ঢাকা, রবিবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে নোয়াখালী কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি
শাহবাগে ফুলের দোকানে আগুন: ঝুলন্ত বৈদ্যুতিক সংযোগ ও হাইড্রোজেন সিলিন্ডার ছিল বিপদের কারণ
সরকারি সফরে রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়া গেলেন সেনাপ্রধান
বাঞ্ছারামপুরে বিএনপির ১১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
পঞ্চগড়ের বোদায় গুম, খুন, ছিনতাই, ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল
ফুলবাড়ী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যদের নিয়ে ঈদ পূর্ণমিলনী
চাঁদাবাজির অভিযোগে কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে শোকজ
রাজধানীর’ খেতাপুড়ি ‘দখল করেছে পটুয়াখালীর ঝাউবন
ঝিকরগাছায় কিশোরকে বস্তা কিনতে পাঠিয়ে ভ্যান নিয়ে চম্পট
১৭ বৎসর আন্দোলন সংগ্রাম করেছি ,দরকার হলে আবারো নামা হবে: আজিজুল বারী হেলাল
পাঁচবিবিতে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
টিআরসি নিয়োগে দালালমুক্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আশ্বাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের
উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে রোগীদের দূর্ভোগ
চিলমারীতে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমির স্নান সম্পন্ন
বিএনপি নেতার ওপর বোমা হামলার প্রতিবাদে কয়রায় বিক্ষোভ মিছিল

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেল তাহিরপুরের শিশু শিল্পী ফারজিনা আক্তার

হাওরের রাজধানীখ্যাত তাহিরপুর উপজেলার উত্তর  শ্রীপুর ইউনিয়নে টাঙ্গুয়ার হাওরের পারে ছিলানী তাহিরপুর নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করা  শিশু শিল্পী ফারজিনা আক্তার । মোহাম্মদ কাইউম পরিচালিত সরকারী অনুদানপ্রাপ্ত কুড়া পক্ষির শূন্যে উড়া ছবিতে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২২ পেয়েছেন।
১৩ নভেম্বর মঙ্গলবার  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট হতে পুরস্কার গ্রহন করেন।
জানা যায় তাহিরপুর উপজেলার, উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন ছিলানী তাহিরপুরের দরীদ্র কৃষক আবু সায়েম ও মা সাদামাটা গৃহিণী আফিয়ার  ছোট্ট মেয়ে শিশু ফারজিনা আক্তার।অভিনয়কালে তার বয়স ছিল চার বছর,সে জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেনীর ছাত্রী  ছিল, ফারজিনা সফলতার সাথে   “কুড়া পক্ষির শূন্যে উড়া” সিনেমায় অভিনয় করে  জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত হন।তার এই পুরস্কার প্রাপ্তিতে সুনমগন্জ তথা তাহিরপুর উপজেলার সকল মানুষের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে শুভেচ্ছায় বাসছেন ফারজিনা আক্তার।
ভাঠির কন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক  জাকিয়া সুলতানা মনি তার ফেইসবুকে লিখেন ভূমিহীন ও কৃষক  পরিবারের সন্তান ফারজিনা আক্তার  কোন রকমের  প্রাতিষ্ঠানিক অভিনয়  বা  প্রশিক্ষণ ছাড়াই সে শিশু শিল্পী হিসাবে মুহাম্মদ কাঈয়ুম পরিচালিত সরকারি অনুদান প্রাপ্ত ছবি কুড়া পক্ষির শূন্যে উড়া ছবিতে অনবদ্য অভিনয় করে  পুরস্কৃত হয়েছে।তিনি আরও লিখেছেন
অভাব- অনটন – দারিদ্র্য কোনটিই শিশুদের মেধা বিকাশের অন্তরায় হতে পারে না। ফারজিনা আক্তার তার মেধা দিয়ে  এটি প্রমাণ করেছে। শুভকামনা রইল ফারজিনা আক্তারের জন্য।তুমি আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাও এই দোয়া করি।
শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিপন  রেজা, তার ফেইসবুকে লিখেছেন চাকচিক্যের দুনিয়ার সঙ্গে ফারজিনার দুরত্বটা আলোকবর্ষের। ফারজিনার বাবা কৃষি কাজ করেন, মা গৃহীনি, অভাবের কারনে কিছুদিন আগে ভিটেমাটি বিক্রি করতে হয়েছে। মাত্র চার বছর বয়সেই নিজের প্রতিবার ঝলক দেখানো মেয়েটা এখন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে মাথা গুজার একটি ঠাই বানাতে চায়।মেধাবী ফারজিনার দরিদ্র বাবাকে সরকারীভাবে সহযোগীতা করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ফারজিনার বাবা আবু সায়েম বলেন কিছুদিন আগে আমাদের এলাকায় টাঙ্গুয়ার হাওরে ছবি বানাতে আসেন মোহাম্মদ কাইউম  সাহেব, আর শুটিংয়ের জন্য পরিচালক আমার বাড়িটি সিলেকশন করেন।  এবং আমাদের ছোট্ট মেয়ে ফারজিনাকে অভিনয় করার জন্য তারা পছন্দ করে। সে প্রথমে রাজি না হলেও পরে সে ভাল অভিনয় করে। তার অভিনয় দেখে সবাই পছন্দ করে।অভিনয়কালে তার বয়স ছিল চার বছর। সে জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেনীর ছাত্রী ছিল।আমাদের দুই মেয়ে এক ছেলে। আমাদের মেয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পুরস্কার পাবে শুনে আমরা হতভাগ হয়ে যাই। অভাবের কারনে ভিটেমাঠি বিক্রি করে অন্যের বাড়িতে বসবাস করি। ঢাকায়  পুরস্কার আনতে যাওয়ার সময় মেয়েকে একজোরা ভালো জুতা কিনে দিতে পারিনি, ফন্স জুতা পায়ে দিয়ে ঢাকায় নিয়ে যাই পুরস্কার আনতে। আমাদের মেয়েকে চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়ায় সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সরকার যদি আমাদের একটা মাথা গুজার  ব্যাবস্থা করে দিত তাহলে হয়তো ছেলে  মেয়েদের  নিয়ে সুন্দরভাবে চলাফেরা করতে পারতাম,
তাহিরপুর উপজেলার সুযোগ্য উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আসাদুজ্জামান রনি বলেন,তাহিরপুর থেকে শিশু শিল্পী হিসেবে  ফারজিনা আক্তার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে শুনে আমরা আনন্দিত হয়েছি, হাওর পারে অসংখ্য মেধাবী লুকায়িত আছে যাহা আমরা যানিনা। হয়তো ফারজিনার মতো বেড়িয়ে আসবে কোন একদিন, আমরা ফারজিনার  সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করি।যে কোন প্রয়োজনে তার পরিবারের লোকজন  আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা  সহযোগীতা করার চেষ্টা করবো।

শেয়ার করুনঃ