পাথরঘাটায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় আহত ৩

20

আশরাফুল ইসলাম সাকিল  পাথরঘাটা বরগুনা প্রতিনিধি: 

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাড়িটানা ছালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হয়েছে তিন কিশোর। মঙ্গলবার রাতে আহত কিশোরদের অভিভাবকরা পাথরঘাটা থানায় গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানায়।

হামলার শিকার তিন কিশোর হলেন-হাড়িটানা গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে মো. রাকিব (১৫), মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে জাকারিয়া (১৫) ও লাল মিয়া খানের ছেলে ইমরান (১৭)। তারা সবাই পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।  

পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল বাশার জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পাথরঘাটা-পদ্মা সড়কের আলমের দোকানের পূর্ব পাশে তিন কিশোরকে পিটিয়ে আহত করা হয়। হাড়িটানা সালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে স্থানীয় কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্য রাব্বি প্রেমের প্রস্তাব দেয়। রাব্বির প্রেমের প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় ওই ছাত্রীকে রাব্বি পথেঘাটে উত্ত্যক্ত করত।

সোমবার ওই ছাত্রী উত্ত্যক্তের শিকার হলে তার সহপাঠী রাকিব এর প্রতিবাদ করে। প্রতিবাদের জেরে ওই কিশোর গ্যাং পরিচালিত মেসেঞ্জার গ্রুপে রাকিবকে মারধরের পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার রাব্বি, রাহাতসহ ৬-৭ জন বখাটে কিশোররা হাড়িটানা আলমের দোকানের পূর্ব পাশে রাকিবের ওপর লোহার পাইপ, মোটরসাইকেলের হাইড্রোলিক পাইপ এবং হকিস্টিক নিয়ে হামলা চালায়। এসময় রাকিবকে রক্ষা করতে বন্ধু জাকারিয়া ও ইমরান এগিয়ে এলে তাদেরও পিটিয়ে জখম করে কিশোর গ‍্যাং সদস‍্যরা। এই হামলায় তিন কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে। 

হাড়িটানা গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এরআগেও অনেক মেয়েকে উত্ত্যক্ত করেছে। বখাটে হওয়া এই উশৃঙ্খল ছেলেরা তারা বাড়ির সামনে রাস্তার পাশেবসে প্রতিনিয়ত মাদক সেবন করত। প্রতিবাদ করলে গালিগালাজ করতো এমনকি মারধরের হুমকি দিত।

আহত রাকিব, ইমরান ও জাকারিয়া জানান, বিভিন্ন সময় ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করত রাব্বিসহ তার সহযোগীরা। প্রতিবাদ করাতেই আমরা হামলার শিকার। আমরা তাদের ভয়ে এখন পর্যন্ত উন্নত চিকিৎসা নিতে যাওয়ার সাহস পাইনি।    

পাথরঘাটা সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ তোফায়েল হোসেন সরকার বলেন, আমি মেসেঞ্জার গ্রুপের পরিকল্পনা দেখেছি। আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি। আমরা ওই কিশোরদের অভিভাবকদের থানায় ডেকেছি। বুধবার সকালে অভিভাবকদের সবাইকে নিয়ে থানায় বসব। অপরাধীরা কেউ ছাড় পাবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •