ঢাকা, শনিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
কুয়াকাটা সৈকত দখল করে ঝুকিপূর্ণ মার্কেট নির্মানের অভিযোগ
কুড়িগ্রামে ২৪ পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে কেমন কুড়িগ্রাম দেখতে চাই শীর্ষক মতবিনিময় সভা
বোদায় ট্রাক-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু
সরাইলে অভিযানে ৩ হত্যা মামলার আসামীসহ গ্রেফতার ৯
বাগমারায় চুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু:ঘাতকে পিটিয়ে হত্যা করলো উত্তেজিত জনতা
নড়াইলে বিএনপি নেতা সান্টুর উপর ককটেল হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ
লাখো পর্যটকের সমাগম কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে। শতভাগ হোটেল মোটেল বুকিং
আমতলীতে কুপিয়ে স্ত্রীর হাত কর্তন করলেন নেশাগ্রস্থ স্বামী
হোমনায় যুবকের ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার
এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল শিক্ষা বোর্ড
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে মোদির সঙ্গে কথা বললেন ড. ইউনূস
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
ঈদ পরবর্তী বিআরটিএর বিশেষ অভিযান: ৬ লাখ ৮৭ হাজার জরিমানা,২৮৯ মামলা
রায়পুরে আ’লীগ বিএনপির যৌথ হামলায় নারীসহ আহত ৫
পাঁচবিবিতে শিক্ষার্থী সমিতির স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন

ডিজিটাল ওয়ালেটে দেখেন ৬৪ লাখ,কিন্তু তুলতে পারেননি এক টাকাও

অ্যাপসের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাড়ে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ১৫০টি সিম কার্ড,১টি হার্ডডিস্ক, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন এক ভুক্তভোগী।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন,পাপ্পু কুমার সেন (২৮) ও মো.কাওসার (২৭)।

ভুক্তভোগীর এজাহার থেকে জানা যায়,তিনি নিজ ফেসবুক আইডি ব্যবহারকালে আন্তর্জাতিক স্টক মার্কেটের একটি বিজ্ঞাপন দেখতে পেয়ে সেই লিংকে প্রবেশ করেন। এরপর অজ্ঞাত একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কিছু মেসেজ পাঠায় এবং টাস্ক দেয়। পরে হোয়াটসএ্যাপে একটি অ্যাকাউন্ট খোলার নির্দেশনা আসে।

ভুক্তভোগী নির্দেশমতো তাদের অ্যাপসের লিংকে প্রবেশ করে তার নাম,এনআইডি,মোবাইল নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে। ওই অ্যাপসে তার একটি ডিজিটাল ওয়ালেট তৈরি হয়। আসামিরা বাদীকে তাদের দুটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এ যুক্ত করে নেয়। ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বাদীর পরিচিত অনেকেই যুক্ত ছিল এবং সেখানে ট্রেডিং বিষয়ে কথাবার্তা হতো। গ্রুপগুলোতে বিভিন্ন নাম ও মোবাইল নম্বর দেখা যায়। আসামিদের কথায় বিশ্বাস করে ভিকটিম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সর্বমোট ১৩ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮৬ টাকা বিনিয়োগ করে।

সিআইডি জানায়,ওই অ্যাপসে আসামিদের কথামতো ট্রেড করার পর ডিজিটাল ওয়ালেটে তার টাকা বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে লাভসহ প্রায় ৬৪ লাখ ৫ হাজার ২৮৭ টাকা প্রদর্শিত হয়। আসামিরা ভিকটিমের নিজ নামের সিটি ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখায় ৫ হাজার টাকা ডিপোজিট করে। পরে আসামিদের কাছে তার বিনিয়োগের টাকা ফেরত চাইলে তারা টাকা না দিয়ে আরও টাকা বিনিয়োগ করতে বলে। একপর্যায়ে তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন।

সিআইডির সূত্রে জানা যায়,আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন জায়গা থেকে কোনো রকম ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং এনআইডি কার্ড ছাড়া বেশি টাকা দিয়ে অবৈধভাবে মোবাইল সিমকার্ড সংগ্রহ করে।

এই সিমকার্ডগুলো তারা বিভিন্ন টেলিগ্রাম,হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপসহ অন্যান্য মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছে শুধুমাত্র মোবাইল নম্বরগুলো উচ্চমূল্যে বিক্রি করে থাকেন। দেশি-বিদেশি ব্যক্তিরা অবৈধ মোবাইল নম্বর দিয়ে টেলিগ্রাম,হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে বিভিন্ন ব্যক্তিদের যুক্ত করে এবং তাদের অধিক মুনাফা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বিনিয়োগ করার জন্য অফার দিতে থাকে। অনেকে অধিক মুনাফা লাভের আশায় তাদের দেওয়া ফাঁদে পড়ে এবং তাদের তৈরি অ্যাপসে নিজেদের নাম,মোবাইল নম্বর,এনআইডি কার্ডের তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে। পরে ভুক্তভোগীদের কোনো মুনাফা না দিয়ে কৌশলে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিয়ে অবৈধভাবে দেশের বাইরে পাচার করে।

ডিআই/এসকে

শেয়ার করুনঃ