ঢাকা, সোমবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
আমতলীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা
মিরসরাইয়ে স্বপ্নের খৈয়াছড়া’র কার্যকরী পরিষদ গঠন, সভাপতি জাহেদ সম্পাদক নুর আহমেদ
কুষ্টিয়ায় শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ছবির শেখকে গণপিটুনি
দেহ ব্যবসায়ীদের আস্তানা গুড়িয়ে ও পুড়িয়ে দিলেন এলাকাবাসী
আত্রাইয়ের আকাশ থেকে পড়ল বিরল আকৃতি’র শীলা
ফেনী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অর্ধদিনব্যাপী সাড়াশি অভিযান
নওগাঁ-ঢাকা বাস কাউন্টারে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ টিমের অভিযান
নবীনগরের সাংবাদিক গোলাম মোস্তফার ইন্তেকাল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ১১ সদস্যের কমিটি গঠন
বোয়ালমারীতে গৃহবধূর আত্মহত্যা,নিহতের পরিবারের দাবি খুন
বিস্ফোরক আইনের মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ গ্রেফতার
রাজবাড়ীর সাবেক এমপি কেরামত কাজী গ্রেফতার
পল্লবী থানার বিশেষ অভিযানে ৩০ মামলার আসামিসহ ১২জন গ্রেফতার
গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদে পিআরপি’র সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক
ঘোড়াঘাটে আদিবাসী উন্নয়ন সংস্থার র্নিবাচনে সভাপতি লুইস :সম্পাদক মাইকেল

নবীনগরে ঋণের চাপে মা-মেয়ের আত্নহত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মা-মেয়ে ঋণের চাপে কেড়ির বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ৩০ শে জুলাই নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ও কাঠালিয়া গ্রামে। পুলিশ দুজনের লাশ উদ্ধার করে রাতেই নবীনগর থানায় নিয়ে আসেন।

জানাযায়, নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মজিবুর রহমানের স্ত্রী নূরতারা বেগম (৫৫) বিভিন্ন সমিতি থেকে ক্ষুদ্রঋণ তুলেছিলেন এবং তার মেয়ে কাঠালিয়া গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী সবুজ মিয়ার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (২৬)এর কাছ থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার এনেছিলেন,মেয়ের টাকা-স্বর্ণালংকার দিতে না পারা ও সমিতির কিস্তির চাপে পরে মা- মেয়ে পরামর্শ করে তারা দু’জন কেড়ির বড়ি খেয়ে আত্নহত্যা করবে। পরামর্শ মোতাবেক মঙ্গলবার দুপুরে নাতিনের হাত দিয়ে কাঠালিয়া গ্রামে মেয়ের কাছে কেড়ির বড়ি পাঠিয়ে দেয় নূরতারা বেগম। ওইদিনই দুপুরে প্রথমে মা কেড়ির বড়ি খেয়ে মেয়েকে ফোনে জানালে মেয়েও কেড়ির বড়ি খেয়ে ফেলে। পরিবারের লোকজন মুমূর্ষ অবস্থায় তাদেরকে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে এলে ডাক্তার মা- মেয়েকে ওয়াস করে কুমিল্লায় রেফার করেন। কুমিল্লা নেওয়ার পথিমধ্যে দুজনেই মারা যায়। সোনিয়া আক্তার অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং রয়েছে দুই মেয়ে ।সোনিয়া আক্তারের মেয়ে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জান্নাত বলেন, সকালে আম্মা আমাকে বলেছে, তোর নানি রাস্তায় আসবে, তোকে ১ হাজার টাকার দিতে এবং সাথে একটা ব্যাগ দিবে, কেউ যেন জানতে না পারে। আমি নানির কাছ থেকে টাকা ও ব্যাগ নিয়ে আসি,বাসায় যেতেই আম্মা আমার হাত থেকে ব্যাগ নিয়ে নেয়। আমার ছোট বোন কান্না শুরু করে মজা খাওয়ার জন্য, বোনকে সাথে দিয়ে আম্মা আমাকে দোকানে পাঠিয়ে দেয়। মজা কিনে বাসায় গিয়ে দেখি আম্মা দরজা বন্ধ করে আছে,আমি ডাকাডাকি করলেও দরজা না খোলায় আমি চিৎকার শুরু করি, তখন সবাই এসে দরজা ভাঙ্গে, তখন আম্মা বমি করতে ছিলো, পরে বাড়ির লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যায়। নূরতারা বেগমের ছেলের বউ লিজা বেগম জানান, তার শাশুড়ী দুপুরে বাহির থেকে ঘরে এসে শুয়ে পরে এবং বিদেশে দুই ছেলের সাথে ফোনে কথা বলার কিছুক্ষন পরে বমি করতে থাকে, পরে বাড়ির লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যায়। মজিবুর রহমান বলেন, সকালে আমি কৃষি কাজে চলে গিয়েছিলাম, কাজ থেকে বিকেলে বাড়িতে আসার পথে জানতে পারি, আমার স্ত্রী ও মেয়ে কেড়ির বড়ি খাইছে, এই খবর শুনে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সমিতি ও মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকার মতো ঋণ ছিলো আমাদের পরিবারের, আমার দুই ছেলে বিদেশ রয়েছে, তারা তো টাকা পাঠাচ্ছে, তারপরও কেন আমার মেয়ে ও স্ত্রীকে কেন মরতে হবে, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,গতকাল রাত ১০ টায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুনঃ