
প্রতিবছর শরতকাল এলেই একদল মানুষ পলো, ঝাঁকি জাল ও ছিপ জাল নিয়ে মাছ শিকার করতে নেমে পড়েন উপজেলার ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে বয়ে আসা খরস্রোতা ভোগাই নদীতে। গ্রামের শতশত মানুষ দলবেঁধে এভাবে একযোগে মাছ শিকার করাকে বলা হয় বাউত উৎসব।
আজ সকালে এমনই মাছ শিকার তথা বাউত উৎসবে মেতে উঠেছিলেন নালিতাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সৌখিন মৎস শিকারীরা। তারা উপজেলার হাতিপাগার, নয়াবিল, রাজনগর, বরডুবি, সন্ন্যাসীভিটা, কলসপাড় ও চেল্লাখালী এলাকা থেকে কমপক্ষে ৫০টি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা নিয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ জনের একদল সৌখিন মাছ শিকারী বাউত উৎসবে অংশ গ্রহন করেন। এসময় তারা উপজেলার নাকুগাঁও স্থলবন্দর সংলগ্ন ভোগাই নদীর ব্রিজের নিচ থেকে একযোগে পলো, ঝাঁকি জাল, ছিপ জাল ও অন্যান্য মাছ ধরার উপকরণ নিয়ে মাছ শিকার শুরু করেন। এভাবে তারা প্রায় দেড় কিলোমিটার ভাটির দিকে নয়াবিল পর্যন্ত যান। তবে শিকারীরা উল্লেখযোগ্য বড় মাছ শিকার করতে না পারলেও ছোট ও মাঝারি সাইজের মাছ শিকার করেন।
উপজেলার হাতিপাগার গ্রামের খোকন মিয়া (৩০), মনির (২৮) ও হাবিবুর রহমান (২৯) বলেন, বাউত উৎসবে আগত মৎস শিকারীদের সাথে আমরাও অংশ গ্রহন করেছিলাম। তবে তেমন বড় মাছ ধরতে পারিনি। বড় মাছ ধরতে না পারলেও সবাই শখ করে একযোগে মাছ ধরার বাউত উৎসবে অংশ গ্রহন করেছি। এখানেই আমাদের অনেক আনন্দ লাগছে। আমরা সকলেই উৎসব মেতে অনেক খুশি হয়েছি।
তারা আরো জানান, ভোগাই নদীতে সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলের বন্যা ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। নদী অনেক গহীন হয়েছে। তাছাড়া পানিও তেমন কমেনি। যে কারনে আজকে কেউ বড় মাছ শিকার করতে পারেননি। এ মাসের মাঝামাঝি ও শেষের দিকে আরো কয়েক দফা বাউত উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। আশা করা হচ্ছে সে সময় বড় বড় মাছ ধরা পড়বে।