোরবানি ঈদের আগের লকডাউনের বিধিনিষেধের মধ্যে জরুরি ছাড়া সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও শিল্প কারখানা চালু ছিল। সংক্রমণ না কমায় ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর লকডাউনে শিল্প কারখানা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের অফিস আদালতও বন্ধ রাখা হয়, যা চলবে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত।

এসব শিল্প কারখানা সরকারের খোলার সিদ্ধান্তের পর ঈদে বাড়ি যাওয়া তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা ঢাকামুখী হতে শুরু করেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ঢাকায় ফেরার উদ্দেশ্যে শত শত মানুষ লঞ্চ ঘাটে জড়ো হয়ে রয়েছে। সড়ক-মহাসড়কে গণপরিবহন না চলায় ভোগান্তি পোহাতে হয় এসব যাত্রীদের। বিকল্প উপায়ে মাহেন্দ্র, আটো, মোটরসাইকেল এবং কেউ কেউ প্রাইভেটকার এ ধরনের বিভিন্ন যানে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে তারা যে যেভাবে পারছেন গ্রাম থেকে বেতাগী শহরে পৌছেন। বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চ কাকচিড়া, বামনা, কাঠালিয়া, মোকামিয়া, বদনীখালি প্রতিটি ঘাটেই যাত্রীর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

উপজেলার বিবিচিনি থেকে আসা আব্দুল আউয়াল সকাল ১০ টা থেকে লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছেন কিন্ত বেলা পৌনে বারাটা তখনো বেতাগী ঘাটে লঞ্চ এসে পৌছেনি। তিনি বলেন, এখন থেকে কারখানা খোলা। তাই যত তাড়াতাড়ি পারি, ঢাকার বাসায় যেতেই হবে। তাই জীবনের ঝূঁকির পাশাপাশি চরম ভোগান্তির মধ্যে আজকেই গন্তব্যে যাচ্ছি। তার মতো আরও কর্মজীবী মানুষ সকাল থেকে ভিড় করেছেন বেতাগী লঞ্চ ঘাটে।

অভিযান- ১০ লঞ্চের সুপারভাইজার মো: সোহেল হাওলাদার জানান, কারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণায় সকাল থেকে ঢাকায় ফেরা মানুষের ঢল পড়েছে। ঘাট ইজারাদারের প্রতিনিধি মো: কামরুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই ঘাটে প্রচুর মানুষের সমাঘম লক্ষ্য করা যায়। যে, যেখান থেকে পারছে আসছে, তাতেই প্রচন্ড আকারে যাত্রীর চাপ বেড়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •