ঢাকা, শনিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
পাঁচবিবিতে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
টিআরসি নিয়োগে দালালমুক্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আশ্বাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের
উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে রোগীদের দূর্ভোগ
চিলমারীতে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমির স্নান সম্পন্ন
বিএনপি নেতার ওপর বোমা হামলার প্রতিবাদে কয়রায় বিক্ষোভ মিছিল
লঞ্চে মুমূর্ষ নবজাতককে মেডিকেল সহায়তা প্রদান করল কোস্ট গার্ড
আমতলীতে লঞ্চ ঘাট ও বাসস্ট্যান্ডে যৌথবাহিনীর অভিযান, জরিমানা আদায়
কালীগঞ্জে আমিনুর রহমান আমিনের গণসংযোগ শুভেচ্ছা বিনিময়
আমতলীতে হামলা, লুট ও পিটিয়ে দোকান দখলের অভিযোগ
দেওয়ানগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ বাবা মৃত্যু
নড়াইল জেলা ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীদের ঈদ পুনর্মিলনী
জামায়াতে ইসলামীতে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসের কোনো সুযোগ নেই:রফিকুল ইসলাম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ করতে হবে
ভূরুঙ্গামারীতে মুভমেন্ট ফর পাঙ্কচুয়ালিটি’র সম্মেলনের উদ্বোধন
বিরামপুরে আগ্নিকান্ডে সনাতন পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই

সচিব নাজমুল আহসান: ‘বিতর্কিত নির্বাচন’, খুন-গুমে অংশ নেওয়ার অভিযোগ, তদন্তে গোয়েন্দা সংস্থা

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসানের বিরুদ্ধে ‘বিতর্কিত নির্বাচন’, খুন, গুমে অংশ নেওয়াসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, নাজমুল সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক থাকাকালে এসব কর্মকাণ্ড চালায়। ভুক্তভোগীদের বরাতে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, তার সময়ে সাতক্ষীরায় সবচেয়ে বেশি হত্যা, গুম ও গ্রেফতারের শিকার হন বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীরা।

সম্প্রতি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে থাকা এই কর্মকর্তার বিষয়ে তদন্তে নেমেছে গোয়েন্দা সংস্থা।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে,নাজমুল আহসান জেলা প্রশাসক থাকাকালে ২০১৩-২০১৪ সালে সাতক্ষীরায় পুলিশের গুলিতে অর্ধশতাধিক জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্বে ছিলেন। তার যোগ্য সঙ্গী ছিলেন তৎকালীন পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ সুপার চৌধুরি মঞ্জুরুল কবির বাংলাদেশ থেকে পালান। তবে বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন নাজমুল আহসান।

২০১৩ সালে ২৫ ডিসেম্বর সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগ দেন নাজমুল আহসান। ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে ছিলেন।

নাজমুল আহসান বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা। তিনি বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) ছিলেন। ১১ ডিসেম্বর ২০২২ সাল থেকে তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৩তম ব্যাচে ২৫ এপ্রিল, ১৯৯৪ তারিখে যোগ দেন।

২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি শেখ হাসিনা সাতক্ষীরায় যৌথবাহিনীর ‘বিশেষ অভিযানের’ ঘোষণা দেন। সাতক্ষীরা সার্কিট হাউসে এক ঝটিকা সফরে এসে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের এই বলে আশ্বস্ত করতে চাই, সাতক্ষীরায় সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ থাকবে না। সেজন্য যা যা করণীয় তা করা হবে। যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের কারণে দেশে যে সহিংসতা, মানুষ হত্যা, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চলছে, তা কোনো অবস্থায় মেনে নেওয়া হবে না। বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা বাংলাদেশের যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের খুঁজে খুঁজে আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে।’

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তৎকালীন ডিসি নাজমুল আহসান। তার সময়ে শুধু সাতক্ষীরা জেলাতেই রাজনৈতিক সহিংসতায় ৪৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে যৌথবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন ২৭ জন। এদের সবাই স্থানীয় বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী।

এ ছাড়া আরো ২৫ জন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন কয়েক শতাধিক ব্যক্তি। তার নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর বিচারবহির্ভূত এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাতক্ষীরার নাগরিকদের মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করে। রাত শুরু হলেই আতঙ্কে বিভিন্ন স্থানে চলে যেত নারীরাও। প্রতি রাতেই ঘটছে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটত। অগ্নিসংযোগ ও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হতো বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাড়ি-ঘর।

জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান যাদের সহযোগিতা নিয়ে এসব কাণ্ড চালাতেন তার মধ্যে তৎকালীন পুলিশ সুপার চৌধুরি মঞ্জুরুল কবির, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মহসীন আলী, জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর মোদদছ্ছের আলী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মশিউর রহমান মশু, প্রেস ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি ও জেলা আ.লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবু আহমেদ।

এ বিষয়ে জানতে নাজমুল আহসানকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি, এসএমএস পাঠানো হলেও তিনি ফিরতি উত্তর দেননি।

এখনো ফ্যাসিবাদের নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড: খোঁজ নিয়ে এবং কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতনের পর এখনো বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-বাপাউবোতে এদের দোসরদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন)-এর বদলি ছাড়া গত ৬ মাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের মহাপরিচালক কিছু পদে পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েও, সেটা না করে তিনি পিআরএল-এ গেছেন বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুর রহমান নিশ্চিত করেন।

এ ছাড়া, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে শেখ হাসিনা সরকারের নিয়োগ করা সচিবদের বরখাস্ত করা হলেও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান বহাল তবিয়তে আছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে আনসারদের ‘খেপিয়ে’ তোলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এমনকি, বাপাউবোর ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদের’নেতারাও বহাল তবিয়তে কাজ করে যাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান বাপাউবোর ৩ জন প্রকৌশলী এবং একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক সরাসরি বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা। অন্যদিকে, ঢাকা পানি উন্নয়ন সার্কেল-১ ও ২ এ দুজন বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা এখনো কর্মরত। বাপাউবোর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ সভাপতি এবং ভূমি পরিদপ্তরের পরিচালক বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও জানান তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম।
ঢাকা পানি উন্নয়ন সার্কেল-১ এর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দেওয়ান আইনুল হক বুয়েটে পড়ার সময় বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশে ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার সহ সভাপতি ছিলেন। তিনি সর্বশেষ ইউকসু নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ব্যানারে নির্বাচন করে পরাজিত হন বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী রাফিউস সাজ্জাদ।

শেয়ার করুনঃ