
কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি।।একেতো পবিত্র ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটি, তার ওপর শুক্র এবং শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ঈদের পরের দিন থেকেই পর্যটক বাড়লেও বৃহস্পতি এবং শুক্রবার রেকর্ড সংকট পর্যটকের উপস্থিতি ঘটেছে এখানে। ঈদের পঞ্চম দিনে কুয়াকাটায় সমাগম ঘটেছে লাখো পর্যটকের। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, এবছরের মধ্যে আজই সবেচেয়ে বেশি পর্যটকের আগমন ঘটেছে এখানে।
শুক্রবার সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পর্যটকদের ভীড়ে টইটুম্বুর হয়ে আছে সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে কুয়াকাটার দর্শনীয় স্পটগুলো। কেউ এসেছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ এসেছেন প্রিয়জনকে নিয়ে, কেউবা আবার এসেছেন বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে।আগত পর্যটকরা হইহুল্লোরে মেতেছেন। অনেকে সমুদ্রের নোনা জলে সাতার কেটে, অনেকে সমুদ্রের বালিয়াড়িতে ফুলবল নিয়ে খেলা করছেন, অনেকে আবার মেতেছেন জলকেলিতে। শিশু পর্যটকরা মেতেছেন বালু খেলায়। এছাড়া অনেকে স্পিড বোড, ওয়াটারবাইক, ঘোড়া এবং মোটরসাইকেলে ঘুরে দেখছেন সৈকতের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত। অনেকে ছবি কিংবা সেলফি তুলে রেখে দিচ্ছেন স্মৃতির পাতায়। কেউবা আবার সৈকতের বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করছেন সমুদ্রের উতাল পাতাল ঢেউ সহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। অনেকে আবার প্রিয়জনের হাতে হাত রেখে ঘুরে দেখছেন পুরো সৈকত। মোটকথা আগত পর্যটকদের মাঝে বইছে ঈদ উৎসবের আমেজ।
এদিকে রাখাইন মার্কেট, শুটকি মার্কেট, সীমা বৌদ্ধ বিহার, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, লার কাঁকড়ার চর, গঙ্গামতি, ঝাউ বাগান, শুটকি পল্লী, লেম্বুর বন ও তিন নদীর মোহনা সহ সকল পর্যটন স্পটে রয়েছে পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতি। বেচা বিক্রি বেড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। বুকিং রয়েছে কুয়াকাটার আড়াই শতাধিক হোটেল মোটেল। পর্যটকদের নিরাপত্তায় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে টুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা।
উত্তরা থেকে আসা পর্যটক দম্পতি থেকে আসা পর্যটক দম্পতি ফারজানা-মিঠু জানান, ঈদের ছুটিতে অবকাশ যাপনে গতকাল এখানে এসেছি। এত মানুষ এক স্থানে একসঙ্গে উপস্থিত হওয়ায় অনেক আনন্দ হচ্ছে। সৈকতের ঢেউ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিমোহিত করেছে। খুলনা থেকে আসা অপর পর্যটক শিমুল মিয়া জানান, বন্ধুরা মিলে কুয়াকাটায় এসেছি। বেঞ্চিতে বসে কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সৈকতের তীরে আছড়ে পড়া ছোট বড় ঢেউ উপভোগ এক অন্যরম অনুভুতি। কিছুক্ষন পরে জোয়ার আসলে আমরা সবাই মিলে সাতার কাটবো।
তিনি আরো জানান, এখানে খাবার মূল্য এবং হোটেল ভাড়া একটু বেশি মনে হচ্ছে।
সৈকত লাগোয়া ভ্যারাইটিজ স্টোর আচার ব্যবসায়ী খলিল হোসেন বলেন, দীর্ঘ একমাস বসে বসে খেয়েছি। ঈদের পরের দিন থেকে এ পর্যন্ত অনেক পর্যটক এসেছে। আশা করছি পিছনের ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে নিতে পারব।
ট্যুর অপারেটরস এ্যাসোশিয়েসন অব কুয়াকাটা’র সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, আমাদের ধারনা, দর্শনার্থী এবং পর্যটক মিলিয়ে আজ কুয়াকাটায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটেছে।হোটেলের রুম না পেয়ে অনেক পর্যটক বাসা বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন।তিনি আরো বলেন, পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সর্বোচ্চ কাজ করে যাচ্ছে।
কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল আহসান বলেন, পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে
কুয়াকাটার ১০ টি পর্যটন স্পটে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ট্যুরিষ্ট পুলিশ, নৌপুলিশ, থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মাঠে রয়েছে। তিনি আরো জানান,অপৃতিকর ঘটনা এড়াতে সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরাও তৎপর রয়েছে।
বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, যেহেতু ছুটি শেষ হয়ে যাচ্ছ। তাই শেষ সময়ে ব্যাপক পর্যটকের আগমন ঘটেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।