
মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদ,ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
চিকি সা সেবা শ্বশ্রায় সুস্থ করে মোহাম্মদ মিস্টার (২৬) নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন মাদকাসক্ত যুবককে ঘোড়াঘাট থানার ওসি নাজমুল হকের মাধ্যমে বাবা মার কাছে ফিরিয়ে দিলো দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের মাদক,চুরি রোধ বিরোধী নামের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন। মোহাম্মদ মিস্টার এক মাসের অধিক সময় পড়ে ছিলেন ঘোড়াঘাট পৌর শহরের অলিতে-গলিতে। কেউ খোঁজ নেয়নি তাঁর। অসহায় এই যুবককে ঠাঁই দিয়ে চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে
পৌর শহরের ১নং ওর্য়াডের মাদক,চুরি রোধ বিরোধী নামের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন।রোববার মোহাম্মদ মিস্টারকে তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহী গোকুল গ্রামে বাবা সামছুল আলমের কাছে পৌছে দেওয়া হয়।২৬ বছরের মোহাম্মদ মিস্টার। জন্ম স্থান রাজশাহীর তানর উপজেলার গোকুল গ্রাম। কাজের সন্ধানে ঢাকার কোনা বাড়িতে যেয়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত মাদক সেবনের ফলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে মিস্টার। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে মাঝে মাঝে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতেন। আনুমানিক দুই মাস আগে গ্রামের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়সে। দেড় মাস ধরে পৌর শহরের অলিতে-গলিতে পড়ে থাকে সে। মাদক,চুরি রোধ বিরোধী সেচ্ছাসেবী সংগঠনটির নজরে আসে। পরে ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনর্চাজ কে খবর দেন তাঁরা। সে সময় ওসি নাজমুল হকের সহযোগিতায় চিকিৎসা সেবা থেকে শুরুকরে র্সাবিক দেখাশোনার দায়িত্ব নেয় সংগঠনটি।সংগঠনটির একজন সেচ্ছাসেবী জানান, এমন একটা পরিস্থিতি ছিলো গন্ধে তার কাছে কেউ যায়না। আমাদের আত্মীয় হলে তো আমরা ফেলে দিতে পারতাম
না। সেই মানবিকতা থেকে আমরা তার দায়িত্ব নিয়েছি। আমাদের বন্ধুদের মধ্যে একজনের বাসায় এনে গোসল করিয়েছি। নতুন কাপড় পড়িয়ে নিজেদের বাড়িতে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করিয়েছি।
টানা এক মাসের ◌্অক্লান্ত পরিশ্রম আর নিরলস চিকিৎসা সেবা ফলে সুস্থ হয়ে উঠে মিস্টার। সুস্থ হয়ে মিস্টার প্রথমে তাঁর বাড়ির ঠিকানা জানায়। ঘোড়াঘাট থানার ওসি নাজমুল হক সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে তাঁর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন। রোববার (১৯ জানুয়ারী) আমরা তাঁকে তাঁর পরিবারের কাছে ফেরত দিয়ে আসেন। মিষ্টারের বাবা সামছুল আলম জানান, কয়েক বছর আগে ঢাকার কোনা বাড়িতে কাজের সন্ধানে যেয়ে আমার সন্তান মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে এবং আস্তে আস্তে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। মাঝে মাঝে সে বাড়ি থেকে চলে যেত আবার ফিরেও আসতো। অনেক চিকি সা করিয়েছি। এবার বাড়ি থেকে নিখোঁজ
হবার পর আর তার খোঁজ মিলছিলো না। এভাবে সুস্থ অবস্থায় সন্তানকে ফিরে পাবো আশা করিনি।এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ওসি নাজমুল হক জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন একটি ছেলে জরার্জীণ অবস্থায় পড়ে আছে, এমন খবর আমাকে জানানো হলে, সাথে’মাদক,চুরি রোধ বিরোধী নামের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহায়তায় ওই ছেলে উদ্ধার করা হয়। চিকি সা সেবার মাধ্যমে সুস্থ করা হয় এবং তাঁকে তার পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, একমাস ধরে তাঁর র্সাবিক খোঁজ খবর নিয়েছি। মানসিক ভারসাম্য হারানো একটি ছেলেকে সুস্থ করে তাঁকে তাঁর পরিবারের কাছে দিতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।